[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড: ৮টি ক্লু নিয়ে মাঠে নেমেছে এফবিআই


প্রকাশিত: March 6, 2015 , 12:26 am | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


মোহাম্মদ হাসান : এফবিআইয়ের এজেন্টরা ৮টি ক্লু নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা খতিয়ে দেখেছেন ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের আদিঅন্ত। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, এর নেপথ্যে কারা ইন্দন যুগিয়েছে, অর্থ যোগান দিয়েছেন কারা, এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারা কাজ করেছে এসব নানা প্রশ্ন এফবিআইয়ের ৪ এজেন্টের কাছে রয়েছে। তারা আরো জানতে চান এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো দূরভিসন্ধি রয়েছে কিনা।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এজেন্টরা বৃহস্পতিবার মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার একজন জয়েন্ট কমিশনারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েক ঘন্টা বৈঠক করে এসব নানা প্রশ্নের জবাব সংগ্রহ করেছেন। সূত্রটি আরো জানায় ৪ সদস্যের এফবিআই এজেন্টদেরকে বাংলাদেশের প্রথম সারির ১০টি সংবাদপত্রের অনুবাদ করে তাদের হাতে ঘটনার নানা তথ্যাদি তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা আসার ক’দিন আগে থেকেই তারা পত্র পত্রিকা ও বিভিন্ন মিডিয়ার ফুটেজে এবং বক্তব্যের সারমর্ম নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষন করছেন।

গোয়েন্দা, পুলিশ ও ব্লগারদের সূত্রে জানা গেছে ৮টি ক্লুকে সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে এফবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দল।

এক. “বিশ্বাসের ভাইরাস” বইটিকে আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে বিশেষ সম্প্রদায়ের রোষাণলের শিকার হয়েছেন অভিজিৎ। সেই বইয়ের জন্য তার এ পরিণতি হয়েছে। ওই বইয়ে তিনি ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। যা ওই সম্প্রদায়কে ক্ষেপিয়ে তুলেছে।

অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। এবার একুশের বইমেলায় তার দুটি বই প্রকাশ হওয়ার কারণেই তিনি দেশে ফিরেছিলেন। ধর্ম নিয়ে লেখালেখির কারণে এর আগে বেশ কয়েকবার তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া মৌলবাদীদের হুমকির মুখে অনলাইন বুকশপ রকমারিও তার বই ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ প্রত্যাহার করে নেয়। পুলিশের ধারণা বিশ্বাসের ভাইরাস নামক বইটি তার জন্য কাল হয়েছে।

দুই. অভিজিতের বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি চুকিযে চুকিয়ে প্রেম করতেন একজন মুসলিম তরুণীর সঙ্গে। পুলিশ বলছে, হিন্দু ছেলে হয়ে মুসলমান মেয়েকে বিয়ে করায় কট্টরপন্থীরা তা সহজে মেনে নেয়নি। এসব নানা ঘটনার একটি কুচক্রী মহল হয়তো অভিজিতকে হত্যা করতে
পারে।

তিন. সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, অভিজিৎ ব্লগার রাজীব হত্যার ঘটনায় খুনিদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। জানা যায়, রাজীব ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে অহেতুক আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তার ব্লগে তিনি নিয়মিত ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য প্রচার করায় ধর্ম বিশ্বাসীরা শুরু থেকেই তার বিরোধীতা করে আসছিলেন। অভিজিতকে এ কারণেই ওই গ্রুপের সদস্যরা হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চার. মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন ছিলেন অভিজিৎ রায় নিজেই। জানা গেছে, তার ওই ব্লগে একই কায়দায় ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে প্রায়ই মন্তব্য করতেন। তার ইচ্ছামতো ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করে তা ওয়েব দুনিয়ায় প্রচার করতেন। এসব নানা ঘটনায় ধর্মীয় বিশ্বাসী গ্রুপের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এগুলো খতিয়ে দেখবে এফবিআইয়ের সদস্যরা।

পাঁচ. বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে অভিজিৎ রায়ের ছিলো সখ্যতা। তসলিমার বিভিন্ন লেখায় বিশেষ করে ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন অভিজিৎ রায়। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ধারণা তসলিমা নাসরিনের বিরোধী পক্ষ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অভিজিতকে হত্যা করতে পারে। এফবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দল তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।

ছয়. সূত্র জানায়, অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী ছিলেন মুসলিম। তার নাম রাফিদা আহমেদ বন্যা। তাদের প্রেম ও বিয়ের পর থেকে অভিজিতের শ্বশুর বাড়ির লোকজন অভিজিতকে কারণে অকারণে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। তাদের বিয়েটা ধর্মীয় মতে স্বাভাবিক ছিলোনা বলে বন্যার পরিবারের সদস্যরা সহজে মেনে নিতে পারেনি। গোয়েন্দারা এ বিষয়টিও আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। এব্যাপারে এফবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নানা তথ্য।

সাত.একাধিক দায়িত্বশীল পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অভিজিৎ হত্যাকণ্ডের ব্যাপারে রাজনৈতিক দূরভিসন্ধিও কাজ করতে পারে। এক পক্ষ তাকে হত্যা করে অন্য পক্ষকে ফাঁসিয়ে দেয়ার বিষয়টিও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না।

আট: ঢাবি ক্যাম্পাসে কতগুলো সিসি টিভি ছিল, কতগুলোতে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এসব বিষয়ে তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দারা। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজও খতিয়ে দেখা হবে।

সূত্র আরো জানায়, টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে একটি দুষ্ট চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ নানান অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে। তাদের মধ্যে কাউকে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে এমন ধারণাও করছেন অনেকে।

এসব নানা বিষয় সামনে রেখে এফবিআইয়ের ৪ সদস্য বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই নানা তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা ৮টি ক্লুকে সামনে রেখে হত্যাকারীদের সনাক্তের জন্য কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনের স্বাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম-কে বলেন, এফবিআইয়ের ৪টি এজেন্ট আমাদের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। তারা বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছেন। মামলার আলামত ও গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা তাদেরকে সম্ভাব্য সকল ধরণের সহযোগীতা প্রদান করবো।

ঢাকা//এমএইচ, ৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) // এজি