[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বর্ষা তুমি কার?


প্রকাশিত: July 5, 2015 , 10:46 pm | বিভাগ: আপডেট,রাইম, স্টোরি এন্ড জোকস


আজিবুল হক পার্থ: ক্যাম্পাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে বাড়ীতে এসে জানলাম বর্ষার বিয়ে। হুট করে বিয়ের আয়োজন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে হয়ে গেল বিয়ের পাকা কথা বার্তা। বর্ষা তার অতীত ভূলে বাবার কথা বিবেচনা করে পারিবারিক বিয়েতে মত দিয়েছে। মুসলিম পরিবারের বিয়ের প্রাথমিক এই আয়োজন শেষ হলো আনুষ্ঠানিকভাবেই। এরপরেই বর্ষা চলে এলো প্রাণের ক্যাম্পাসে।

বর্ষার খুব কাছের বান্ধবী রাবেয়ার মাধ্যমে বর্ষার পুরোনো প্রেমিক নূর সব ঘটনাই জানতো। এর বেশ কয়েকদিন পরে একদিন হঠাৎ বর্ষাকে ফোন করলো নূর। আসলে বর্ষার প্রেমিক বলা ভুল হবে। কারণ নূরকে বর্ষা ভালবাসতো তবে নূর কখনো সাড়া দেয়নি। নূরকে না পাওয়ায় বিয়ের ক্ষেত্রে বর্ষার নিজের কোন ইচ্ছা নেই বাড়ীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মনে নেয়। সেই মোতাবেকই কাজ হচ্ছে।

বাকদানের পর পারিবারিক রীতিতে দূজনের এক ধরনের যোগাযোগ বৈধ হয়ে যায়। সেই নিয়মেই বর্ষার সাথে আলমের (বর্ষার পারিবারিক আয়োজনে হবু স্বামী) যোগাযোগ। এর মধ্যে শুরু হয়েছে দু’জন দুজনকে চেনা জানা। ইচ্ছা, পছন্দ ঘোরাঘুরি এসব ব্যাপারে কথা হয়। ভাল লাগা, ভাল থাকা নিয়েও। আলম ক্যাম্পাসের প্রাক্তন ছাত্র। তাই ফোনালাপের সিংগভাগেই থাকে ক্যাম্পাসের খুটিনাটি।

কখনো কাউকে ভাল লেগেছে কিনা? ভাললাগার ধরন! বন্ধুদের সাথে কে কেমন মিশে কোথায় কোথায় ট্যুর হয়েছে। মোবাইলে কথার লম্বা সুর ধরে চলে আসে ব্যক্তি জীবন। বিয়ের বিষয়ে পারিবারের আগ্রহের বিষয়টাও সামনে আসে। এরই মধ্যে বিয়ের বিষয়ে দুজনের সহমত হয়ে যায়।

আলাপের এক পর্যায়ে দুজনে চলে আসে মধুচন্দ্রিমায় (হানিমুন)। হানিমুন নিয়ে বর্ষার আগ্রহ না থাকলেও আলমের আছে। কাছে হানিমুনের জন্য সে একটি বোনাস পাবে অফিস থেকে। তাই কক্সবাজার হানিমুনে যেতে চায় আলম। এ সব বিষয়ে আলাপ চলতে থাকে। এর মাঝে উভয়ের পরিবার কাঠমো, আগ্রহ, সম্ভাব্য বিয়ের আয়োজন এসব নিয়েও কথা হয়। দেখাশোনার আগেও আলাপ হয়েছে তবে অন্যের মাধ্যমে তবে দেখার পরে বর্ষা আর আলমের যোগাযোগ হচ্ছে নিয়মিত। বলা যায় সম্পর্কের একটা ঘনিষ্টতা তৈরি হচ্ছে।

এর মধ্যে হঠাৎ একদিন নূরের ফোন। নূর বর্ষার পছন্দের মানুষ হলেও একাডেমিকভাবে সিনিয়র। নূরের ফোন পেয়ে বর্ষা ঘুর দাড়ায় পেছনের জগতে। সেই প্রথম বর্ষের ঘটনা ক্যাম্পাসের অসংখ্য জুটির মাঝে নিজেকে যখন প্রতিদিন আবিষ্কার করতো র্বষা। প্যারিস রোডে প্রিয়‘র হাত ধরে হাটা, ইবলিশে প্রিয়‘র উরুতে মাথা রেখে গল্প অথবা নিজের উরু–তে প্রিয়‘র মাথা নিয়ে মাথায় হাত বুলানো।

এযেনো নিত্যদিনের শখে পরিণত হয়েছে বর্ষার। কখনো বা চোখ চলে যায় তুঁত বাগানে, নিজের অজান্তেই মনকে ফিরে পায় সিনেট কিংবা শহীদ মিনারে। প্রতিদিনের আড্ডাতে বর্ষার মন চায় একজন জীবন সঙ্গী। আর সেই স্বপ্নের মানুষ নূর। প্রেমের প্রস্তাবে ছেলেরা এগিয়ে থাকলেও ক্যাম্পাসে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটে। হঠাৎ একদিন বর্ষা প্রস্তাব দিয়ে বসে প্রিয় মানুষের কাছে। কিন্তু উত্তরে মিলেনি কিছুই।

সেই থেকে স্বপ্নের ডানা পেতে বর্ষার শুরু ক্ষণ গোনা। অবশ্য নূর তাকে সরাসির ফিরিয়ে দেয়নি। ফলে বর্ষার হতাশা আরো বাড়ে। এর মধ্যে বর্ষার শুরু হয় নতুন এক জগত। সে আর নিজেকে নিজের উদ্যোমে ফিরে পায় না। বর্ষার জীবন এখন আনানন্দের মতো বেদনা। পাওয়া আর না পাওয়ার মাঝখানে দাড়িয়ে কেটে গেল দু‘বছর।

প্রতিদিনের ক্যাম্পাসের যাওয়া-আসা, বিকেলের আড্ডা, গ্রুপ স্টাডি আর ব্যক্তিগত কাজ সব ক্ষেত্রে বর্ষার একটা অপূর্ণতা। সেটি হচ্ছে নূরের অভাব। রাতে রুমমেটদের সাথে গল্প, ডাইনিংয়ে খাওয়া, ফ্লোরে হাটা সর্ব ক্ষেত্রেই র্বষার পিছুটানের জীবন।

বর্ষা সব পেছনে রেখে সামনে আসতে চায়। কিন্তু সকালে রুম থেকে বের হয়ে হলের (বেগম রোকেয়া হল) সামনে কোন জুটিতে তার চোখ আবার পেছনে ফিরে। নিজেকে সামলে সারাদিন শেষে রুমে ফিরে রুমমেটের ফোনালাপ তাকে পিছিয়ে দেয় আবারও। এভাবে বর্ষার দুটি বছর পেরিয়ে গেল। অবশেষ হয়তো বর্ষা নূরের আশা ছেড়ে দিয়েছে। তাই তো আজ বর্ষার বাড়ীর সবার কথামতো অন্য ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে।

আজ হঠাৎ নূরের ফোনে সে আতকে উঠলো কেন নূরের ফোন। রিসিভ করেই কারণ জানতে চাইলো। শান্ত কন্ঠে নূর জানায় কেন খোজ নিতে পারি না?

হ্যা পারেন, তবে অনেক দিন পরে তো তাই। এভাবে কুশলাদি বিনিময়ে কেটে গেল অনেকটা সময়। আজ নূরের সুর পাল্টে গেছে আগামীকাল বিকেলে দেখা করার জন্য বলেছে। হঠাৎ বর্ষা ভূলে গেল তার বাড়ী, বাবা-মা, আলম ও বিয়ের কথাকে। আজ রাতে আর আলমের সাথে কথা হলো না। পরের দিন নূরের সাথে দেখা হবে!! নূর কি বলবে? বর্ষার কি বলা উচিত এসব নিয়ে কেটেছে রাত-দিন। এরই মধ্যে আলম বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে কিন্তু বর্ষা রিসিভ করেনি।

পরের দিন বিকেলে বর্ষা বাইরে আসবে এমন সময় নূরের ফোন! কি তোমার আসার কথা ছিল।
হ্যা আমি রেডি হচ্ছি। ওকে আমি তোমার হলের সামনে। পরে দুজনেই আসে ইবলিশ চত্বরে (রাবির একটি চ্ত্বরের নাম) সন্ধ্যার পর অবধি সময় কাটে। অবশ্য এদিন আরো অনেকেই ছিল তাদের সাথে তবে নূর আর বর্ষা ছিল একটু ঘনিষ্টতা। পাশ থেকেও কেউ কেউ বুঝলো বর্ষার দীর্ঘদিনের কামনা পূরণ হচ্ছে আজ।

সন্ধ্যার পরে হাটিহাটি করে বর্ষাকে হলে দিয়ে ফেরত এলো নূর। পরের দিনও দেখা হয়েছে রাতে কথা হয়েছে। সব বিষয়ে শেয়ার করার পরে নূর বর্ষাকে বলেছে আপাতত বিয়েতে তোমার মত দেওয়ার দরকার নাই। পড়ালেখা শেষ করো আমি কিছু একটা শুরু করি তখন আমি তোমার বাসায় প্রস্তাব পাঠাবো।

এদিকে আলম বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়ার পরে নিজেকে আবেগী হিসেবে আবিষ্কার করলো। অবশেষে বর্ষা নিজের থেকেই ফোন দিয়েছে। তবে সেই ফোন কোন আলাপের জন্য না বর্ষা আজ আলম কে জানাতে চায় সে এখন বিয়ে করবে না। এমন কথা শুনে আলম যেনো আকাশ থেকে পড়লো। কেন এমন হলো বলতো । বর্ষা বলল আমি জানি না। তবে আপাতত আমি বিয়ে ভাবছি না। আশা করি বিষয়টা নিয়ে আর আগাবো না। তাই হলো শেষ পর্যন্ত।

নিজের অজান্তেই আজ বর্ষার মন থেকে বেরিয়ে আসছে কবির সেই লাইন অনেকটা পথ হেঁটেছি, কারণে বা অকারণে। কখনো কেঁদেছি আবার কখনো বা হেসেছি। কিন্তু আজও বুঝতে পারিনি, জীবনটা আসলে কি? সুখের নাকি দুঃখের…!

বহু পথ পারি দিলাম সঙ্গীরা বলছে ক্লান্ত তাই বসেছে, আমি একটু সুখের সন্ধানে পা মেলালাম দেখি ওমা! একি সুখ পৃথীবির সব সুখ ই এই হাটার মাঝে আমি আগে বুঝি নাই। মনে হচ্ছে আগে আগে জানলে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাটতাম।

বর্ষা ফিরে পেল তার পুরানো জীবন। হঠাৎ আলমের ফোন তাকে দিচ্ছে যন্ত্রনা। কেন এমন হলো আমার জীবনে। কেন নূর এলো না আর ৫টা দিন আগে। তাহলে এমন হতো না। বর্ষা ভাবছে আজ আলমের অবস্থা। বাবা-মাকে কেমনে বলবে নূরের কথা। তার খূব কাছের আপুকে বর্ষা কিভাবে বুঝাবে পরের ঘটনা। বিয়ে প্রসঙ্গ আপাতত থেমে থাকলেও আর এক মাস পরে ঈদ।

এই ঈদে বর্ষার বিয়ে নিয়ে বাড়ীতে আলোচনা। আলমের সাথে বিয়ে ভাঙলেও এখনই বিয়ে করবে না নূর তাহলে বাড়ী কেমনে ম্যানেজ করা হবে। এ নিয়ে দিন কাটে তবে আজ হতাশা নয় এবার দ্বিধা কি করা উচিত। আলমকে ছেড়ে আসলে নূর কথা রাখবে তো? নাকি বিয়ের কথা শুনে আমাকে আরেকটু কষ্ট দেওয়ার জন্য বা জৈবিক তাড়না মেটানোর জন্য আমার দূর্বলতাকে ব্যবহার করছে??

ঢাকা// ০৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর