[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



পুরান ঢাকার ইফতারী ‘বড় বাপের পোলায় খায়’


প্রকাশিত: July 3, 2015 , 6:18 pm | বিভাগ: আপডেট,ফিচার


iftariলাইভ প্রতিবেদক: বাহারী আয়োজন। অন্যরকম স্বাদ। দেখলেই চোখ-মূখ উচ্ছল হয়ে উঠে। চোখ চল চল করে। জিহবায় জল আসে। খেতে যা মজা, তা বলে শেষ করা যাবেনা। ইফতারীর এই আয়োজন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে।

পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতার ঢাকাবাসীর কাছে চাহিদাই অন্যরকম। এখানকার অনেক পরিবারই আছে, যারা চকবাজারের ইফতার ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ইফতারী কেনেন না। উত্তরাধিকার সূত্রে এটা তাদের কাছে এখন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।এই আয়োজন বংশানুক্রমে চলে আসছে।

iftari1রমজান মাস এলেই পুরান ঢাকার চকবাজারে মুঘল আমল থেকে শুরু করে হাল আমলের সব ধরনের  ইফতার পাওয়া যায়।

আর রমজানের প্রথমদিনেই প্রতিবারের মতো এবারও চকবাজারে বসেছে ইফতারের বাহারি আয়োজন।কেউ বলেন মুগল যুগের আয়োজন।

এসব ইফতারির রয়েছে নানা ধরনের  নাম। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য বড় বাপের পোলায় খায়।  বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি করে এমন একটি দোকানের কর্ণধার সালেহীন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে এটা আমাদের বাপ-দাদায় বিক্রি করতো।

এখন আমরা এই বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি করি। পাকিস্তান আমলে এটার নাম ছিল সাসলিক ভর্তা। আর বাংলাদেশ হওয়ার পর এটার নাম হয়েছে বড় বাপের পোলায় খায়। আর এটা ঠোঙায় ভরে নিয়ে যায়। এজন্য আমরা বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায় স্লোগান ঠিক করেছি।’

তিনি জানান- ডিম, কলিজা, আলু, মরিচ, গরুর মগজ, খাসির মগজ, মুরগির মাংসের কুচি, গিলা, কলিজা, সুতি কাবাব, চিড়া, বুটের ডালসহ প্রায় ৩২ পদের খাবার ও মশলা দিয়ে বড় বাপের পোলায় খায় বানানো হয়।

চলতি বছর এ খাবারটি গতবছরের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ বছর এ খাবারটি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

সালেহীন বলেন, ‘আমাদের দোকানে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ টাকা থেকে দুই লাখ টাকার ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয়।’

স্থানীয় বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও বসেছেন ইফতারির পসরা নিয়ে। ফুটপাত ও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নানা ধরনের হাঁকডাক দিচ্ছেন তারা। তেমনি একজন ব্যবসায়ী নবাবপুরের মো. আরশাদ মিয়া।

iftari3ক্যাম্পাসলাইভকে তিনি বলেন,‘বাপ-দাদার আমল থ্যাইক্যা মুঘল আমলের নবাবি ইফতার বিক্রি হইতাছে পুরান ঢাকায়। নিজেরাবি খিলাইতাছি। ইফতার খাইয়া বড় হইছি। এখনবি নিজেই ইফতারী বেছতাছি।

পুরান ঢাকার ইফতারি  বিক্রেতারা জানান, এখানের ঐতিহ্যবাহী ইফতার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ প্রতিকেজি জায়গা ভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুতি কাবাব গরু ৪০০ ও খাসি ৫০০,  শাহী জিলাপি ১৮০ টাকা আর ছোট জিলাপি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া খাসির হালিম ৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট ৪০০ টাকা, গরুর রোস্ট ৩০০,  কোয়েলের রোস্ট ৬০, খাসির কাবাব ৫০, চিকেন কারি ২০, সাফলিং ৪০, চিকেন চাপ ও রোল ৫০, মুরগির রোস্ট ২৪০, দই বড়া ৮০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

আর ডিম চপ ১৫, স্পাইসি ৫০,  মাঠা ৬০ টাকা লিটার,  লাবাং ১০০,  চিকেন শাসলিক ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান বিক্রেতারা।

প্রতিদিন  দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকার লোকজন ইফতার কিনতে চকবাজারে আসতে শুরু করেন। নারী-পুরুষ সবাই-ই ইফতার কিনতে দেখা গেল। আর এসব বাহারি ইফতারি সামগ্রী কিনে ঘরে ফিরছেন।

চকবাজারে ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে ঘুরনি প্রতিকেজি ৭০ টাকা, বুটের ডাল ৮০, মাংসের কিমা ৩৫ টাকা পিচ, টিক্কা কাবাব ৩০, ফুলুরি ৫ টাকা,  আলুর চপ ১০, পিঁয়াজু ১০০ টাকা কেজি, সবজি বড়া ৯০ টাকা, মালপোয়া ৩৫ ও গজা ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

iftari4লালবাগ এলাকার বাসিন্দা তামরিনা তাবাসসুম চকবাজারে এসেছেন ইফতার কিনতে। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বাপ-দাদারা কিনেছেন। আমরাও কিনতেছি। তবে গত বছর থেকে এবার দাম একটু বেশি। তবুও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গেছে সব। এর জন্যে এটা ছাড়া আমাদের ইফতারির তৃপ্তি হয়না।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র পুরান ঢাকার বাসিন্দারাই নন, রাজধানীর প্রতিটি এলাকা থেকেই ইফতার কিনতে ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে ভিড় করেন অনেকেই।

‘চকবাজারের ইফতার কেউ শখে কেনেন। কেউ বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখানকার ইফতার কিনে থাকেন। কেউ কেউ পরিবারসহ, কেউ কেউ ছোট ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে চকবাজারে ইফতার কিনতে আসেন।

ঢাকা// ০৩ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর