[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ড্যাফোডিলে সেমিস্টার ফি বাড়লেও বাড়েনি সুযোগ সুবিধা


প্রকাশিত: March 23, 2015 , 9:16 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ


DIUলাইভ প্রতিবেদক: দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে সেমিস্টার ফি। সে তুলনায় বাড়ছে না ইউনিভার্সিটির সুযোগ সুবিধা। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রফেসর দিয়ে ক্লাস করানোর কথা থাকলেও তা সাধারণ শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

ল্যাবগুলো আধুনিকায়নের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষ। এমন অভিযোগ উঠেছে বেসরকারী ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিকে ঘিরে।

এছাড়া নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় হরতালের মধ্যে ইউনিভার্সিটিতে আসতে নানান বিরম্বনার শিকার হচ্ছেন  সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

হরতালের মধ্যে এতদিন ক্লাস বন্ধ থাকলেও এখন নাম মাত্র ক্লাস নিয়ে দ্রুত সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিলইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, মনখুলে ও স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ নেই এখানে।

ইউনিভার্সিটি সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মহান ব্রত নিয়ে ২০০২ সালে ইউনিভার্সিটিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া উচ্চ শিক্ষার  জন্য জাতিসংঘের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৪ বছরের কলেবর অনেক বেড়েছে। তবে সে অনুযায়ী মান বাড়েনি।

বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। কিন্তু সেই সাথে বাড়েনি যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা। ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতেই উঠে আসে নানা অভিযোগ।

ইলেক্ট্রিক এন্ড ইলেক্ট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে ক্যাম্পাসলাইভ’কে জানান, যারা শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তাদের ক্লাস নেয়ার কথা প্রফেসরদের দ্বারা। কিন্তু দু’একটা ক্লাস শুধু প্রফেসররা নেন।

বাকি ক্লাস লেকচারার দিয়ে সেরে ফেলা হয়। তারা বলেন, যদি প্রফেসররা ক্লাস নিতেন তাহলে আমরা আরো বেশি কিছু শিখতে পারতাম।

অন্যদিকে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসলাইভ’কে জানান, এখানে জায়গা অনেক ছোট তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে একটা পরিবেশ সেটা বুঝা যায়না। আর ল্যাব ক্লাস ভালো হয় কিন্তু অনেক পুরনো সব যন্ত্রংশ দিয়ে ক্লাস নেয়া হয়।

ল্যাব আরো আধুনিকায়ন প্রয়োজন। আমাদের ইউনিভার্সিটির নিজস্ব কোন পরিবহন ব্যবস্থা নেই। তাই হরতাল-অবরোধের মধ্যে ক্লাসে আসতে খুব সমস্যা হয়।

আর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসলাইভ’কে জানান, দেশে চলমান সহিংসতার কারণে অনেক দিন ক্লাস বন্ধ ছিল। ইউজিসির সিদ্ধান্তের পর আবার ক্লাস নেয়া শুরু হয়েছে।  তবে নাম মাত্র সিলেবাস শেষ করে বিভিন্ন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। যা আমাদের রেজাল্টে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।

শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ সম্পর্কে কথা হয় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি, প্রফেসর গোলাম রহমানে সঙ্গে। তিনি ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, হরতালের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আমরা শুক্র ও শনিবার ক্লাস নিচ্ছি।

এছাড়া অনলইনে ’লারনিং ফিটবেক সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বসে পড়াশুনার জন্য বিভিন্ন ইনস্ট্রাকশন দেয়া হয়। হরতাল-অবরোধের কারণে আমরা আমাদের একডেমিক ক্যালেন্ডার ঠিক রাখতে পারছি না।

এর ফলে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেটা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের উপর কিছুটা চাপ যাচ্ছে, সে কারণে কিছুটা সমস্যা তো হবেই। এখানে লুকানোর কিছু নেই। আসলে বর্তমানে আমরা সবাই সমস্যার মধ্যে আছি।

এই ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে। তিনি  আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক, তাদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রফেসর দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রফেসর খুব বেশি নেই।

আর চাইলেই তো ব্যবস্থা করা যায়না। প্রতি সেমিস্টারে আমাদের ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে, সে অনুযায়ী প্রফেসর, লেকচারার আমরা নিয়োগ দিচ্ছি। এবার আমরা ৫৮ জন ফুলটাইম শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি।

ঢাকা// বিএম, ২৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর