[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ভারপ্রাপ্তদের ভারে নুয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


প্রকাশিত: March 30, 2015 , 9:12 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ


schoolবায়েজীদ মিলন: ভারপ্রাপ্তদের ভারে নুয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একদিকে শিক্ষকের অভাব, অন্যদিকে যেনতেন ভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করা হচ্ছে। রাজধানীর নামকরা বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ঘিরে এই অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়য়ে কেউ দায়িত্ব নিতে নারাজ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দাবি, ‘এটা আমাদের কাজ নয়’। অন্যদিকে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, ‘এ কাজটি আমাদের এখতিয়ারে পড়ে না’।

ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে চলছে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত প্রিন্সিপাল ও প্রধান নিয়োগ না দেয়ায় গতিহীন হয়ে পড়ছে এসব নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এরফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির মচ্ছব চলছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ এই সুযোগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে মেতে উঠেছেন।

এমনকি পরীক্ষা পদ্ধতিতেও চলছে অসদুপায় ও অনিয়মের প্রতিযোগীতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন অবস্থার সমাধানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডও এ দায়িত্ব নিতে নারাজ। তাদের সাফ কথা এবিষয়ে দায়িত্ব আমাদের নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রায় ৩০টি স্কুল ও কলেজে কোন প্রধান শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল নেই। ভারপ্রাপ্তের এই তালিকায় নামকরা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। অনেক স্কুলে আবার ৭ থেকে ৮ বছরেও কোন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি।

স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর মতিঝিল মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার হাইস্কুল, পোগোজ হাইস্কুল, ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকনগর মডেল হাইস্কুল, সিলভারডেল প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, মিতালী বিদ্যাপিঠ, প্রভাতি বিদ্যানিকেতন, আরব মিশন পাবলিক স্কুল, বংশাল বলিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যাত্রাবাড়ি আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, নিউ মডেল হাইস্কুল, মোহাম্মদ পুর,

ঢাকা কটন মিলস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আগারগাও আদর্শ হাইস্কুল, পল্লবী এম আই মডেল হাইস্কুল, সিদ্ধান্ত হাইস্কুল, মিরপুর, শাহআলী মডেল হাইস্কুল, খিলগাও হাইস্কুল, ন্যাশনাল বাংলা হাইস্কুল, রশিদ আদর্শ হাইস্কুল. পল্লবী, রমনা রেলওয়ে হাইস্কুল, কতোয়ালী, শহীদ নবী হাইস্কুল, রামকৃঞ্চ মিশন হাইস্কুল, শহীদ আবু তালিব হাইস্কুলসহ আরো অনেক স্কুল রয়েছে যেখানে প্রধান শিক্ষক নেই।

প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ না দেয়ায় অনেক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রিন্সিপাল নিয়োগ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের একজন সিনিয়র শিক্ষক ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, প্রায় দুই বছর থেকে এই প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আর সভাপতি মিলে নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। এখানে প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই।

টাকা না দিলে এখানে কারো নিয়োগ হয় না। কম মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে কলেজে নিয়োগ পাচ্ছেন। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের রেজাল্টে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে হর হামেশা।

এছাড়া, যারা এখানে চাকুরি করেন তাদের ছোট খাট কোন ভুল হলে চাকুরি চুক্তির হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়। যারা টাকা দিতে পারেন না তাদেরকে ওএসডি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, রাজধানীতে শুধু ৩০টি নয়, প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত দ্বারা চলছে।

আমাদের প্রতিষ্ঠানেও চলছে ৩ মাস যাবত ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এটা আমাদের কলেজের সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি ভাল জানেন, কেন প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একজন শিক্ষক জানান, অদৃশ্য এক কারণে লেনদেনে বনিবনা না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

আর পোগোজ স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক শরিফ ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, তিন মাস ধরে আমাদের স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আছেন তিনি যদিও সিনিয়র। জুন মাসের মধ্যেই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষক নেতা নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ভারপ্রাপ্তদের ভারে নুয়ে হয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ডিজি ফাহিমা খাতুন কম্পাসলাইভ’কে বলেন, দীর্ঘ দিন যাবত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় শিক্ষা ক্ষেত্রে খুবই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, কেন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা দরকার। তবে নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ শিক্ষা বোর্ড দেখেন। এতে আমাদের তেমন কোন দায়-দায়িত্ব নেই।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ক্যাম্পাসলাইভ’কে বলেন, প্রধান শিক্ষক যদি না থাকে তাহলে আমাদের যে প্রবিধী আছে সেটা হল, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে কমিটি আছে তারা মিটিং করে একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দেবেন।

এব্যাপারে আমাদের কোন বাধা নেই। আমরা তো চাচ্ছি সেখানে প্রিন্সিপাল বা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হোক। বোর্ডের প্রতিনিধি তো সেখানে থাকে না। তবে মাউশির প্রতিনিধি সেখানে পাঠানো হয়।

তিনি আরো বলেন, স্কুলের হল ম্যানেজিং কমিটি আর কলেজে হল গর্ভনিং বডি। অনেক সময় প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দিতে দেরি করেন বা ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই সেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।

ঢাকা// বিএম, ৩০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর