[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যে কারণে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী…


প্রকাশিত: February 8, 2015 , 10:23 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ


foreign studentsবায়েজীদ মিলন: দিন দিন কমছে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা। রাজনৈতিক সহিংসতা, উন্নত গবেষণার অভাব, আধুনিক পাঠ্যক্রম ও উন্নত আবাসন ব্যবস্থার অভাবে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারা।

এছাড়াও বিভিন্ন কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না পড়াশোনা। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাড়ছে সেশন জট। ফলে একদিকে অধিক সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে টাকাও খরচ হচ্ছে বেশি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের মত ঘটনা। এসব বিষয়ও বিদেশি শিক্ষার্থী কমার জন্য দায়ি। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সর্বশেষ জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

এবছর বিদেশি শিক্ষার্থী হ্রাস পাওয়ায় শিক্ষার গুণগত মানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন। অতীতে মালয়েশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে আসত। তবে বর্তমানের আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাই সে দেশগুলোতে পড়ালেখা করতে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে ৩২৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। অথচ ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এর সংখ্যা ছিল ৫১২ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর কমেছে ১৯৯ জন শিক্ষার্থী।

অপারদিকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও একই রকম। ইউজিসি’র ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষের তুলনায় ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে ৩০ জন।

এ বিষয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতি অস্থিরতা বিদেশি শিক্ষার্থীদের আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ। আর বর্তমান গ্রোবালাইজেশনের যুগে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের যে ঘটনা ঘটছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাতে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বিদেশিদের নেতিবাচক প্রভার পড়তেই পারে। তাছাড়া, অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, আমাদের দেশে সে রকম সুবিধা দেয়া হয় না।

তিনি বলেন, আমরা যখন আমেরিকাতে পড়াশোনা করতে গিয়েছি, তখন আমাদের জন্য আলাদা হল দেয়ার পাশাপাশি সে দেশে একটি হোস্ট ফ্যামিলী নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সেই ফ্যামিলী শিক্ষার্থীকে সার্বিক বিষয়ে সহযোগীতা করে। কিন্তু আমাদের দেশে এ রকম কোন সুবিধা দেয়া হয় না। আমাদের দেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. আবুল এহসান বলেন, মূলত রজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের দেশের সেশন জট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে ঘটনা ঘটছে তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেশের শিক্ষার মান কতটা নিচে নেমে গেছে তা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময় দেখা যায়। আমাদের দেশের শিক্ষা কারিকুলাম উন্নত কিন্তু প্রশ্নপত্র মূল্যায়নের মানদণ্ড কতটা সঠিক সেটা বিবেচনার বিষয়।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার পর সেটার আউটপুট বিবেচনা করে। যে টাকা দিয়ে তারা এখানে পড়াশোনা করবে, সেই টাকা দিয়ে যদি অন্য দেশে নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ করে আউটপুট ভালো পায় তারা তো সেদেশে যাবেই। এখানে সেশন জটে পড়ে বেশি টাকা খরচ করবে কেন? তবে সার্বিক ভাবে বলা যায়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই বিমুখতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মোটেই ভাল নয়।

ঢাকা// বিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর