[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আহ্‌সানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমজমাট বাণিজ্য: বাড়ছে ফি, বাড়ছে ক্ষোভ


প্রকাশিত: March 4, 2015 , 9:25 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,ঢাকার ক্যাম্পাস,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি


Aust_1বায়েজিদ মিলন: দফায় দফায় সেমিস্টার ফি বাড়ানো হলেও সে অনুপাতে বাড়ছে না সুযোগ-সুবিধা। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও আজও তার বাস্তবায়ন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হলরুম থাকলেও তাতে বড় ধরণের কোন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে দেয়া হয় না। বাহিরে বিভিন্ন অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় এসব অনুষ্ঠান। যার ব্যয়ও বহন করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

এমনসব অভিযোগ আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। তাদের প্রশ্ন, চ্যারিটি বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্তেও কেন দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এখানে ফি অনেক কম। তাছাড়াও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব কিছুর ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতেই ফি বাড়ানো হচ্ছে।

জানা যায়, শিক্ষা বিস্তারের মহান ব্রত নিয়ে ১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা প্রতিষ্ঠিত ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এটি। ২০ বছরের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। এক দশমিক ৬৪ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে এর ক্যাম্পাস।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি চ্যারিটি বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্তেও সেমিষ্টার ফি ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে এবং এই বাড়ানোর পরিমাণও অনেক বেশি। নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক শিক্ষার্থীরা জানান, এটা একটা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার আলো সবার মাঝে ছড়িতে দিতেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। যেখান থেকে কম খরচে শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু মাঝে মাঝেই সেমিষ্টার ফি বাড়ানোর কারণে অনেকেই এখন আর এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছে না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগে আর্কিটেকচার বিভাগের খরচ ছিল ৬ লাখ ১২ হাজার ৫শ’ টাকা। কিন্তু বর্তমানে তা করা হয়েছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৪শ’ টাকা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আগের চেয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬শ’ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিবিএতে বাড়ানো হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। এভাবে প্রত্যোটি বিভাগে সেমিস্টার ফি বাড়ানো হয়েছে। তবে সে অনুযায়ী খুব বেশি সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়নি।

এদিকে ফি বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে খুব বেশি উন্নয়ন চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তাদের মতে, চোখে পড়ার মত শুধু প্রত্যেকটি ক্লাসরুমে প্রোজেক্টর লাগানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বাস নেই। বেশ কিছুদিন আগে বাস দেয়া হবে বলে জানিয়েছিল প্রশাসন। সেটার এখনো কোন খবর নেই। আমাদের নিজস্ব হলরুম থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বড় সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে দেয়া হয় না। বাহিরে বিভিন্ন অডিটোরিয়ামে প্রোগ্রাম হয়। যার ফি আমাদের কাছ থেকে নেয়া হয়। এটা আমাদের জন্য একটা বাড়তি খরচ।

শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এএমএম শফিউল্লাহ সঙ্গে। তিনি ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আহছানিয়া মিশনের অধীনে চলে সেটা ঠিক আছে, তবে আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক কম সেমিস্টার ফি নেই। শিক্ষকদের বেতনও বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার ব্যয় বেড়ে গেছে সে কারণে আমরা ফি বাড়িয়েছি।

পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য আমরা বাসের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসে বাসগুলো পার্কিং করার যথেষ্ট জায়গা নেই তাই আমরা বাসের ব্যবস্থা করিনি। আর যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাদের যাতায়ারেত খরচ বহন করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে নতুন যারা ভর্তি হবে সে সব শিক্ষার্থীদের জন্য ফি বাড়ানো হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন না করার বিষয়ে ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কোন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম হয় না। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বাদ্যযন্ত্র বাঁজিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম উদযাপন করে এটা একটা অপসংস্কৃতি, আর এর শব্দের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই এইসব প্রোগ্রাম ক্যাম্পাসে করতে দেয়া হয় না।

ঢাকা// বিএম, ৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর