[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিথীর স্মৃতিচারণ: আমাকে বাঁচাতে গিয়ে, চলে গেল হানিফ


প্রকাশিত: March 23, 2015 , 12:43 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ,ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,মত


Bethe-hanif

শামিম খান, যবিপ্রবি: গত বছরের ১২ ডিসেম্বর যশোরের চৌগাছায় স্বাধীনতা সড়কে ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি ) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দেশসেরা অ্যাথলেট আবু হানিফ নিহত হন।

এসময় তার সঙ্গে থাকা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা বিথী গুরুতর আহত হন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম-এর সঙ্গে কথা বলেছেন বিথী। চলুন জেনে নেই কেমন আছেন বিথী।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম : দুর্ঘটনা ঘটার সময়ে ঘটনাস্থলে যা ঘটেছিল তা কি আপনার মনে আছে ?

বিথী : সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর আমার তেমন কিছুই মনে ছিল না। তবে একটা বিষয় আবছা আবছা মনে হয় আবু হানিফ আমাকে প্রথমে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছিল। সেই মুহূর্তে ট্রাক সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে আবু হানিফ প্রথমে এবং পরে আমি ও অন্য একজন ছিটকে পড়ি। তাছাড়া আর কিছুই মনে নেই। তবে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এসে বন্ধুদের কাছে থেকে এ ঘটনার বিস্তারিত জেনেছি।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম : সড়ক দুর্ঘটনার ফলে শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থা কি ?

বিথী: সেদিনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা, ঠোঁট, চোখ ও ডান পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলাম। দীর্ঘদিন হাসপাতালের বেডে পড়ে থেকে চিকিৎসা নিয়েছি । তবে এখনো দুই চোখ দিয়ে শুধু পানি ঝরে, মাথাটা নিচু করলেই শুরু হয় যন্ত্রণ , ঠোঁটের সমস্যার কারণে আগের মত আর হাসতে পারি না। কারো সাথে কথা বলার সময় কিছু কিছু কথা বেধে যায়। ডান পায়ের ব্যথার কারণে ঝাঁকুনি খাওয়ার  ভয়ে গাড়িতে বসতে পারি না। চলতি মাসের ১৭ তারিখ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে এসেছি তবে এখনো চিকিৎসা চলছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে আমি আবার সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষে পরিণত হতে পারব বলে আমার  দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম : চিকিৎসায় কেমন খরচ হয়েছে , আপনার বিপদের মুহূর্তে বন্ধুরা কি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ?

বিথী : এ পর্যন্ত চিকিৎসায় ১ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আমার সহপাঠীরা চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৬৮ হাজার টাকা যোগাড় করে দিয়েছিল বাকীটা পরিবার থেকে চালিয়ে যাচ্ছে । বন্ধুদের এ উপকারের কথা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মনে থাকবে, তাদের নিকট আমি চিরকৃতজ্ঞ।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আবু হানিফের স্মৃতি কি আপনার পক্ষে কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব ?

বিথী : আবু হানিফের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা মোটামুটি ক্যাম্পাসের সবাই জানত। আমাদের দুজনের মাঝে খুব ভাল একটা সম্পর্ক ছিল। আমাকে ফাঁকি দিয়ে সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে সেটা ভাবলেই খুব খারাপ লাগে। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা ভাবতেই চোখে জল আসে। অনন্তপক্ষে ক্যাম্পাস জীবনে তার স্মৃতি আমার পক্ষে ভুলে থাকা মোটেও সম্ভব হবে না। আবু হানিফের ফোন নম্বরটা আমার মুখস্ত ছিল কিন্তু এখন শত চেষ্টা করেও মনে আনতে পারি না। হলে আমার একটি ডায়েরিতে তার নাম্বারটা লিখা রয়েছে। ক্যাম্পাসে ফিরে তার পরিবারের কোন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম : ক্যাম্পাসে ফিরে পুনরায় লেখাপড়া সচলের কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি?

বিথী : হ্যাঁ, চলতি মাসের শেষের দিকে আমি ইনশাল্লাহ ক্যাম্পাসে ফিরবো । শুধু ফিরবো না আগামী ১৫ এপ্রিল আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে। ক্লাস করতে পারিনি, নেই পরীক্ষা দেওয়ার কোন প্রস্তুতি তবুও সেই পরীক্ষায় আমি অংশগ্রহণ করব। পরীক্ষার ফলাফল ভাল হবে কিনা জানি না কিন্তু আমি একটি বর্ষ হারাতে চাই না।

যবিপ্রবি//এসকে, ২৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন