[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিশ্ববিখ্যাত আইনস্টাইনের প্রেমকাহিনী


প্রকাশিত: August 2, 2015 , 1:22 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারন্যাশনাল,ফিচার


einstain-live
লাইভ প্রতিবেদক : আপেক্ষিক তত্ত্বের জনক আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম শোনেননি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কমই আছে। তবে কাঁচাপাকা এলোমেলো চুলের সেই বিজ্ঞনীর প্রেম কাহিনীর কথা হয়তো অনেকের অজানা।

শত ব্যস্ততার মাঝেও আইনস্টাইনের রোমান্টিকতা কম ছিল না। একাধিক তরুণীর সঙ্গে রোমান্সে জড়িয়েছিলেন আইনস্টাইন। ভালবেসে বিয়েও করেছিলেন তিনি।

তার প্রথম রোমানেসর সময় কালটা ছিল ১৮৯৬ সাল। একুশ বছর বয়সী সুন্দরী তরুণী মিলেভা ম্যারিচ সুইস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফেডারেল পলিটেকনিকের ছাত্রী ছিলেন। এসময়ে আইনস্টাইনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ধীরে ধীরে সেটা বন্ধুত্ব আর সেখান থেকে আরো গভীর সম্পর্কে জড়ায় তারা। একটা কথা মনে রাখা ভালো মিলেভার চেয়ে সাড়ে তিন বছরের ছোট ছিলেন আইনস্টাইন। তাতে কী প্রেম মানে না বয়স। তাদের অসম প্রেম চলতে থাকলো। সার্বিয়ান ওই তরুণী ছিলেন সে সময়কার একমাত্র বিজ্ঞান ও গণিতের ছাত্রী। সে সময়ে মনের ভাব প্রিয়জনকে বলার একটাই মাধ্যম ছিল। তা হলো, চিঠির আদান-প্রদান। আইনস্টাইন আর মিলেভার মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান হতো চিঠির মাধ্যমে। চিঠির ভাষাও ছিল আবেগময়। যেমন তিনি লিখতেন, তোমাকে ছাড়া আমি সবার মাঝেও একা। এমন আরো অনেক রোমান্টিক লেখনিতে মিলেভাকে পাগল করে তুলেন আইনস্টাইন।

einstain

ছবি: মিলেভার সঙ্গে আইনস্টাইন

দীর্ঘ প্রেমের পর অবশেষে ১৯০৩ সালের ৬ জানুয়ারি আইনস্টাইন মিলেভাকে বিয়ে করেন। পাল্টে যায় আইনস্টাইনের জীবনযাত্রা। তার অনেক আবিষ্কারের পেছনে তার উৎসাহ ছিলো চরম পর্যায়ে। গভীর প্রেম ও অপার আত্মত্যাগের মাধ্যমে আইনস্টাইনকে আগলে রাখতেন মিলেভা।

নববিবাহিত আইনস্টাইন সপ্তাহে ছয়দিন পেটেন্ট অফিসে কাজ করতেন, আর বাকি সময় দিতেন পদার্থ বিজ্ঞান পড়াশোনা ও গবেষণায়। অন্যদিকে, মিলেভা তাকে যথেষ্ট সাহায্য করতেন। এরই মাঝে তাদের প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েন তারা। ১৯০৫ সালে ২৬ বছর বয়সে আইনস্টাইন পদার্থ বিজ্ঞানের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান রাখেন। এসব বিষয়ে দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য ১৯২২ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

মিলেভা আইনস্টাইনের জীবনে আশীর্বাদ রূপেই এসেছিলেন। বলা যেতে পারে, তাদের দু’জনের সম্পর্কটি ছিল বুদ্ধিদীপ্ত ও সাফল্যময়। আইনস্টাইন মিলেভার স্বাধীনতা ও ধ্যান-ধারণাকে যথেষ্ট সম্মান করতেন।

তবে বিয়ের পর আইনস্টানের কর্মমুখর জীবনে মিলেভা দূরে সরে যেতে লাগলেন। ক্রমেই তিনি একা হয়ে যেতে থাকেন। আইনস্টাইন তাকে সময় দিতেন কম। এসময় মিলেভা এক বন্ধুকে চিঠিতে লিখেছিলেন, আইনস্টাইন একমাত্র বিজ্ঞানের জন্যই বেঁচে রয়েছে। সেটাই তার প্রথম প্রেম। আমি আর আমাদের সন্তানের কোনো গুরুত্বই তার কাছে নেই। আমরা রয়েছি দ্বিতীয় অবস্থানে।

এভাবে ধীরে ধীরে শুরু হয় দাপত্য কলহ। আইনস্টাইন তখন ব্যস্ত সমগ্র পৃথিবী নিয়ে। তাই তিনি মিলেভাকে বিচ্ছেদের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মিলেভা তার প্রেমে এতই অন্ধ ছিলেন যে তার প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন।

এসময় আইনস্টাইন মিলেভাকে শর্ত জুড়ে দিলেন। তিনি বলেন, মিলেভাকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, সে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করবে, কাপড় ধোবে ও আইনস্টাইনের ঘরে তিনবেলা খাবার পৌঁছে দেবে। তবে তাদের মাঝে থাকবে না কোনো শারীরিক অন্তরঙ্গতা। এমন কঠিন শর্তও মেনে নিয়েছিলেন মিলেভা। তবে তা টেকেনি শেষ পর্যন্ত। ১৯১৯ সালে বিচ্ছেদ হয় আইনস্টাইন ও মিলেভার।

মিলেভার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলেও তার প্রতি আইনস্টানের যথেষ্ট ভালোবাসা ছিল। আইনস্টাইন নোবেল প্রাইজের সব টাকা মিলেভার ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। প্রাইজের টাকার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৪৮ হাজার ইউএস ডলার। যার বাংলাদেশি মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
elsa-einstein

ছবি: আইনস্টাইনের সঙ্গে এলসা

এদিকে আইনস্টাইন তার চাচাতো বোন এলসার সঙ্গে রোমান্সে জড়িয়ে পড়েন। মিলেভার সঙ্গে বিচ্ছেদের চার মাস পরই তিনি এলসাকে বিয়ে করেন। তবে এলসাও দিনে দিনে বিরক্ত হয়ে যেতে লাগলেন পদার্থ বিজ্ঞানের প্রতি স্বামীর এ আত্মনিমগ্নতায়।

এলসা আইনস্টাইন সম্পর্কে বলেছেন, সে অসাধারণ। যদিও তার জীবন পদ্ধতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়া রীতিমতো বিরক্তিকর ও জটিল।

eint

ছবি: আইনস্টাইনের সঙ্গে জোহানা

এদিকে ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে এলসা মারা যান। পরে জোহানা ফ্যানটোভার সঙ্গে আইনস্টাইনের রোমান্স শুরু হয়। যদিও আইনস্টাইনের চেয়ে ২২ বছরের ছোট ছিলেন জোহানা। ১৯৪০ সালে তারা বিয়ে করেন। আইনস্টানের মৃত্যু আগ পর্যন্ত তিনি আর কোন মেয়ের সঙ্গে রোমান্সে জড়াননি। ১৯৫৫ সালে ৭৬ বছর বয়সে আইনস্টাইন মারা যান। এভাবেই বিজ্ঞানের মহাপুরুষের মহাপ্রয়াণ ঘটে।

ঢাকা, ০২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন