[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবিতে পুরোনো বই বিক্রি করে যাদের জীবিকা নির্বাহ


প্রকাশিত: July 2, 2015 , 3:57 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,ফিচার,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


ru1মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারের চৌ-রাস্তার দিকে তাকলেই চোখে পড়ে ৫৮ বছর বয়সী ইসলাম খাঁনের পুরোনো বইয়ের দোকান।

বয়সের পাল্লা যেন একটু ভারি হয়ে গেছে তাঁর। কিন্তু বয়স বাড়লেও পরিবারের জীবিকা উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি ইসলাম খাঁ। খোলা আকশের নিচে পুরাতন বই বিক্রি করে দুই ছেলের লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয় খরচ বহন করতে হয় তাঁকে।

একমাত্র এই দোকান ব্যাতীত উপার্জনের দ্বিতীয় কোন পথ নেই। দোকান করার জন্য তেমন কোন জাঁকজমক পূর্ণ স্থায়ী রুম না থাকলেও পুরাতন বইয়ের কোন কমতি নেই।

ru2স্বল্পমূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিনতে পারে চাহিদামতো গল্প, উপন্যাস কিংবা ডিপার্টমেন্টের বই। আর এই কারণেই সেখানে শিক্ষার্থীদের আনা-গোনা বা ভীড় থাকে সবসময়।

তাঁর ব্যবসা আজ নতুন করে নয়। চার সদস্যের পরিবারে তিন বেলা দু-মুঠো খাবার জোগাতে অন্য কোন পেশা গ্রহণ না করে ১৯৮০ সাল থেকেই রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্থানে পুরোনো বই বেচা-কেনা শুরু করেন।

এরপর ১৯৯০ সালে আগমন ঘটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানার বকপাড়া গ্রাম থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টায়  নিজের ভ্যান গাড়িতে বহন করে আনেন বই।

অর্থের অভাবে কোন কর্মচারি রাখতে পারেননি। এজন্য নিজের উপর একটু চাপ নিয়েই এ পেশা ধরে আছেন। পরিবারের অর্থের টানাপড়নে নিজে তেমন লেখাপড়া করতে না পারলেও দুই সন্তানের স্কুলে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি। জীবনের বাকি সময় এ পেশায় দিনাতিপাত করবেন বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ru3এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলাম খাঁ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “অনেক দিন থেকেই আমি এ পেশায় আছি। এভাবে জীবিকা উপার্জন করে নিজেকে অনেক ভালো লাগে। তবে যেদিন আকাশ খারাপ থাকে সেদিনটা আমার কোন উপার্জন হয় না। আমি সবসময় চেষ্টা করি শিক্ষার্থীরা যাতে স্বল্প মূল্যে বই কিনতে পারে”।

ক্যাম্পাসে শুধু ইসলাম খাঁ নয়, ৫০ বছর বয়সী মো. তায়জুল ইসলাম (সম্রাট) কেও বিশাল বট গাছের পাশে পুরোনো বই বিক্রি করতে দেখা যায়। বৃদ্ধ মা, এক মেয়ে ও ভায়ের এক ছেলেসহ পাঁচ সদস্য পরিবারের উপার্জনক্ষম সম্রাট।

এইচ এস সি পাশ করা এই বিক্রেতার জন্ম কুমিল্লাতে হলেও ১৯৮৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পার্শবর্তী মেহেরচন্ডীতে বাসা ভাড়া করে থাকেন এবং তিনিই প্রথম ক্যাম্পাসে পুরোনো বইয়ের দোকানদার। পুরোনো বিক্রেতা হিসেবে অনেক শিক্ষকের সাথে তার পরিচিত।

ru4পুরোনো বইয়ের চাহিদা কেমন এ বিষয়ে চাইলে সম্রাট ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “আমার কাছে প্রায় সকল বিভাগের কম-বেশি বই থাকে। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনেকটাই বেশি। বিভিন্ন ধরনের বই থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের অনেক শিক্ষার্থীরা এসে বই কিনে।

এসব পুরোনো বই শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষ করে আমার কাছে বিক্রি করে। তাছাড়া, গ্রাম থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্বল্প মূল্য বই কিনে আনা হয়।

এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে কোন প্রকার বাধা প্রদান করেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি আমার জন্য একটি স্থায়ী জায়গা দেয় তাহলে অনেক সুবিধা হতো বলে জানান তিনি।

রাবি// এমএন, ০২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪কম)// জেআর