[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আবাসন সঙ্কট নিরসনে চাই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ: ওয়াহিদুজ্জামান


প্রকাশিত: July 6, 2015 , 11:20 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ


জান্নাতুর রহমান তামিম: বিগত আড়াই দশকে দেশের আবাসন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। নগর জীবনে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার আবাসন সমস্যার সমাধানকল্পে আপাত বাণিজ্যিক এ খাত এক ধরনের শিল্পরুপ পেয়েছে। ফলে মেট্রাপলিটন সিটিগুলোতে আবাসন সঙ্কটের ক্রমবর্ধমান চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে।  সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।

আর এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু উদ্যমী, দুরদর্শি শিল্প-উদ্যোক্তার বিশেষ অবদান। তাদের মধ্যে অন্যতম মো. ওয়াহিদুজ্জামান। রিহ্যাব’র বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি। তার পরিচয় বহুধা বিস্তৃত। ব্যবসায়িক-সামাজিক নানা প্রতিষ্ঠানের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। সেবাধর্মী কাজে নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে পরিচিত মহলে তিনি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছেন।

মো. ওয়াহিদুজ্জামান দেশের আবাসন খাতের ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যাধুনিক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান জাপান গার্ডেন সিটি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। জাপান ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতে গড়ে ওঠা আবাসন শিল্পের প্রতিষ্ঠান জাপান গার্ডেন সিটি লি. ইতোমধ্যে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে শিল্প সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

যাদের সফল নেতৃত্বে জাপান গার্ডেন সিটি লি.-এর আজকের এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তার ব্যবসায়িক এবং সাংগঠনিক দক্ষতা জাপান গার্ডেন সিটি লি.-এর বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। তিনি দেশের আবাসন শিল্পের দুর্দিনে এই শিল্পকে মেধা ও শ্রম দিয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

মো. ওয়াহিদুজ্জামানের জন্ম ১ জুন ১৯৬৬ সালে ঢাকার এক বনেদি মুসলিম পরিবারে। পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে। পিতা এসএম খলিলুর রহমান বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সমাজ সেবক। মা খালেদা রহমান অত্যন্ত পরহেজগার ও ধর্মভীরু নারী।

তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের বিখ্যাত মোনাস ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টারস অব ল’ (এলএলএম)-এর ওপর থিসিস করেন। বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

স্বাপ্নিক এই মানুষটি অবশ্য ১৯৮০ সাল থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার প্রতিষ্ঠিত পারিবারিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ব্রিক ম্যানু. কর্পোরেশন লি. ও ক্রিসেন্ট হাউজিং লি.-এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি জিজিসি কর্পোরেশন এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের (সিইও) দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত সফলভাবে।

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব মো. ওয়াহিদুজ্জামান বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।  তিনি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) জেনারেল সেক্রেটারি, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই), সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও (এফবিসিসিআই)’র সম্মানিত সদস্য ও হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ছাড়াও ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা’র রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট।

কর্মপ্রিয় এবং সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব মো. ওয়াহিদুজ্জামান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শুধু ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে তার ব্যাপক পদচারণা।  দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দৃঢ়চেতা ওয়াহিদুজ্জামান সামাজিক দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে যাননি। তাই তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসএম খলিলুর রহমান কলেজ ও এমএম হাইস্কুল, মির্জাপুর, টাঙ্গাইলের গভর্নিং বোর্ডের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এছাড়াও মহিউদ্দিন ইকবাল মেমোরিয়াল এতিমখানার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মানবকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ মো. ওয়াহিদুজ্জামান সমাজে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের সামর্থনুসারে সব সময় সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন।  যেখানেই অসহায় মানুষের আর্তনাদ সেখানেই রয়েছেন তিনি। মো. ওয়াহিদুজ্জামন নিজ এলাকা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরবাসীর কাছে এখন একজন দানবীর, সমাজসেবক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত। প্রাণ প্রিয় মানুষ।

মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২০০৮ সাল থেকে রিহ্যাবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ২০০৮ সালে রিহ্যাবের ‘আর বিট্রেশন অ্যান্ড লিগ্যাল এইড’ এর চেয়ারম্যান ও কাস্টমার সার্ভিস স্ট্যান্ডিং কমিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান ও মেম্বার, ট্যাক্স, ভ্যাট স্ট্যাডিং কমিটি। রিহ্যাবের কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীকালে একই বছর ৫ আগস্ট রিহ্যাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের জুন মাসে আবার দায়িত্ব পেয়ে বর্তমানে এই পদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি শিল্প-বাণিজ্যের পাশাপাশি মিডিয়ার সাথেও সম্পৃক্ত হবার সুবাদে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন।

সম্প্রতি আমরা কথা বলি তার সাথে। বিষয় ছিল বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবাসন শিল্পের অবস্থানসহ জাতীয় বাজেটে রিহ্যাবের সমস্যা সমধানে সরকারের কাছে দাবি প্রসঙ্গে।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবাসন শিল্পের অবস্থান মূল্যায়ন করুন?

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতে চলছে এক ধরনের স্থবিরতা। বেচাকেনা একেবারেই কম। এই স্থবিরতা বা বাজার মন্দার পেছনে অন্যতম কারণ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের প্রবাহ কমিয়ে দেয়া। সুদের উচ্চ হারের ফলে অ্যাপার্টমেন্টের যোগান কমে গেছে, অন্যদিকে কমে গেছে সাধারণ ক্রেতার আগ্রহ ও ক্রয়ক্ষমতাও। এ কথা তো সত্য যে, এ সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিতিশীল, চলছে উত্থান-পতন। আমাদের দেশও একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য কিছুদিন ধরে দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে বেচাকেনা কিছু বেড়েছে।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: আপনাদের আবাসন ব্যবসা মূলত বিত্তবানদের জন্য। স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আপনারা কী ভাবছেন?

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: অবশ্যই আমরা স্বল্প ও মধ্যআয়ের মানুষের কথা ভাবছি। কিন্তু তাদেরকে আবাসন দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারেরও একটি দায়িত্ব আছে। আবাসন মানুষের মৌলিক চাহিদা। স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষেরা যাতে আবাসন মানুষের মৌলিক চাহিদা। স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষেরা যাতে আবাসন সমস্যায় না পড়েন সেজন্য ২৫-৩০ বছর মেয়াদী ঋণের ব্যবস্থা করা উচিৎ। একজন স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা তাহলে সহজেই একটি ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারে।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: এখন আগের চেয়ে রেজিস্ট্র্রেশন ব্যয় বেড়েছে। এতে করে সরকার কি লাভবান হচ্ছে?

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: রেজিস্ট্র্রেশন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার। কারণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রেজিস্ট্রির পরিমান কমে গেছে। ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। কাজেই সরকারের উচিত রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বর্তমান হার থেকে অর্ধেক নামিয়ে আনা।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: আবাসন তৈরিতে সরকারের ছাড়পত্র নেয়াটা একটি বড় সমস্যা। এর সমাধানে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বর্তমানে ১০ তলার উপরে উচ্চ ভবনের জন্য ১১টি সংস্থা থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এই কাজটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়-সাপেক্ষে। আমরা এটাকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস করার জন্য চেষ্টা করছি। আমাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে রাজউক ও পূর্ত মন্ত্রণালয়। আশা করছি আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা এটাকে ওয়ানস্টপ সার্ভিসে নিয়ে যেতে পারবো।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: আপনি দায়িত্বে থাকাকালিন রিহ্যাবের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলুন।

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: ডেভেলপার ও ক্রেতাদের মধ্যে যে কোন দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে ডেভেলপারদের আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা কোড অব বিজনেস কন্ডাক্ট ২০০৯ প্রবর্তন করেছি। যার ফলে এখন ক্রেতা ও বিক্রেতার (ডেভেলপার কোম্পানি) মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভব হয়েছে। সরকার কর্তৃক রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন আইন-২০১০ প্রণয়নকালে রিহ্যাবের প্রাক্তন সভাপতি নসরুল হামিদ বিপু এমপি’র নেতৃতে রিহ্যাব সদস্যদের স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করেছি।  তা হলো এখন আর কোনো ডেভেলপারের মিডেয়েশন (সমঝোতা) ও আরবিট্রেশন (শালিসি) ব্যতিরেকে কোনো ক্রেতা আদালতের দারস্থ হতে পারবে না।  এ ধরনের ‘প্রভিশন’ আইনের অন্তর্ভুক্ত করার ফলে ডেভেলপাররা নির্বিগ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন।

rehabএই শর্ত অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ‘রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন আইন ২০১০ এর যে কোন সমস্যায় ক্রেতা আদালতের মাধ্যমে ডেভেলপার কোম্পানীকে জেল জরিমানা করতে পারবে না, ক্রেতাকে অবশ্যই মিডেয়েশন ও আরবিট্রেশনের আওতায় এসে সমস্যার সমাধান করতে হবে, এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০-২০১১ সাল থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনও চুক্তি করেও প্রতারণার করতে না পারে এ জন্য ‘কমন ডিড অব এগ্রিমেন্ট’ নামে একটা খসড়া করে রিহ্যাব কর্তৃক অনলাইনে দেয়া হয়েছে। এখন সকল ডেভেলপারদেরকে এই ফরম্যাট অনুসরণ করে ক্রেতা ও বিক্রেতা চুক্তিবদ্ধ হবে। এটা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা কেউ কাউকে প্রতারিত করার আশংকা থাকবে না।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ এ বিরোধ নিস্পত্তি (১) রেজিস্ট্রেশন আইনের অধিনে রেজিস্ট্রিকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হইতে উদ্ভত যে কোন বিরোধ পক্ষগণ প্রথমে নিজেদের মধ্যে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে নিস্পত্তির চেষ্টা করবেন।  (২) উপ- ধারা (১) অনুযায়ী আপস-মীমাংসার পদক্ষেপ গ্রহণের পর যদি কোন পক্ষের অসহযোগিতার কারণে উহা ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে অপরপক্ষ বিবাদমান বিষয়টি একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যেমে নিস্পত্তির জন্য অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান করবেন।

ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থে আমরা ‘কোড অব বিজনেস কন্ডাক্ট’ ফলো করছি। যে সমস্ত ডেভেলপার এই নিয়ম মানছে না তাদেরকে ‘রিহ্যাব সদস্য পদ’ থেকে আমরা বাদ দিই। জাতীয় বাজেট ২০১৩-১৪ এ আমরা রিহ্যাব সদস্যদের জন্য (আবাসিক ও অনাবাসিক) প্রতিবর্গ মিটারে ২০% আয়কর হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ববোর্ড (এনবিআর) এর সাথে বহু দেনদরবার করে পূর্বের ভ্যাট ১.৫% রাখতে সক্ষম হয়েছি। তারা এটাকে ১৫% বর্ধিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। আমাদের প্রচেষ্টায় অপ্রদর্শিত আয়কে আবাসন খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে সরকারকে আমরাই উদ্যোগী করেছি।

রিহ্যাব সদ্যসদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল রিহ্যাবের একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য সরকারী জমি। ইতিমধ্যে আমাদের প্রচেষ্টায় রিহ্যাব উত্তরায় রাজউক কর্তৃক জমি বরাদ্দ পেয়েছে। স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন চাহিদা মেটাতে সরকার যাতে উদ্যোগী হয় সেজন্য সিঙ্গেল ডিজিটে সুদ প্রদান ও দীর্ঘ মেয়াদী বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। সে লক্ষ্যে রিহ্যাবের বর্তমান কমিটি জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজউক, গণপূর্ণ ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়, রিহ্যাব ও এফবিসিসিআই সম্মিলিতভাবে একটি কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

এই কমিটি সংগঠিত হলে রাজউকসহ যে কোন সমস্যা সমাধান সহজতর হবে। তেজগাঁওসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাল্টি স্টোরেজ বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের যে কঠোর নিয়ন্ত্রন ছিল তা আমরা শিথিল করতে সক্ষম হয়েছি। আবাসিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা আমরা করেছি। বহুতল ভবন ও বৃহদায়ন প্রকল্পের এন ও সি যাতে সহজে পাওয়া যায় সে লক্ষ্যে রাজউকে একটি ওয়ান উইন্ডো সেল গঠনের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জি. মোশারেফ  হোসেন সাহেব তার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করি শিগ্রই এর সুফল আমরা পাবো। রিহ্যাবে কোন নতুন সদস্য অন্তর্ভূক্ত হলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করার রীতি আমরা প্রচলন করেছি।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে আপনি কেমন বলে মনে করছেন? সরকারের ভূমিকা ব্যবসা-বান্ধব, না ব্যবসা-বৈরী?

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বর্তমানে কিছুটা ধীর গতি। গত তিন বছরে রাজস্ব আদায়ে সরকারের বিরাট সাফল্য আছে। এছাড়া সাফল্য আছে বিদ্যুৎ, রপ্তানী বাণিজ্য, প্রবাসী-আয়সহ আরও বেশ কিছু খাতে। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার যদিও এ বছর কিছুটা কমার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে এ জন্য অবশ্য রাজনৈতিক অস্থিরতাই দায়ী। তবে অবকাঠামো খাতে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি এখোনো হয়নি। যেটি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বা সুষ্ঠুভাবে এখাত পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের কিছু অদক্ষতা বা ব্যর্থতা আছে। এ কারণে শেয়ারবাজার বা হলমার্ক কেলেঙ্কারি মতো ঘটনাগুলো ঘটছে। সরকারকে অবশ্যই ব্যবসা বান্ধব হতে হবে। উল্লেখ্য সরকারী জাতীয় বাজেট ২০১৪-২০১৫ প্রণয়নের সময় আবাসন খাতের মন্দা অবস্থার কথা চিন্তা করে অনেকগুলো ভালো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি বর্তমান সরকারও এ রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ২০১৫-২০১৬ সালের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময়।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: জাতীয় বাজেট ২০১৫-২০১৬ দেশের গৃহায়ন শিল্প রক্ষার্থে রিহ্যাবের প্রস্তাবনা কি?

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বিগত কয়েক বৎসর যাবৎ রিয়েল এস্টেট ব্যবসা অত্যন্ত মন্দার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকার কারণে গৃহায়ন শিল্প চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পতিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন বাজীয় বাজেট ২০১৫-২০১৬ এ রিহ্যাবের প্রস্তাবনা সমূহ: ১।  আবাসন শিল্প রক্ষার্থে অবিলম্বে ‘হাউজিং লোন’ নামে ২০,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। এই তহবিল থেকে ক্রেতা  সাধারণকে চাহিদামত ঢাকা শহরের আশে-পাশে বা মিউনিসিপ্যাল এলাকার পার্শ্বে ১৫০০ বর্গফুট বা তার চেয়ে ছোট ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য নূন্যতম ৭%-৯% সুদে ঋণ প্রদন করা প্রয়োজন। ২। বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ কোন প্রশ্ন ব্যতিরিকে ভবন বা এ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগের জন্য অর্থাৎ ইনডেমিনিটির সুযোগ রেখে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ১৯ বিবিবিবিবি-তে ইনডেমিনিটি (অর্থাৎ বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ কোন প্রশ্ন ব্যতিরিকে ভবন বা এ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ সুযোগ) সংযোজন করা। ৩। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন রেজিষ্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট কর যথাক্রমে গেইন ট্যাক্স ৪% থেকে কমিয়ে ২%, ষ্ট্যাম্প ফি ৩% থেকে কমিয়ে ১.৫% ও মূল্য সংযোজন কর ৩% থেকে কমিয়ে ১.৫% নির্ধারণ করা। ৪। গৃহায়ন শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৮২ সি(৪) এবং ধারা ৫৩ এফ এফ অনুসারে যথাক্রমে আবাসিক (শ্রেণী-১) ১৬০০/- থেকে কমিয়ে ১৩০০/- টাকা, (শ্রেণী-২) ১৫০০/- থেকে কমিয়ে ১২৫০/- টাকা, (শ্রেণী-৩) ৬০০/- থেকে কমিয়ে ৩০০/- টাকা এবং অনাবাসিক (শ্রেণী-১) ৬৫০০/- থেকে কমিয়ে ৪০০০/- টাকা, (শ্রেণী-২) ৫০০০/- থেকে কমিয়ে ২৫০০/- টাকা, (শ্রেণী-৩) ১৬০০/- থেকে কমিয়ে ৮০০/- টাকায় হ্রাস করা। ৫। অন্তত পাঁচ বৎসরের জন্য দেশের সকল ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনা শুল্কে ভবনের অগ্নি নিরাপত্তার জন্য অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল প্রকার যন্ত্রপাতি আমদানীর অনুমতি প্রদান।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম: রিহ্যাবের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে আপনার কাছে প্রশ্ন। সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যাপারে আপনাদের চিন্তাধারা কী?

মো. ওয়াহিদুজ্জামান: রিহ্যাব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা তাগিদ থেকে আমরা সিডর আক্রান্তদের জন্য সাইক্লোন সেল্টার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর মহিলাদের জন্য অত্যাধুনিক বেড প্রদান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সেবা প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান করে আসছি। অদ্যাবধি বিভিন্ন হাসপাতালে আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। যেখানে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সহযোগিতার আমরা নির্দ্বিধায় এগিয়ে গিয়েছি।

ঢাকা// ০৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর