[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যে স্মৃতি চিরদিন অম্লান


প্রকাশিত: July 30, 2015 , 9:56 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট,চট্টগ্রামের ক্যাম্পাস,ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট


india 2সাইফুল ইসলাম: ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম ভারতে। ট্রেনিংয়ের ব্যস্ততার জন্য তেমন ঘোরাঘুরির সুযোগ হয়নি। তবে সুযোগ পেলে আর হাতছাড়া করিনি। ভারতে যাওয়ার পর তামিলনাড়ু প্রদেশের ওটিতে অবস্থিত সরকারি বোটানিক্যাল গার্ডেন ও সরকারি রোজ গার্ডেন দেখার সুযোগ হয়। ওটির সৌন্দর্য বলতে দর্শনার্থীরা বোটানিক্যাল গার্ডেনকেই বোঝান।

india 5সৌন্দর্যমণ্ডিত ওটিরও বেশকিছু বিশেষত্ব রয়েছে। এখানেই অবস্থিত দক্ষিণ ভারতের সবোর্চ্চ স্থান যার নাম ডোড্ডাবেট্টা (তামিল এই শব্দটির অর্থ বৃহৎ পর্বত)। প্রায় ৭৩৫০-৮০০০ ফুট উঁচু পর্বতে উঠতে অনেকগুলো ঝরণা চোখে পড়ে। পাহাড়ের ভিতর দিয়ে উর্দ্ধগামী রাস্তার দুপাশে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, চা বাগান ও বেশকিছু শহর রয়েছে। গাড়ির জানালা দিয়ে একটু দুরেই দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় লেগে থাকা মেঘমালা। ডোড্ডাবেট্টায় উঠার সময় পাহাড় ও পর্বত দুটিই চোখে পড়েছে। পর্বতটির পাদদেশে আছে ভারতের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও গোলাপ বাগান। চূড়া থেকে আমরা সোঁজা পাড়ি দিয়েছিলাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও গোলাপ বাগান দেখতে। আমার সাথে ছিল মাহি, শাহরিয়ার ও শাহজালাল। ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলা এই ছিল সবার কাজ।

৫৫ একর ভূমির উপর বিস্তৃত বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ১৮৪০ সালে স্কটল্যান্ডের অভিজাত সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিকল্পিত হয়েছিল। পরে ১৮৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বর্তমানে তামিলনাড়ু সরকারের উদ্যানবিদ্যা বিভাগের অধীনে রয়েছে। সৌন্দর্যমণ্ডিত এই বাগানটি শুরুতে ছিল সবজি বাগান! ইউরোপীয়দের সবজি সরবরাহ করা হত সেখান থেকে। তবে বর্তমানে এর অবস্থা জানলে হতবাক হয়ে যাবেন।

india 1বোটানিক্যাল গার্ডেনটিকে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা বৈচিত্রের গাছপালায় আচ্ছাদিত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ঔষধি গাছ। ফুলের সৌন্দর্যে কার না মন জুড়ায়!

বাগানটি ছয়টি সেকশনে বিভক্ত। সেগুলো হল New garden, Lower garden, Italian garden, Conservatory, Fountain terrace এবং Nurseries। এদের মাঝে ইতালিয়ান গার্ডেনটি দেখার সুযোগ হাতছাড়া করাই যাবে না।

india 3বাগানটিতে ৬৫০ প্রজাতির প্রায় ১০০০ হাজার প্রকারের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের দেশের চারাগাছ, গুল্ম, ফার্ণ, বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে। পাশাপাশি সজ্জ্বিত রয়েছে ঔষধি গাছ ও বনসাই। সেখানে Cork tree, Monkey puzzle tree, Paper bark tree নামক অনেক বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে। তেলদিয়ে পিচ্ছিল করা কলা গাছে বানর উঠতে পারে। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে এই Monkey puzzle tree তে বানর উঠতে ব্যর্থ হয়! তাই এমন নাম। বাগানটিতে প্রায় ২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো গাছের কাণ্ডের ফসিল রাখা আছে। পাঠ্যবইয়ে ফসিল নিয়ে পড়লেও এটাই ছিল আমার প্রথম ফসিল দেখা।

বাগানটির পাশে একটি টোডা নামক পাহাড় আছে। সেথায় ভারতের টোডা উপজাতিরা বাস করে। তবে সময়ের অভা্বে ওদিকটায় যাওয়া হয়নি।

india 4বাগানটি সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য মাত্র ১০ রুপি। হাতে ক্যামেরা থাকলে আরো ১০ রুপি নিবে। ফুল ধরা ছেড়া নিষেধ। বাগানটির ভিতর ছোটাছুটি করা যাবে না। তবে আমরা করেছি। গাছের আড়ালে লুকিয়েছি। ঝোঁপের ভিতর গিয়ে ছবি তুলেছি। সাইনবোর্ডের লেখাগুলো পড়ে সেই অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা ভাল। অন্যথায় জরিমানা গুণা লাগতে পারে। মে মাস হচ্ছে বাগানটি দর্শনের সবচেয়ে ভাল সময়। তখন সেখানে মাসব্যাপী নানা রকম ফুল ও বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের প্রদর্শনী চলে। সেথায় পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ হোটেল সুবিধা রয়েছে।

ছবি ও লেখার থেকে দেখার সৌন্দর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিষ্কার পর্বতের শীতল বাতাস (বার্ষিক তাপমাত্রার ০-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ফুটন্ত গোলাপ, গুল্ম এবং বিরল প্রজাতির ফুলের সুবাস আপনাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে। এজন্যই এটি আমাদের স্মৃতিতে অম্লান থাকবে।

লেখক: মো. সাইফুল ইসলাম, ইন্টার্নশিপ শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।

সিভাসু// ৩০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস