[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



দুর্নীতির চাদরে ঢাকা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট


প্রকাশিত: March 3, 2015 , 9:38 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ


Sajuলাইভ প্রতিবেদক: শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা খরচ নিয়ে হরিলুট চলছে। এখানে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না কেউ। মনগড়া নিয়ম আর ব্যক্তি স্বার্থে চলছে বাহারী খরচ। বলা আর দেখার যেন কেউ নেই।

এসব অভিযোগ উঠেছে খোদ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সদস্য সচিবকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে তিনি নিজেই ঢাক ঢোল পিটিয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার চেক হস্তান্তর করেন। সদস্য সচিবের নাম শাহজাহান আলম সাজু।

তবে তিনি এসব কিছু অস্বীকার করেছেন। বলেছেন আমি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক। আমি এসব কিছু করি না।

সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, সাজু নিজেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা খরচ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনারম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চেক বিতরণ করছেন।

জানা গেছে, এর মাধ্যমে মূলত তিনি নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাজু আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন বলেও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

ব্যানবেইজ সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ১৯৯০ এর প্রবিধান অনুযায়ী কোথাও বলা নাই যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকমর্তাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে চেক হস্তান্তর করতে হবে।

তবে যেহেতু এটা একটা কল্যাণ ট্রাস্ট, তাই মানাবিক দিক বিবেচনা করে সদস্য সচিব গিয়ে চেক হস্তান্তর করতেই পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কল্যাণ ট্রাষ্টের একজন কর্মকর্তা জানান, মানাবিক দিক নয়, তিনি মূলত নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা খরচ করে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

ট্রাস্টের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম সাজু তার নিজ এলাকা ব্রাক্ষ্রণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জাতীয় নির্বাচন করবেন। সে জন্যই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে তার এলাকাতে গিয়ে চেক হস্তান্তর করে যাচ্ছেন। আর নিজ এলাকার কর্মসূচি জায়েজ করার জন্য তিনি টাঙ্গাইল, বগুড়া ও বরগুনায় গিয়ে চেক হস্তান্তর করেন।

Saju-1

শাহজাহান আলম সাজু

সূত্র আরো জানায়, ব্যানবেইজে এসে দেখবেন প্রতিদিন শত শত অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী তাদের কল্যাণ ট্রাস্টের চেক নেয়ার জন্য এখানে এসে ধর্ণা দেন। টাকা না পেয়ে দুফোটা চোখের জল ফেলে ফিরে যান।

সেই করুণ দৃশ্য দেখলে আপনার চোখেই জল এসে যাবে। অথচ সেই অসহায় লোকদের পাওনা টাকা না দিয়ে সেই টাকা খরচ করে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক হস্তান্তর করা কতটুকু মানবিক সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয়।

কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পত্রিকাতে একটু চোখ বুলালেই দেখতে পাওয়া যাবে সেবার নামে এইরকম কত প্রোগ্রাম করছেন তিনি।

চেক হস্তান্তরের অভিযোগ সম্পর্কে কথা হয় কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব সাজাহান আলম সাজুর সাথে। অনিয়মের বিষয়গুলো অস্বীকার করে তিনি ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, আমার যারা প্রতিদ্বন্দ্বি আছে তারাই আামার ব্যাপারে বিভিন্ন অনিয়মের কথা বলেন।

টাকা নাই তাই আমরা শিক্ষক কর্মচারীদের টাকা দিতে পারি না। কল্যাণ ফাণ্ডের চেক হস্তান্তরের জন্য যাতায়াতের সম্পূর্ণ ব্যয় আমার নিজের টাকা থেকে করি। ট্রাস্টের কোন টাকা এখানে খরচ করি না।

আর বিভিন্ন এলাকাতে গিয়ে চেক হস্তান্তরের সময় যে প্রোগ্রাম করা হয় সেখানে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের আবেদন করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। যেন আবেদনে কোন প্রকার ভুল না থাকে।

সাজু আরও বলেন আগে আবেদন ফর্মে প্রচুর পরিমাণে ভুল থাকত। কিন্তু এসব প্রোগ্রাম করার ফলে এখন ভুলের পরিমাণ অনেক কমে গেছে।

ঢাকা// বিএম, ৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর