[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আমি শ্রীনিবাসন হলে আত্মহত্যা করতাম: মুস্তফা কামাল


প্রকাশিত: June 25, 2015 , 12:28 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ,স্পোর্টস


স্পোর্টস লাইভ: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত গায়ের জোরে জিতেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে অন্যায় করা হয়েছিল। সেটা উচ্চকিত কণ্ঠে বলে আসছেন বিসিবি ও আইসিসির সাবেক প্রেসিডেন্ট আহম মুস্তফা কামাল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইসিসির প্রেসিডেন্ট পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু তবুও তিনি অন্যায়ের বিপক্ষেই রয়েছেন। বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ চলাকালীন আনন্দবাজার পত্রিকায় তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল-

প্রশ্ন : বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে দু’জন প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের একজন আপনি। লোকে বলে, আলী বাখারের সঙ্গে আপনি জুটি না বাঁধলে বাংলাদেশ ক্রিকেট এই জায়গায় পৌঁছত না। আপনার সে দিনের যুদ্ধ এতদিনে সার্থক হল?

কামাল : এটা ঠিক যে, আমাদের দেশে ক্রিকেট এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, আগে তা ছিল না। একটা সময় মাঠে আড়াইশ’ লোক হতো ক্রিকেট দেখতে। ফুটবলের রমরমা তখন। আমি ক্রিকেট প্রশাসনে আসার পর ভেবেছিলাম কী করে সব পাল্টানো যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার ভদ্রলোকের সঙ্গে তখনই দেখা হয়। উনি বললেন, ক্রিকেটের উন্নতি ঘটাতে হলে মাঠে লোক আনতে হবে। তারকা আনো ঘরোয়া ক্রিকেটে। আনলাম। ফেয়ারব্রাদারকে নিয়ে এলাম ’৯২ সালে। তারপর অনেকেই এসেছে। ওয়াসিম আকরাম এসেছে। আফ্রিদি এসেছে। শোয়েব মালিক তো ‘শোয়েব মালিক’ হল ঢাকায় খেলেই।

প্রশ্ন : রোববার রাতে আপনি মিরপুরে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস দেখলেন। মার্চের মেলবোর্ন মনে পড়ল?

কামাল : আমি মেলবোর্ন নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। বিশ্বকাপে মেলবোর্ন থেকে ফিরে এসে আমি আইসিসি থেকে পদত্যাগ করেছি। কিন্তু পদত্যাগের সময় আমার কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। ক্রিকেট টিম, দেশের বোর্ডের কাছে কিছু বক্তব্য ছিল। আমি যা কিছু আবেদন করার, টিমের কাছে করেছিলাম। বলেছিলাম, যা আমি পারিনি, তোমাদের করে দেখাতে হবে। ওরা আমার চোখের পানি সেদিন দেখেছিল। সেটা ওরা সারা জীবন মনে রাখবে।

প্রশ্ন : মেলবোর্নে ঢুকবেন না বলেও মেলবোর্ন নিয়ে এত কিছু বলে ফেললেন। সেদিন যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে না যেত, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে টিম মাঠ ছাড়ত?

কামাল : সেটা তো কখনও লুকাইনি। হার-জিত অন্য কথা। কিন্তু খেলাটাকে সেদিন যেভাবে চালানো হয়েছিল, অভাবনীয়। শুধু ওই ম্যাচটায় কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার হয়নি। কোনো ক্যামেরা ব্যবহার হয়নি। জায়ান্ট স্ক্রিনে লিখে দেয়া হয়েছিল, ইন্ডিয়া জিতবে। এসব চালাতে পারত দু’জন। আইসিসি প্রেসিডেন্ট বা চেয়ারম্যান। আমি আইসিসি প্রেসিডেন্ট
যখন, নিশ্চয়ই এসব করতে পারতাম না। তা হলে পড়ে থাকল কে? আমি সন্দেহ করেছিলাম, খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তারপর দেখলাম, ঘটেই যাচ্ছে। অন্যায় দেখলে আমি চুপ করে থাকব কেন?

প্রশ্ন : মানে, পরিচ্ছন্ন ক্রিকেট হলে আপনারা মেলবোর্ন কোয়ার্টার ফাইনালও জিততেন?

কামাল : দৃঢ় বিশ্বাস, জিততাম। বিশ্বকাপে যে ক’টা বাংলাদেশ টিম আজ পর্যন্ত গেছে, তার মধ্যে এবারেরটাই সেরা ছিল। আমি মনে করি, অন্যায়-অবিচার না হলে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। তবে এখন আর ওসব মনে রেখে কী হবে? বললাম তো, ওসব ভুলে গেছি।

প্রশ্ন : আপনি বলছেন ভুলে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ তো ভোলেনি।
কামাল : আপনি যেটা বলছেন ঠিক নয়। ওটুকু এক্সপ্রেশন হয়েই থাকে। কিন্তু ভারতীয় প্লেয়ার বা ভারত নিয়ে একজন দর্শকও আজেবাজে মন্তব্য করেননি। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি। আমার লোক ছিল। প্রত্যেক মিনিট মনিটরিং হয়েছে।

প্রশ্ন : একটা কথা বলুন। আপনি ভারতীয় বোর্ডে নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন জমানা দেখেছেন। এখন জগমোহন ডালমিয়া জমানা দেখছেন। দু’টায় কী তফাত?

কামাল : ডালমিয়া সাহেব সম্পর্কে আমাদের ধারণা অন্যরকম। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উনি যা করেছেন, ভোলা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : আর শ্রীনি? আইসিসি চেয়ারম্যান পদ থেকে তো এখনও সরানো গেল না তাকে। সোমবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজে আইসিসি মহাসভায় গেলেন চেয়ারম্যান হিসেবে।

কামাল : এখন আমি আইসিসিতে নেই। এখন কিছু বলতে পারব না। তবে হ্যাঁ, ওর জায়গায় আমি থাকলে হয়তো এতদিনে আত্মহত্যা করতাম! বিশ্বকাপ ট্রফি দিতে গেল, লোকে এমন বিদ্রুপ করল যে ট্রফি ফেলে পালিয়ে গেল। তারপরও এখনও আছে। গায়ের জোরে আইসিসি মিটিংয়ে চলে যাচ্ছে। যাবেও। ন্যায়-অন্যায় বোধ তো ওর নেই। থাকলে কোয়ার্টার ফাইনালের পর আমাকে বলত না, বক্তব্য তুলে নিতে। ক্ষমা চাইতে। যেখানে ওর চেয়ারম্যানশিপ আমিই এনডোর্স করেছিলাম। তবে যা-ই করুক, ওর বিচার হবেই।

[সূত্র: ওয়েবসাইট]

ঢাকা, ২৫ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন