[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রী নদীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ…


প্রকাশিত: February 8, 2015 , 10:31 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


ঢাবি লাইভ : নিশীতা ইকবাল নদী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। অভিযোগ উঠেছে, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে সাংবাদিক নির্যাতন, প্রতিপক্ষ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর, জোর করে মেয়েদের মিছিল মিটিংয়ে নিয়ে আসা, তার কর্মকাণ্ডে সমর্থন না দিলে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও মেরে হল থেকে বের দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় একাধিকবার বিভিন্ন মিড়িয়ায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে। তারপরও নদী ‘বেপরোয়া’। নিজ দলের এক নেতাকে মেরে হল থেকে বের করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, ভিসি আসলেও হলে তুলবেন না বলে হুঁশিয়ার করে দেন ছাত্রলীগের এই নেত্রী। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নদী।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় টিএসসিতে গাড়ী নিয়ে বেড়াতে আসা বহিরাগত দুইজনকে পিটিয়ে জখম করেন হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নদী। সূত্র জানায়, কথা কাটাকাটির মধ্য দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। একপর্যায় নদী ফোন দিয়ে বহিরাগত কয়েকজনকে ডেকে আনেন। তারা ওই দুইজনকে মেরে অজ্ঞাত স্থানে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে মটর বাইকে করে নদীও যায়। পরে রাত ২টায় তাকে হলে ফিরতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মানুযায়ী, ছাত্রী হলে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে প্রবেশ করতে হয়। এরপর হলে প্রবেশ করতে হলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ছাত্রনেত্রীরা এসব অনুমতির তোয়াক্কা করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। গেইটে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও তাদের বাধা দেন না।

এর আগে ২৫ জানুয়ারি ইয়াবা খেতে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রলীগের শামসুন্নাহার হলের দপ্তর সম্পাদক ও চারুকলা অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোনালীকে মেরে হল থেকে বের করে দেয় নদী। এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নেত্রী সোনালী নিজেই।

জানা যায়, সোনালী হলে নদীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ বিষয়ে সোনালী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দেন। অভিযোগপত্রে সোনালী বলেন, কিছুদিন থেকে নিশীতা ইকবাল নদী আমাকে দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে বলে। কিন্তু সম্মতি প্রদান করিনি। কাজেই স্বরস্বতী পূজার দিন রাতে কারণ ছাড়াই বেধড়ক মারধর ও হল থেকে চলে যাওয়ার কথা বলে। বিষয়টি হল প্রাধক্ষ্যকে জানালে তিনিও কোন ব্যবস্থা নেননি। পরদিন রাতে আবার শারিরীক নির্যাতন করে জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেয়।

ছবি : সোনালী

ছবি : সোনালী

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর, প্রভোস্ট এমনকি প্রধানমন্ত্রী বললেও হলে ওঠতে দেবেন না বলেও হুশিয়ারি দেন ছাত্রলীগ নেত্রী নদী। এ ঘটনায় হল কমিটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বর্তমানে তদন্ত চলছে। সোনালী নিজেকে হল ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক দাবি করার প্রেক্ষিতে হল ছাত্রলীগের সভাপতি নদী ও সাধারণ সম্পাদক নিতুল হলে কোনো কমিটি দেয়নি বলে একটি বিবৃতি দেয়।

তবে সূত্র জানায়, হলের দায়িত্ব পাওয়ার পর নদী ও নিতুল নিজের অনুসারীদের পদবীসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচয় করিয়ে দিতেন। এদিকে সোনালীকে জোর করে হলে থেকে বের করে দেয়ার পর বিভিন্ন সময় ফেইসবুকে তাকে হুমকি দিতেন নদী ও তার অনুসারীরা।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরায় একটি রিকশা করে যাওয়ার পথে সোনালীকে পেছন থেকে দুইটি মটরবাইক ধাক্কা দেয়। সোনালী রিকশা থেকে পড়ে যায়। এরপর তাকে এলোপাথাড়ি লাথি মারে মটরবাইক আরোহীরা। এতে সোনালীর বাম হাতের কবজি ভেঙ্গে যায়। ডান হাতের কনুই ও মুখের বাম পাশ রাস্তায় ঘষা লেগে ছিলে যায়।

সোনালী দাবি করেন, নদীই সহযোগীদের দিয়ে তার উপর হামলা চালায়। সোনালী বলেন, নদী ইয়াবা ব্যবসা করে। নিজেও সেবন করে। তার এসব কর্মকাণ্ডে আমাকে জড়াতে না পেরে মেরে হল থেকে বের করে দিয়েছে।

এর আগে গত বছর বাংলানিউজের বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টার সাখাওয়াত আমিনকে নির্যাতন করে নদী ও তার অনুসারীরা। এতে সাখাওয়াত মারাত্মকভাবে জখম হন।

হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি নদী জোর করে মেয়েদের মিছিল মিটিংয়ে নিয়ে আসেন। মিছিলে যেতে না চাইলে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

টিএসসিতে বহিরাগতদেরকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা অস্বীকার করে নিশীতা ইকবাল নদী বলেন আমি এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানি না। আর এতে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। সোনালীর অভিযোগ সম্পর্কে নদী বলেন, সোনালীর যত অভিযোগ তা হচ্ছে ভিত্তিহীন। সে আামার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযেযা ভিযোগ করে যাচ্ছে। এ নিয়ে আমি ও আমার পরিবার ভিকটিম হচ্ছি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. এ এম আমজাদ বলেন, দুই পক্ষই নিজেদের বক্তব্য তদন্ত কমিটিকে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না। তবে সভাপতি নদী সর্ম্পকে বিভিন্ন স্থান থেকে নানা কথা শুনছেন বলে স্বীকার করে প্রক্টর বলেন, এগুলোর সত্যতা এখনও জানি না। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব।

ঢাবি// এমএইচ, ৮ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরজে