[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



থাইরয়েড সমস্যা ও করণীয়


প্রকাশিত: July 23, 2015 , 8:31 pm | বিভাগ: আপডেট,হেলথ


প্রফেসর ডা: শুভাগত চৌধুরী: থাইরয়েড গ্রন্থিটি শরীরের বিপাকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সন্দেহ নাই। এর সমস্যাও বেশি হয় নারীদের, পুরুষের তুলনায়। থাইরয়েডের লঘুক্রিয়া বা ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ রোগে পুরুষের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি ভোগেন নারীরা। কোনও কোনও বিজ্ঞানীর ধারণা, স্ত্রী হরমোন ইস্ট্রোজেন শরীরের অটোইমুন সমস্যা, এমনকি থাইরয়েডের সমস্যাকে উস্কে দেয়। তবে এটাও ঠিক কেন যে মহিলাদের থাইরয়েড সমস্যা হয় তা অস্পষ্ট।

দেহের বিপাককে নিয়ন্ত্রণ করা হলো থাইরয়েডের মূল কাজ। গলদেশে অবস্থিত এই ছোট গ্রন্থিটি তৈরি করে যে হরমোন তা নিয়ন্ত্রণ করে দেহ বিপাক বা Metabolisin আমাদের দেহযন্ত্রের কাজ কর্মের গতির উপর প্রভাব ফেলে থাইরয়েড হরমোন; কত দ্রুত বা কত শ্লথ শরীর গ্রহণ করবে অক্সিজেন, তৈরি করবে প্রোটিন এবং সাড়া দেবে অন্যান্য হরমোনের প্রতি।

কখনও কখনও ঠিকমত কাজ করে না থাইরয়েড। লঘু হয় এর কাজকর্ম, স্বাভাবিকের চেয়ে কম হরমোন হয় তৈরি, আমরা একে বলি ‘হাইপোথাইরয়েডিজস্’। আবার খুব বেশি সক্রিয় হলে, বেশি হরমোন নি:স্মরণ হয়, একে বলি ‘হাইপারথাইরয়েডিজ্ম’। শরীর ভারি হলে স্থূল হলে, ভাবি আমরা, কারণ খুজি। একটি কারণ হলো থাইরয়েডের লঘুক্রিয়া বা হাইপোথাইরয়েডিজম।

থাইরয়েড হরমোন অল্প থাকতে, দেহের বিপাক ধীর হয়ে যায়, এজন্য ওজন বাড়ে শরীরে। এজন্য শরীরে জমে পানি, চর্বি ও খনিজ। আবার থাইরয়েড অতিসক্রিয় হলে বিপাক হয় দ্রুতগতি, ওজন ঝরে শরীরের। হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি উপসর্গ হলো ক্লান্তি ও অবসন্নতা। থাইরয়েড লঘু ক্রিয়ার উপসর্গের সঙ্গে থাকে ধীরগতি বিপাক কর্ম। ক্লান্তি ও শরীরে ওজন বাড়ার সঙ্গে থাকে বিষন্নতা, কোষ্টবদ্ধতা, শ্লথ শরীর, শুষ্ক ত্বক ও শুষ্ক কেশ এবং পেশির খিচুনি। কারো থাইরয়েড স্ফীত হয়, বলি গলগন্ড।

যেসব মহিলা রজ: নিবৃত্তির পথে, এদের মধ্যেই বেশি হয় লঘুক্রিয়া থাইরয়েড, উত্তর চল্লিশ বা উত্তর পঞ্চাশে। হয়ত হরমোন পরিবর্তনের জন্য। অতিসক্রিয় থাইরয়েড হলে বিপাক হয় দ্রুতগতি। উপসর্গ হলো ওজন হরাস, দুশ্চিন্তা, নার্ভাসনেস, বদমেজাজই দ্রুতগতি হূদযন্ত্র। অন্ত্রের চলন দ্রুতগতি, ঘাম হওয়া, হাত কাঁপা, পেশি দুর্বলতা, গর্ভবতী মহিলা থাইরয়েড গ্লান্ডের পরিবর্তনের শিকার হতেই পারেন।

গর্ভবতী মহিলাদের এমন সব শরীরবৃত্তিক পরিবর্তন হয় যা প্রভাব ফেলে থাইরয়েডের উপর। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় কিছু হরমোন যেমন ইস্ট্রোজেনের মান উচুতে উঠে, যা রক্তে থাইরয়েড হরমোন মানকে দেয় বদলে। তবে অধিকাংশ সময় গর্ভাবস্থাতেও থাইরয়েড কাজ কর্ম থাকে স্বাভাবিক। তবে গর্ভাবস্থায় হরমোনের চাপ থেকে হতে পারে থাইরয়েডের লঘু বা অতিক্রিয়া। আমেরিকার মত দেশে থাইরয়েডের লঘুক্রিয়া বা অতিক্রিয়ার সবচেয়ে সচরাচর কারণ হলো ‘অটোইম্যুন ডিসঅর্ডার’।

অতি সক্রিয় থাইরয়েডের সবচেয়ে সচরাচর কারণ হলো ‘গ্রেভস ডিজিজ’- একটি অটোইম্যুন বৈকল্য; দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন নিজস্ব থাইরয়েডকে আক্রামণ করে এবং একে খুব বেশি থাইরয়েড হরমোন নি:সৃত করতে প্রনোদিত করে, তখন ঘটে এই সমস্যা। লঘুক্রিয়া থাইরয়েডের মূলে আছে হাসিমটোর রোগ, দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইম্যুন ব্যবস্থা আক্রমণ করে থাইরয়েডকে ঘটায় ক্রনিক প্রদাহ; থাইরয়েড হরমোন নি:সরণ হয় ব্যাহত।

থাইরয়েড নডুল হলেও হতে পারে হাইপার থাইরয়েড, আবার আয়োডিন ঘাটতি বা পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যার কারণেও হতে পারে হাইপোথাইরয়েড। পরিবারের কারো থাইরয়েড সমস্যা থাকলে পরবর্তীতে থাইরয়েড সমস্যার সম্ভাবনা বেশি প্রজন্ম পরম্পরায়। থাইরয়েড কাজ কর্ম স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত ৩৫ বছর বয়স হলেই। আমেরিকান থাইরয়েড এসোসিয়েশনের পরামর্শ

থাইরয়েড স্ক্রিনিং পূর্ণ বয়স্কদের:

শুরু করা উচিত ৩৫ বছর বয়স থেকেই। এরপর প্রতি পাঁচ বছরে একবার। রক্তের টি.এস.এইচ (TSH) মান ও প্রয়োজনে টি-৩ ও টি-৪ (T3 ও T4) মান। হাইপোথাইরয়েড হলে মূল থাইরয়েড হরমোন থাইরক্সন। থাইরক্সিনের সিনথেটিক রূপটিই সবচেয়ে ভালো।

প্রাণীজাত থাইরক্সিন ব্যবহূত হত, তত নিরাপদ নয়। হাইপারথাইরয়েড হলো নানা চিকিত্সা। যেমন- এন্টিথাইরয়েড ড্রাগ; থাইরয়েড হরমোন উত্পাদনের ক্ষমতা রোধ করা। প্রয়োজনে রেডিও একটিভ্ আয়োডিন, যা যেসব কোষ থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে এদের ধ্বংস করে, অথবা শল্য চিকিত্সা করে থাইরয়েড অপসারণ। চিকিত্সক সব

দেখে চিকিত্সা দেবেন। থাইরয়েড রোগ চিকিত্সা বড় জরুরী। চিকিত্সা না হলে পরিনতিতে হয় দীর্ঘ মেয়াদী নানা জটিলতা। যেমন হূদরোগ, স্ট্রোক, অস্টিওপরোসিস, বন্ধ্যাত্ব, মানসিক রোগ ও অকাল প্রসব।

লেখক:পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা

ঢাকা// ২৩ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস