[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ইবিতে শিক্ষক নিয়োগে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য!


প্রকাশিত: July 28, 2015 , 4:14 pm | বিভাগ: আপডেট,খুলনার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,প্রফেশন


ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে মোটা অংকের অর্থের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের সভাপতি, নিয়োগ বোর্ডের এক্সপার্ট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক কর্তাব্যক্তিসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা অর্থের এই লেনদেনের সাথে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অর্থের লেনদেনের কারণে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পাওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকেই। মঙ্গলবার এই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যেখানে পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থীদের নিয়োগ দিতেই এই বোর্ডের নাটক মঞ্চস্থ করা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।তবে শেষ পর্যন্ত চাকরী প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের বাঁধার মুখে এ নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।

সূত্র মতে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে লেকচারার পদে ৪জন এবং এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ১জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু লেকচারার পদের জন্য ৬৬ জন প্রার্থী ও এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রার্থীদের আবেদন যাচাই বাছাই শেষে গত ২৩ জুন বিভাগটির নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। সেই সময় ছাত্রলীগের চাকরি প্রার্থী নেতাকর্মীদের বাঁধার মুখে বোর্ডেটি স্থগিত করে ২৮ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে এই বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে এখন অর্থের ছড়াছড়ি চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভাগটির নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য প্রফেসর ড. আ ন ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সুদিপা বসু সুপ্তি নামের এক প্রার্থীর সাথে আর্থিক চুক্তির বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে।

অপরদিকে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেনের প্রার্থী হিসেবে সোমা এবং মিথিলা তানজিম নামের দুই প্রার্থী লেনদেনের মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া শামীমা নাসরিন সোনিয়া নামের একজন প্রার্থী কুষ্টিয়া জেলার একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার সাথে আর্থিক লেনদেন করেছেন বলেও জানা গেছে। একইভাবে অর্থনীতি বিভাগের বিএনপিপন্থী শিক্ষক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদের সন্তান আহসান কবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সদস্যকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে শিক্ষক হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। ইমরোজ আহসান, মশিউর রহমান মামুন এবং শাহেদ নামের ৩জন প্রার্থী ঝিনাইদহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন অর্থনীতি বিভাগের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র বলছে, এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ড. সাজ্জাদ হোসেনের নিয়োগের বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের ছড়াছড়ির কারণে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়ার আশঙ্কায় ভূগছেন। বিভাগের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এবিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল কল রিসিভ করেননি।

ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, অর্থনীতি বিভাগের নিয়োগ বোর্ড নিয়ে যদি কোন অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তা হলে সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইবি// এমজে, ২৮ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস