[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সাভারে মাশরুম কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত


প্রকাশিত: July 30, 2015 , 6:38 pm | বিভাগ: আপডেট,প্রফেশন,বিজনেস


সাভার লাইভ: চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে সাভারে মাশরুম কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার কর্মহীন ব্যক্তিরা মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন।

জাতীয় মাশরুম কেন্দ্রের ডুমুর তলায় প্রকল্পের কর্মচারীরা জানান, সাভারের জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি সারা বাংলাদেশে ষোলটি সাবসেন্টারসহ ১১৫ জন কর্মী নিয়ে কাজ করে আসছিলো। বাংলাদেশে মাশরুমের জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রকল্পহীন হয়ে পড়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানের শতাধিক মাশরুম কর্মী।

তারা জানান, চলতি বছরের জুনে তারা বেকার হয়ে পড়েন। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক তাদেরকে দিয়ে এখনো কাজ করিয়ে নিচ্ছিলেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, ‘মাশরুমের উপ-পরিচালক অনবরত আমাদের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন আমাদের আর বুঝার বাকী নেই যে, পরিচালক আমাদের জন্য তেমন কিছুই করতে পারছেন না।

আন্দোলনরত মাশরুম কর্মীদের সাথে একাত্ততা ঘোষণা করে বিশিষ্ঠ লোক সংগীত শিল্পী এবং মাশরুম উদ্যোক্তা বাউল জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জাতীয় মাশরুমে শতাধিক মাশরুমের জাত সংরক্ষিত আছে। আমরা সারা বছর এইসব জাতের চাষ পদ্ধতির চর্চা ও পরবর্তীতে চাষী পর্যায়ে সম্প্রসারণ চাই।’

জানবিবি মাশরুমের স্বত্বাধীকারী লিলি খানম জানান, অনেকটা পারিবারিক সম্পর্কের মতই জাতীয় মাশরুমের প্রশিক্ষিত কর্মীদের সেবা গ্রহণ করে আসছি। প্রশিক্ষিত এইসব কর্মীদের কর্ম হারানোর শঙ্কা আমাদের হতাশ করেছে। জাতীয় মাশরুম কর্মীরা কর্মহীন হলে মাশরুম শিল্প পিছিয়ে পড়বে।’

মাশরুম কর্মীদের সাথে একাত্ততা প্রকাশ করে স্বাধীন বাঙলা মাশরুমের স্বত্তাধীকারী রাশেদা আক্তার জানান, ‘আমিতো আর কিছু জানি না। মাশরুম উৎপাদন শিখেছি। আমি জাতীয় মাশরুম ব্যাপক কর্মজজ্ঞ নিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে যাবে এটাই আমাদের দাবি।’

বিগত ১০ বছর যাবত মাশরুম বিপণনে অভিজ্ঞ বেদানা হাসান কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, ‘আমি বস্তিতে বাস করতাম। মাশরুম আমাকে সুন্দর জীবন দিয়েছে। ঢাকায় বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। আজ আমি বিপণনের জন্য মাশরুম পাই না। আমি এখন কোথায় গিয়ে দাড়াবো?’

মাশরুম গবেষক এবং উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা এবং জাইকার অর্থায়নে এখানে মোট ৪টি প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বেকার হচ্ছে শতাধিক কর্মচারী। বেকার হচ্ছে পিতা, বেকার হচ্ছে স্বামী, বেকার হচ্ছে ভাই, বোন, কারো বা স্ত্রী, বেকার হচ্ছে শ্বশুড়, হুমকীর মুখে এখন তাদের ঘর সংসার। কৃষি প্রধান দেশে এমন একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের সাথে জড়িত দক্ষ জনবল এক সাথে কর্ম হারানোর ঘটনা এদেশে বিরল।’

মাশরুম গবেষক মনিরুল শাহীন জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট নামের প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে, প্রতিষ্ঠানে রয়েছে অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল ও  স্থাপনা। শুধু অর্থের অভাবে সম্ভাবনাময় শিল্প ভেস্তে যেতে পারে না।

কোন প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এর মানব সম্পদ। বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে এই দক্ষ জনবল গড়ে উঠেছে। এই দক্ষ জনশক্তি ও তাদের কর্ম রক্ষার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’

মাশরুম একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে সারাদেশে পরিচিত। এর সম্প্রসারণের এমন স্বর্ণযুগে এটি বন্ধ হয়ে যাবে এমনটি মেনে নিতে পারছেনা মাশরুম সংশ্লিষ্টরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হলে তারা আরো বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।

গাজীপুর// ৩০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস