[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



মাশরাফিদের অলস সময়!


প্রকাশিত: August 4, 2015 , 8:42 pm | বিভাগ: আন্তর্জাতিক খেলা,আপডেট


criket timস্পোর্টস লাইভ: একটানা মাঠেই কেটে গেলো প্রায় ৯টি মাস। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর শেষ পর্যন্ত টানা বিরতি। এরপর দুটি টেস্ট। এরপরে টানা ৭ মাস। টাইগারদের দীর্ঘ ঘুমের পালা। তবে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করা হয়তো ঠিক হবে না টাইগারদের। বরং এ বিরতিতে নিজেদের আরো পাকাপোক্ত করতে হবে।

আইসিসি ও বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বরের আগে কোনো ম্যাচ নেই বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের রুটিনে।
২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার।ওই সফরে মাত্র দুটি টেস্ট খেলবে দুদেশ। এসময়ে কোনো ওয়ানডে হবে না।

যে কারণে সেপ্টেম্বরের পর মাশরাফিদের শরীরে রঙ্গিন জার্সি উঠতে দীর্ঘ অপেক্ষাতেই থাকতে হবে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে নিয়মিত সিরিজ। সেই সিরিজেই ভাঙতে পারে অন্তত ৭ মাসের বিরতি।

আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত ক্রীড়াসূচির ফাঁদে পড়ে যে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হবে মাশরাফিদের! আগামী বছর ফেব্রুয়ারির আগে আর কোন ওয়ানডে ম্যাচ নেই মাশরাফিদের সূচীতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ জুলাই চট্টগ্রামেই এ বছরের শেষ  ওয়ানডে ম্যাচটি খেলে ফেলেছে মাশরাফিরা।
bangladesh
এদিকে প্রায় একঘুমের স্বপ্নের মধ্যেই টাইগারদের কেটে গেছে ৮ থেকে ৯টি মাস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে শুরু। ঘরের মাঠে মার্চে পাকিস্তানকে, এপ্রিল-মেতে ভারত এবং সর্বশেষ জুলাইতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর টাটকা স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে দর্শক-সমর্থকরা।

১৫ জুলাই চট্টগ্রামের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়ে গেলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিজয়।

ওয়ানডে সিরিজের পর ২১ জুলাই থেকে শুরু টেস্ট সিরিজ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পর ঢাকা টেস্টও থেকে গেলো অসমাপ্ত। ৩ আগস্ট (সোমবার) ঢাকা টেস্টের পঞ্চম দিনের খেলা শুরুর আগেই পরিত্যাক্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেলো প্রোটিয়াদের বিপক্ষে স্বপ্নের এক সিরিজ।
bangladesh5
এখন চলছে, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ। যদিও, অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তিই বেশি। সৌম্য সরকার আর মুস্তাফিজুর রহমানের মত দু’জন অমিত সম্ভাবনাময়ী ব্যাটসম্যান এবং বোলারকে পেয়ে গেলো বাংলাদেশ, যাদের কাঁধে ভর করে এ দেশের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

বিসিবি সূত্র বলছে, গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়েকে দিয়ে শুরু। ৫-০ ব্যবধানে মাশরাফিরা হেয়াইটওয়াশ করেছে সফরকারীদের। এরপর স্বপ্নের বিশ্বকাপ, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলাটা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্নের অক্ষরে লেখা থাকবে। রুবেলের পর পর দুই বলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যেভাবে বাংলাদেশ স্বপ্নের সোপান রচনা করেছে, তাতে বাংলাদেশ সাফল্যের ভিত্তি আর আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায়। যে কারণে বিশ্বকাপ থেকে ফিরে এসে বলে কয়ে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে বাংলাওয়াশ, ভারতের বিপক্ষে ২-১ এ সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে মাশরাফির দল। এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিপ্লব পূর্ণতা পেলো ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে।

masrafiপ্রতিদিনই যেন একে একে নিজেদের ছাড়িয়ে গেছে মাশরাফিরা। অথচ, এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর কি না দীর্ঘ বিরতিতে চলে যেতে হলো বাংলাদেশকে। বছরের প্রথম ৭ মাসে ১৫টি ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশের বছরের বাকি সময়টায় আর কোনো ওয়ানডেই নেই সূচিতে।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট সিরিজের সঙ্গে একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলার চেষ্টা চালিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যস্ত সূচির কথা বলে, তারা বিষয়টা এড়িয়ে গেছে।

মূলত: ২০১১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ওই সময় নিজেদের ব্যস্ত সূচির কথা বলে অস্ট্রেলিয়া সেবার খেলেছিল শুধু তিনটি ওয়ানডে। পাওনা থাকা দুটি টেস্ট বুঝিয়ে দিতেই এবার আসছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

টেস্ট হোক আর ওয়ানডে হোক- অস্ট্রেলিয়ার সিরিজটিই এই বছর বাংলাদেশের শেষ সিরিজ। এরপর আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ আবার আগামী বছর জানুয়ারিতে। পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে আবারও বাংলাদেশে আসবে নিয়মিত প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ওই সূচি অনুযায়ী টেস্ট হবে অনুষ্ঠিত হবে আগে। এরপর ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারিতে। ৭ মাস অপেক্ষার পর আবার ওয়ানডেতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লড়াইয়ে নামতে হবে বাংলাদেশকে।

তবে এ দীর্ঘ ফাঁকা সময়টা কাজে লাগাতে বেশ কিছু সিরিজ খেলার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে একটি সিরিজ নিয়ে কথা অনেক দূর এগিয়েছিলও। তবে আগামী বছর টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলতে চেয়েছিল শুধু টি২০। বিসিবি যোগ করতে চেয়েছিল ওয়ানডেও। দুই পক্ষ একমত না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা আপাতত আলোর মুখ দেখছে না। শ্রীলংকাকেও না কি আমন্ত্রণ জানানো হয়ছিল। তারাও সে আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি। ফলে জানুয়ারি পর্যন্ত বসেই থাকতে হচ্ছে।

তবে এরই ফাঁকে বিসিএল, বিপিএলের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করবে বিসিবি। এই টুর্নামেন্টগুলো খেলেই নিজেদের ধারে শান দিতে হবে ক্রিকেটারদের। ঢাকা টেস্ট চলাকালেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেছিলেন, এখন আমাদের চোখ বিসিএলে। কারণ, ওই টুর্নামেন্ট খেলেই নিজেদের ফিট রাখতে হবে বলে জানান মাহমুদুল্লাহ।

তবে মাশরাফি স্বীকার করেই নিয়েছেন, কিছুটা ছন্দপতন ঘটবেই। তিনি বলেন ‘ছন্দে প্রভাব পড়বেই। এটাই স্বাভাবিক। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এসব স্বাভাবিকভাবেই নিতে হবে। অনেক সময় খেলা থাকবে না, আবার একসঙ্গে অনেক সিরিজ-টুর্নামেন্ট আপনাকে ক্লান্ত বানিয়ে দেবে। এগুলোর সঙ্গে মানিয়ে চলা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের দায়িত্ব। কাজেই এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই।’

তামিম ইকবাল মনে করেন এটা কোন সমস্যা নয়। সময় হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।  ‘একটা দল যখন ভালো খেলতে থাকে, তারা চায় যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলতে। আবারও এটাও ঠিক, সেই বিশ্বকাপ থেকে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলে যাচ্ছি আমরা। খুব একটা বিশ্রাম পাইনি। বিশ্রামেরও দরকার আছে। জানুয়ারির কাছাকাছি সময়ে আবারও নিশ্চয় ওয়ানডেতে মনোযোগী হব। এর মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিশ্চয় খেলা হবে। আশা করি, সমস্যা হবে না।’

সিনিয়র ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা কম থাকলেও সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমানের মত ক্রিকেটাররা থাকবেন হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের অনুশীলনে। মাঝে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন হলে তো ব্যস্ততা আরও বাড়বে।

ঢাকা// ০৪জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস