[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



এই গরমে জ্বরে যা করণীয়…


প্রকাশিত: March 27, 2015 , 6:16 pm | বিভাগ: আপডেট,হেলথ


healthহেলথ লাইভ: ষড় ঋতুর এই দেশে এখন আর ৬ ঋতুর দেখা মেলে না। শুধু যেন শীত আর গ্রীষ্মের দাপট। বর্ষাকাল কিছুটা বোঝা গেলেও সেটা যেন গরমেরই একটা অংশ। প্রকৃতিতে এখন বসন্তকাল চলছে। এই সময়টাকে একটু এলোমেলো সময় বলা যায়। কারণ শীত কাটিয়ে আসে বসন্ত। আর এর পরেই আসে গ্রীষ্মকাল বা গরম কাল। শীত আর গরমের মূলত পার্থক্য সৃষ্টি হয় এই সময়ে। এতে করে প্রকৃতিতে একসময় গরম আবহাওয়া বিরাজ করলেও অন্য সময় দেখা যায় ঠাণ্ডার দাপট।

বসন্তের এই দিনগুলোতে সাধারণত বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গরম। গভীর রাত অবধি চলে এ অবস্থা। অবশ্য শেষ রাত নাগাদ আবার কিছুটা শীতের দাপট অনুভব হয়। সব মিলিয়ে এই আবহাওয়া একটু এলোমেলো। তাপমাত্রার এই পরিবর্তন অনেকের শরীরই মানিয়ে নিতে পারে না। এ জন্য চিকিৎসকরা এই সময় সবাইকে একটু বেশি সতর্ক থাকতে বলেন। কারণ, একটু ঠাণ্ডা আবার গরম আবহাওয়ায় মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পরে। বিশেষ করে এই সময়টাতে জ্বর হয় বেশি। যাকে চিকিৎসকরা মৌসুমি জ্বর বলে থাকেন। যেটাকে ভাইরাস জ্বরও বলা হয়।

গরমের এই সময়ে হাসপাতালগুলোতে ভাইরাস জনিত জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগীদের বেশি দেখা যাচ্ছে। ডাক্তাররা বলছেন, ভাইরাস জনিত ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছে হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই শিশু ও অধিক বয়স্ক মানুষ।

তাদের মতে, এ সময় বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকে,যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারে সহায়ক। ফলশ্রুতিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এরকম মানুষ বিশেষ করে শিশু ও অধিক বয়স্ক লোকেরা বেশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে। তাই আসুন আরেকটু সতর্ক হই। জেনে নেই এই সময়ের জ্বরে করণীয় কি-

জ্বর হলে সর্বপ্রথম করণীয় হচ্ছে, স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে একটি রুমাল অথবা ছোট গামছা ভিজিয়ে, ছিপে পানি ঝরিয়ে শরীরটাকে ভালো করে স্পঞ্জিং করে দেয়া। ভাইরাল ফিভার অথবা অন্য যেকোন জ্বরের ক্ষেত্রেই স্পঞ্জিং সমান উপকারী। যাদের ঠাণ্ডা-কাশি বেশি তাদের ক্ষেত্রে স্পঞ্জিং এর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন বুকে ঠাণ্ডা না লাগে। স্পঞ্জিং এর সময় হালকা করে ফ্যান ছেড়ে রাখতে পারেন।

এভাবে দিনে ২/৩ বার অথবা যতবার জ্বর বাড়ে ততবার স্পঞ্জিং করে দিতে হবে। সাথে সাথে মাথায়ও পরিমিত পরিমাণ পানি দিতে হবে। খাবারের ক্ষেত্রে তেমন কোন বিধিনিষেধ নাই। তবে ঠাণ্ডা খাবার ও ঠাণ্ডা পানীয় বর্জন করতে হবে। সরাসরি ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে ফুটানো পানি ঠাণ্ডা করে অথবা হালকা কুসুমগরম পানি পান করা উচিত।

এছাড়াও ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে, জ্বরের জন্য প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল (নাপা,এইচ,নাপা এক্সট্রা প্রভৃতি) জাতীয় ওষুধ ৩/৪ বেলা খাওয়াতে পারেন। অতিরিক্ত জ্বর বিশেষ করে জ্বর ১০১ ডিগ্রী`র উপরে হলে মলদ্বারে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশির জন্য এন্টিহিস্টামিন (হিস্টাসিন, এলাট্রল, মাস্টেল প্রভৃতি) জাতীয় ওষুধ ও কফ এক্সপেক্টোরেন্ট সিরাপ খাওয়াতে পারেন। এর বাহিরে অতিরিক্ত কোন ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত হবে না।

মনে রাখতে হবে, এই ধরনের ভাইরাস জনিত সমস্যায় এন্টিবায়োটিক ওষুধের কোন প্রয়োজনীয়তা কিংবা কার্যকারিতা নাই। আপনি যতই ওষুধ ব্যবহার করেন না কেন জ্বর কমতে ৩/৪ দিন ও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে ৬/৭দিন সময় লাগবেই। তবে জ্বরের মাত্রা একই ভাবে ৩/৪দিনের অতিরিক্ত থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কৃতজ্ঞতায়: মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. তৈমুর নেওয়াজ; বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ঢাকা, ২৭ মার্চ ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর