[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যে কারণে সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান


প্রকাশিত: July 30, 2015 , 7:52 pm | বিভাগ: আপডেট,ফিচার


uddan4আরিফ চৌধুরী শুভ: নগর জীবনের ক্লান্তি বা অবসাধ দূর করার জন্য ঢাকা শহরে যে সকল বিনোদন স্থান রয়েছে তার মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অন্যতম। শুধু বিনোদনের স্থান নয়, এখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইতিহাস।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণ এখান থেকেই দিয়েছিলেন। ৭ মার্চের স্মৃতি বিজড়িত এই জায়গাটির পাশে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

দর্শনার্থীর কাছে আকষর্ণীয় করে তোলার জন্য স্থাপন করা হয়েছে গ্লাস টাওয়ার। ঠিক তার পাশে রয়েছে পরিকল্পিত জলাধার এবং বসার স্থান। শিখা চিরন্তনকে সামনে রেখে মঞ্চস্থ হয় নানা অনুষ্ঠান।

uddan5প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনের স্পন্দন পেতে নগর বাসির কাছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান একটি অবসর সময় কাটানোর অতি প্রিয় স্থান এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। অথচ এখানে ময়লা আবর্জনা আর নানা কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে সৌর্ন্দয্য হারাচ্ছে স্থানটি।

সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থী। দিনের বেশির ভাগ সময় মালা হাতে ছোট ছোট শিশু মহিলা আর ভিক্ষুকের বিরক্তে স্থানটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন অনেকে।

কিছুক্ষণ পর পর হিজড়াদের একটি পরিকল্পিত গ্রুপ এসে চাঁদার নামে হয়রানি শুরু করে দর্শনার্থীদের। কেউ টাকা না দিতে পারলে তাদের মারপিটের ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা।

uddan1একটু অন্ধকার নামলেই শুরু হয় মদ গাঁজা আর ছিনতাইয়ের ঘটনা। কিছু আর্মড পুলিশ থাকলেও তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হিজড়াদের টাকা তোলার নামে চলছে অমূলক হয়রানি। নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন হিজড়া বলেন, তাদের উঠানো টাকা থেকে দায়িত্বরত পুলিশও ভাগ পায়। তাছাড়া কিছু উঠতি বয়সী যুবকও হিজড়াদের সেল্টার দেয়।

গ্লাস টাওয়ারের পাশে সৌন্দয্য বর্ধনের জন্য জলাধারের পানিতে প্রচুর পরিমানে ময়লা আর শেওলা জমে পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাই জলাধারের পাশে বেশিক্ষণ বসা যায় না। পানির নিচে সৌন্দর্য্য ছড়ানো পাথরগুলো শেওলাতে আবৃত হয়ে আছে।

uddan2এদিকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত টিকিট রাখা হয়েছে। স্কুল কলেজ কিংবা বিশ্বাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার না থাকার কারণে অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্বেও প্রবেশ করতে পারছেন না।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যদি যথাসময়ে না নেয়া হয় তাহলে অচিরেই সোহরাওয়ার্দী দর্শনার্থী শূণ্য হয়ে পড়বে। দর্শনার্থীদের প্রাণের দাবি এই স্থানটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে খুব শিগ্রই সৃষ্টি হওয়া সমস্যাগুলোর প্রতি নজর দিতে হবে। সেই সাথে শিক্ষার্থী ও শিশুদের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বিনামূল্যে প্রবেশের পাশাপাশি টিকিটের দাম ও কমানোর আহবান তাদের।

ঢাকা// ৩০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর