[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



অবহেলা-অনাদরে ভাষা শহীদ সালামের পরিবার


প্রকাশিত: February 20, 2015 , 9:44 pm | বিভাগ: ইন্টারভিউ


লাইভ প্রতিবেদক: একুশ আসে। একুশ যায়। অনেক কিছুই বদলেছে শুধু বদলায় না শহীদ সালামের পরিবার ও তার গ্রাম। শহীদ সালাম আর আসেননা। কেমন আছেন ওই শহীদ পরিবার? তাদের জীবন যাত্রার মান কেমন? তার পরিবারের সদস্যরা কিভাবে বেঁচে আছেন? তাদের কি কোন চাওয়া পাওয়া আছে? অন্যদিকে ভাষার জন্যে নানা  মানুষের আহাজারি শুনতে ভালই লাগে। একুশে ফেব্রয়ারী ছাড়া কেউ কি তাদের খবর রাখেন?

শহীদ সালামের ভাইয়ের বাড়ি।

শহীদ সালামের ভাইয়ের বাড়ি।

কোন উন্নয়নের ছোয়া কি লেগেছে তার গ্রাম ও পরিবারে? এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুজঁতেই এই আয়োজন। শহীদ সালামের ভাই এর নানা অভিযোগ ও অভিমান এবং ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি হাফিজ উল্লাহ্‌ শামীম

ফেনী জেলার দাগনভূইয়া উপজেলার সালাম নগর গ্রামে ভাষা শহীদ আবদুস সালামের গ্রামের বাড়ি। আমরা নোয়াখালী শহর থেকে রওয়ানা হয়েছিলাম। নোয়াখালী জেলা শহর থেকে গ্রামটির দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে অনেকেই ৪০কিলোমিটারের এই পথটি যেতে অপারগতা প্রকাশ করল। সর্বশেষ আমরা ৩ জন মটরসাইকেল ভাড়া করে সিদ্ধান্ত নিলাম যাবই।  অবশেষে যাওয়া হল। সাক্ষাৎকারও নেয়া হল।

সালামের একমাত্র জীবিত ভাই।

সালামের একমাত্র জীবিত ভাই।

সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল…………
ভাষা শহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাই আবদুল করিমের সাথে আলাপচারিতাটি তুলে ধরা হল…

ক্যাম্পাসলাইভ:  আপনাদের পরিবারে এখন কে কে জীবিত আছে?

আবদুল করিম: আমি ভাষা শহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাই আবদুল করিম। আমরা ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে শুধু আমিই বেঁচে আছি।

ক্যাম্পাসলাইভ: ভাষা আন্দোলনের সময় আপনার বড় ভাই (ভাষা শহীদ আবদুস সালাম) কি করতেন?

আবদুল করিম: উনি তখন ঢাকায় পাকিস্তান সরকারের কোম্পানীতে রেকর্ড-কিপার হিসেবে কাজ করতেন। উনার বাসা ছিল নীলক্ষেতের পাশেই।

ক্যাম্পাসলাইভ:  উনি ভাষা আন্দোলনের সাথে কিভাবে সম্পৃক্ত হলেন?

আবদুল করিম: তেজগাঁও কাজ করার কারণে উনাকে নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে যাতায়াত করতে হত। ২১ ফেব্রুয়ারির আগের দিনগুলোতে উনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করতেন। সংগ্রাম পরিষদে উনার নাম ছিল।

ক্যাম্পাসলাইভ:  ৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারিতে উনি কিভাবে শহীদ হলেন?

আবদুল করিম: উনি ঐ দিন অফিসে যাওয়ার সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভা দেখে তাতে যোগ দেন। পরে মিছিল শুরু হলে উনি গুলিবিদ্ধ হন। উনাকে তখনই ছাত্রজনতা ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান। হাসপাতালে উনি দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ইন্তেকাল করেন।

ক্যাম্পাসলাইভ:  ভাষা শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আপনার অনুভূতি কি?

আবদুল করিম: ভাষা শহীদ পরিবারের একজন সদস্য ও ভাষা শহীদ সালামের ছোট ভাই হতে পেরে আমি গর্ববোধ করি। কিন্তু যে ভাষার জন্য আমি আমার ভাইকে হারালাম সে ভাষা যখন কেউ বিকৃতভাবে উচ্চারণ করে তখন খুব কষ্ট পাই। সবার কাছে আমার অনুরোধ সবাই যেন  বাংলা ভাষাকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করেন।

ক্যাম্পাসলাইভ:  সরকারের কাছে আপনার কি প্রত্যাশা?

আবদুল করিম: আমরা প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা করে পাই। যা দিয়ে আমাদের কোনমতে সংসার চলে যায়। টাকার পরিমানটা বাড়ানো হলে আরো ভালোভাবে জীবন চলতো।

এছাড়াও ভাষা শহীদ সালামের কবরটি এখনো অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে। সরকারকে খুব দ্রুত এটি সংস্কারের উদ্যেগ নেওয়ার অনুরোধ করছি।

এছাড়া ভাষা শহীদ আবদুস সালামের ভাতিজী ক্ষোভ প্রকাশ করে  জানান, “শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি আসলেই সবাই খোঁজ-খবর নেন। সারা বছর কেউ চেয়েও দেখেন না। সারা বছরই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা উচিত। ভালবাসা উচিত”।

পরিবারের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক স্কুলের নাম ভাষা শহীদ আবদুস সালামের নামে করতে চাইলে উপজেলা প্রশাসন ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে।

এছাড়াও দেখা যায় ভাষা শহীদ সালামের বাড়ির চলাচলের রাস্তাটি খুবই সরু এবং ভঙ্গুর। পরিবারের পক্ষ থেকে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।

 

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরজে