[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবি শিক্ষার্থী আব্বাসের বিসিএস দেয়া হলো না


প্রকাশিত: July 6, 2015 , 9:56 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,ফিচার,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্বাসের পদচারণায় আর মুখরিত হবে না শহীদুল্লাহ কলা ভবন। ৫ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল বয়ে আর আসবেনা ক্লাস করতে। ক্লাসে ঢুকতে দেরী হওয়ার জন্য চোঁখ রাঙ্গাবে  না কোন শিক্ষক।

তাঁকে নিয়ে জমে উঠবে না সেই জমজমাট হাসি মাখা আড্ডা।  বন্ধুরা কখনো হৈচৈ করবে না।  সকাল বেলা জোর করে আর আব্বু-আম্মুর ঘুম ভাঙ্গাবে না।  সেই ‘পরিশিলন’ কোচিং সেন্টার চলবে না।

আব্বাস আলী এখন একটি নাম! তাঁকে নিয়ে কয়েকদিন হয়তোবা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকের প্রতিটি পাতায় চলবে আলোচনার ঝড়। বইবে শোকের বাণী।

সেই আব্বাসের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ‘বিসিএস’ পরীক্ষা দিয়ে কোন ভালো চাকরি করে অভাবী পিতার সংসারের দু:খ ঘোচাবে বলছিলেন তাঁর কৃষক বাবা আব্দুল কুদ্দুস। কিন্তু তাঁর বহুদিনের সেই লালিত আশা যেন এক নিমিষেই কেড়ে নিলো নিষ্ঠুর সেই ভয়াল ব্লাড ক্যান্সার।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।আব্বাস। কিছু দিন আগে থেকেই তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন।  পরিবারের সামর্থ্য ছিল না যে ভালো চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠাবে।

তারপরেও পিতা-মাতা বুকে আশা নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করে। তাঁকে বাঁচানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে বিভাগের সহ-পাঠিরা। তাঁর বুকের সেই লালিত স্বপ্নপূরণ করার জন্য বন্ধুরা সবাই মিলে বিভিন্ন বিভাগ, প্রতিটি আবাসিক হলসহ হাত পেতেছেন বিত্তবানদের কাছে।

কিন্তু তিনি যে চলে যাবেন সেই না ফেরার দেশে সে কথা কেউ জানতো না। সর্বনাশী সেই রোগ থেকে তাকে আর কে ফেরায়? আব্বাসের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথে তার সহ-পাঠিরা দ্রত চলে যান মেডিকেলে।

কিন্তু তাঁরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার ভবনেই ক্লাস করা সেই প্রিয় বন্ধুটির নিথর দেহটি পরে আছে মেডিকেলের বিছানায়। চোখের পাপড়ি দুটি নিভু নিভু করছে। তার দেহটি দেখে চোঁখের পানি সামলাতে পারেননি সহ-পাঠিরা।

হাসপাতাল থেকে তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় চিরচেনা সবুজ গ্রামে। যেখানে প্রতিদিন তাঁর হাটুনিতে মুখরিত হতো সবাই। যেই বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস শেষে প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে প্রবেশ করতো। সেই গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন তিনি লাশ হয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাওয়ার জন্য প্রশাসন থেকে একটি বাস দেয়া হয়।

লাশ নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মেধাবী মুখখানা দেখার জন্য সবাই ব্যস্ত হয়। একবার দেখে চির দিনের জন্য বিদায়ী হাত ছানা দেয়া সেই আব্বাস আলীকে। দুপর ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত যেন গ্রামের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।  মৃতের জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সেই স্থানে যেখানে প্রতিদিনই তিনি বসে থাকতেন।

আব্বাসের বাসা গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া পুকুর গ্রামে। তিন ভাই বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার বড়। তারা বাবা গ্রামের কৃষক বাবা আব্দুল কুদ্দুস। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন।  পরিবারের অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি ‘পরিশিলন’ নামে একটি কোচিং সেন্টার চালু করেছিলেন।  ছেলের অকাল মৃত্যুতে মা হাসিনা বেগম যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

আব্বাসের বাবা আব্দুল কুদ্দুস কান্না জড়িত কন্ঠে ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আব্বাসের শখ ছিল বড় হয়ে বিসিএস পেয়ে কোন একটি ভালো চকারি করবে। কিন্তু তার সেই ইচ্ছা আর কোনো দিন পূর্ণ হলো না।

তিনি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে আরও বলেন, আমার অনেক আশা ছিল ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে পরিবারের হাল ধরবে। সংসার চালাতে আমার কোন কষ্ট হবে না। কিন্তু ভাগ্য সে স্বপ্ন আমার বুকের ভিতরই রয়ে গেল’।

তাঁর বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সাইফুল ইসলাম, বাপ্পী,ফাওজুল আজীম, সুমনসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আব্বাস আমাদের খুব ভালো বন্ধু ছিল। আমাদের  ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে যে আব্বাস আর এই পৃথিবীতে নেই’।

বিভাগের সভাপতি প্রফেসর আজিজুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, তাঁর এ অকাল মৃত্যুতে আমি ব্যাক্তিগত ভাবেই গভীর শোকাহত। তাঁকে বাঁচানোর জন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনেক চেষ্টা করেছে।  কিন্তু সর্বশেষে ক্যান্সারের কাছে হার মেনে পরম সৃষ্টিকর্তার নিকট চলে যেতে হলো’।

রাবি// এমএন, ০৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর