[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ডুয়েট ছাত্রীর ভালোবাসার গল্প


প্রকাশিত: February 14, 2015 , 5:01 pm | বিভাগ: ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


Nipa Monalisaনিপা মোনালিসা :  বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নিপা মোনালিসা লিখেছেন নিজের ভালোবাসার গল্প।

তখনো আমি ডুয়েটের ছাত্রী না। ভর্তির জন্য কোচিং করছি মাত্র। কোচিংয়ে ক্লাস নিতেন ডুয়েটের ভাইয়ারা। ক্লাসে মেধাবীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। পড়াশোনার ব্যাস্ততায় অন্যদিকে মন দেয়ার কোন রকম সুযোগ ছিল না।

হঠাৎ একদিন আমাদের জ্যামেতি ক্লাস নিতে একজন নতুন ভাইয়া আসল। দেখা মাত্রই অন্যরকম একটা ভাল লাগা কাজ করল। ভাইয়াটার ব্যবহার ও ক্লাস নেবার ধরন সব কিছুই ভাল লেগে গেল। ভাইয়া যা বলে সব কিছুই আমার কাছে অন্যরকম মনে হতে লাগল। সে যেন সব কিছুই আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছে।

এ দিকে জ্যামেতি ক্লাসে আমার কোন মন নেই। বাসায় এসে জ্যামিতির সব সব বিষয় বস্তুই এলোমেলো মনে হল। এরই মাঝে সামহাউ আমি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। ক্লাসে যেতে পারতাম না। পড়া লেখা করতে পারতাম না। এভাবে প্রায় একমাস কেঠে গেল। ডুয়েটের ভর্তি হবার স্বপ্ন দিন দিন আমার কাছে মলিন হতে লাগল।

একদিন অবাক করে ভাইয়া আমার সঙ্গে দেখা করতে আসল। আমি ক্লাসে কেন যাই না, পরীক্ষায় কেন অংশগ্রহণ করি না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার কাছে সেই দিনটি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমার অসুস্থার খবর শুনে ভাইয়্যা খুবই ব্যতিত হয়। এ দিকে ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার আর বেশি দিন নেই। ভাইয়া আমাকে পড়ালেখায় উৎসাহিত করল। নিজে থেকে পড়াবার প্রস্তাব করল।

ভাইয়া থাকত ডুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে। প্রতিদিন ঐ হলের গেস্ট রুমে আমাকে পড়াতো। পড়ালেখা যে কত আনন্দের তা ওই ভাইয়ার কাছ থেকে জানলাম।

অনেক কঠিন বিষয়গুলো অনেক সুন্দর ও সহজ ভাবে পড়াতেন। সেই সঙ্গে অনেক উৎসাহিত করত। ভর্তি পরীক্ষার মাত্র দুই মাস বাকি। সিলেবাসের এখনো অনেক কিছু বাকি। ধরেই নিয়েছিলাম আর চান্স পাব না। ভাইয়া শুধু বলত তুমি চান্স না পেলে ডুয়েটে আর কোন মেয়ে চান্স পাবে না।

১৫ জুন আমাদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল। সেই দিন রাতেই ভাইয়া আমাকে প্রথম ভালোবাসার প্রস্তাব করল। মনে আছে কিছুই বলতে পারিনি সেদিন। তার পর আমার আম্মুর সাথে ফোনে কথা বলল ও বিয়ের প্রস্তাব করল।

অবশ্য আগে থেকেই ভাইয়ার কথা আম্মুর কাছে শেয়ার করতাম। আম্মুর কাছ থেকে আব্বু সব শুনে রাজী হয় এবং আমাকে বাড়িতে আসতে খবর পাঠালেন।

এদিকে ডুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হলাম সেই সঙ্গে মনের মানুষটির সঙ্গে বিয়ে ঠিকঠাক হতে যাচ্ছে। সব পাওয়াই পূর্ণতা লাভ করতে যাচ্ছে। মনের আনন্দে বাড়িতে গেলাম।

বাড়িতে গিয়ে শুনি আমার বিয়ে অন্য ছেলের সাথে আব্বু ঠিকঠাক করে রেখেছেন। নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। আমার মোবাইল নিয়ে নিল। ঘরে আমাকে বন্দী করে রাখা হল। খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে সম্পন্ন করার আয়োজন শুরু করল।

আমি রাতের আঁধারে ঘর থেকে বেড়িয়ে পরলাম মনের মানুষটির জন্য। কোন রকমে খুলনা রেল স্টেশন থেকে রাতের ট্রেন ধরলাম। গাজীপুরে এসে সকালে পৌঁছলাম। স্টেশনের দোকান থেকে ভাইয়াকে ফোন দিয়ে জানালাম আমি স্টেশনে আছি। সে দ্রুত স্টেশনে আসল এবং আমাকে সুরমা রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে নিয়ে গেল।

আমার কাছ থেকে সব শুনে সে দিনই আমাকে কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করল।

এখন আমরা অনেক সুখে আছি। একজন আরেকজনকে পাগলের মত ভালোবাসি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আমাকে রাত ১২ টার সময় গোলাপ ফুল দিয়ে উইশ করল।

সারা দিন আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিল। বিকালে দুজন ঘুরতে যাব একসঙ্গে। আমার কাছে ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরে ঘুড়ে বেড়ানো পৃথিবীর অন্য যেকোনো সুখ থেকে শ্রেষ্ঠ সুখ।

ডুয়েট// আইএইচ, ১৪ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// টিটি