[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ইয়াসির আরাফাতকে বিষ প্রয়োগে হত্যা!


প্রকাশিত: November 7, 2013 , 2:13 am | বিভাগ: ইন্টারন্যাশনাল


লাইভ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত মারা যান। তার মৃত্যুর পরপরই মৃত্যুর কারন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক প্রতিবেদন।    

যেখানে উল্লেখ করা হয় যে ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতকে পোলোনিয়াম নামক রাসায়নিক বিষ জাতীয় পদার্থ সেবন করিয়ে হত্যা করা হয়েছে!

বুধবার সুইজারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা এবং সিরোসিসে আক্রান্ত আরাফাত স্ট্রোকে মারা গেছেন।

গত বছর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম তীরের রামাল্লার সমাধিস্থল থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়।বুধবার প্রকাশিত সুইস প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইয়াসির আরাফাতের দেহে অন্তত ১৮ গুণ বেশি পোলোনিয়াম নামক রাসায়নিক পদার্থটি পাওয়া গেছে।বিজ্ঞানীরা বলেন, এই বিষক্রিয়া ৮৩ শতাংশ বেশি কাজ করেছে আরাফাতের শরীরে, অথচ এর সাধারণ প্রতিক্রিয়াই মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

সুইস, ফরাসি ও রাশিয়ান চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণে পরীক্ষা শেষে ইউনিভার্সিটি সেন্টার অব লিগাল মেডিসিন ইন লুয়াজানর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ১০৮ পৃষ্ঠার দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়, অত্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে আরাফাতের পাঁজর, নিতম্বের হাঁড় এবং সমাধিস্থলে থাকা তার অবশিষ্ট ক্ষয়িষ্ণু হাঁড়গুলোতেও পোলোনিয়ামের অস্বাভাবিক মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।যুক্তরাজ্যের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বর্তমানে ফরেনসিক বিজ্ঞানী ডেভ বার্সলে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত, আরাফাতকে হত্যা করা হয়েছে।
আরাফাতকে পোলোনিয়াম বিষক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।বার্সলে বলেন, আরাফাতের পাঁজরে ৯০০ মিলিবেকুয়েরেলস পোলোনিয়াম বিষক্রিয়ার তীব্রতা পাওয়া গেছে।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের আগে মঙ্গলবার প্যারিসে প্রতিবেদনটি ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী সুহা আরাফাতের কাছেও পাঠানো হয়।সুহা আরাফাত বলেন, তারা যখন প্রতিবেদনটি নিয়ে আমার কাছে এলো, মনে হলো আমি এখনই ইয়াসিরকে হারিয়েছি। ইয়াসিরের জন্য খুব শোকানুভ করছি।উল্লেখ্য, প্রতিবেদনটি কেবল আরাফাত খুন হয়েছিলেন কিনা এই প্রশ্নটিরই জবাব দিয়েছে। কীভাবে, কোথায় তাকে এই রাসায়নিক পদার্থ সেবন করানো হয়েছিল এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি প্রতিবেদনটিতে।

১৯২৯ সালে মিশরের রাজধানী কায়রোতে জন্মগ্রহণ করা আরাফাত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা পিএলওর চেয়ারম্যান হিসাবে আরাফাত ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ২০০৪ এর শেষদিকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাসরত আরাফাত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কোমায় চলে যান। ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা এবং সিরোসিসে ভুগে আরাফাত স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলা হলেও তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে এতোদিন রহস্যই রয়ে গেছে।

ঢাকা, ৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাস লাইভ)// টিটি