[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আলোকিত সমাজের প্রতীক ইঞ্জি. আরিফ


প্রকাশিত: July 9, 2015 , 7:24 pm | বিভাগ: অন্যান্য,আদার্স,আর্টস এন্ড লিটারেচার,ফিচার


SAM_3321লাইভ প্রতিবেদক: আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। দুপাশে সবুজ গাছের সারি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বই হাতে স্কুলে যায়। গ্রামের বন জঙ্গল পেরিয়ে মাঠঘাটের শেষ নেই। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একে বারে নগন্য।

প্রায় ১০হাজার লোকের বসবাস করলেও ১টি প্রাইমারি স্কুল, ১টি হাইস্কুলই এই গ্রামের শিক্ষার্থীদের শেষ ভরসা। লক্ষ্মীপুর জেলার ১৮নং কুশাখালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ফরাশগঞ্জ গ্রামের রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ চোখে পড়ে একটি লেখা ‘আলোকিত পাঠাগার’।

প্রত্যন্ত একটি গ্রামে আলোকিত পাঠাগার দেখে একটু অবাক হওয়ারই কথা। পাঠাগারের ভেতরে বই পড়ার জন্য একটি বেঞ্চ আর বই রাখার জন্য একটি সেলফ রয়েছে। ডেল কর্ণেগী, আনা ফ্রাঙ্কের ইতিহাস, নেলসন মেন্ডেলার জীবনী, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা, উঠোন পেরিয়ে দুপা ছাড়াও পৃথিবীর বিখ্যাত বিভিন্ন ব্যক্তির লেখা বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৪৫০টি। এই পাঠাগারের পাঠক গ্রামের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও রয়েছে আশপাশের গ্রামের বইপ্রেমিকরা।

‘আলোকিত পাঠাগার’ এর উদ্যোগতা ও প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ বলেন, ছোটবেলায় বই পড়ার অভ্যাস থেকে পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আশপাশে কোন গ্রামে স্বাধীনতার পরবতীর্তে পাঠাগার গড়ে না ওঠায় লক্ষ্মীপুর শহর থেকে বই কিনে এনে পড়তে হয়েছে আমকে। যা আসাতে সারাদিন চলে যেত তবুও বই এনে পড়তাম।

SAM_3259

তখন থেকে ইচ্ছে ছিল গ্রামে একটি পাঠাগার স্থাপনের। সমবয়সী বন্ধুদের নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও একটা পাঠাগার করতে পারি নাই ১০বছর ধরে। বরং বিভিন্ন সময় আমার কথা শুনে অনেকে আমাকে বিদ্রুপ করতো। এলাকার অনেকের কাছে একটা সেলফ কেনার টাকা চেয়েও পাইনি তখন। অবশেষে আমি নিজে শহরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ফাঁকে ফাঁকে টিউশান করে টাকা জমাতে থাকি। সাহস করে এবছর পাঠাগারটি শুভ উদ্ধোধন করি।

পাঠাগারের নাম কেন আলোকিত এমন প্রশ্নের উত্তর যেন পাঠাগারের অধ্যয়নরত পাঠকদের দিকে তাকালেই পাওয়া যায়। তবুও পাঠাগারের সংস্পর্শে বইয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা জন্মানোর পাশাপাশি মানুষের ভেতরে অন্ধত্ব দূর হবে এমন চিন্তা থেকে পাঠাগারের নাম ‘আলোকিত পাঠাগার’ রাখা হয়েছে। দু-একজন আমাকে পাঠাগারের জন্য কিছু বই দিয়ে সাহায্য করেছে। কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান আমার পাঠাগারের জন্য ১০টি বই দিয়েছেন। কবি হাসান রাউফুনও কিছু বই দিয়েছে। শহর থেকে আমার পাঠাগারে এখন নিয়মিত পত্রিকা আসে। গ্রামের লোকজন এখন নিয়মিত পাঠাগারে এসে পত্রিকা পড়ে।

প্রথম প্রথম অনেকে পাঠাগার দেখে হাসাহাসি করতো। অনেকে পাঠাগার কে পাঁঠাগার বলেও তিরস্কার করতো। এখন সবাই বুঝতে পারছে এর প্রয়োজনীয়তা। আলোকিত পাঠাগার এই গ্রামে একদিন আলো ছড়াবে আমার বিশ্বাস। শিক্ষিত যুবকদের একটা অংশ আগে জুয়া খেলায়, টিভি দোকানে আড্ডা দিত। তাদের একটা অংশ এখন পাঠাগারে সময় দেয়। পাঠাগারের মাধ্যমে বৃত্তিধারী ও জিপিএ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবধনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করা হয়। স্কুলে স্কুলে বির্তক ও সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।

সমাজের জন্য পাঠাগার না পাঠাগারের জন্য সমাজ। এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে নিজে উদ্যোগী হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন আলোকিত পাঠাগার। যেখানে প্রতিদিনই ঘটছে জ্ঞানের সঞ্চালন। পাঠাগার যেমনি জ্ঞানের মাধ্যম তেমনি সমাজেরও একটি খুঁটি। আর ফরাশগঞ্জ গ্রামের খুঁটিটি নির্মান হয়েছে এই গ্রামের আলোকিত সমাজের প্রতীক ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ এর হাতে।

ঢাকা// ০৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচকে