[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাস্তায় বসেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম!


প্রকাশিত: August 6, 2015 , 6:59 pm | বিভাগ: আপডেট,খুলনার ক্যাম্পাস,ফিচার,স্কুল


satkhiraআব্দুর রহমান,সাতক্ষীরা: কোমর পানিতে ডুবে আছে স্কুল। এ শুধু সোনিয়ার একার স্কুল নয়। জেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কপোতাক্ষ নদের উপচেপড়া পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে এসব স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম। তবে সোনিয়াদের সামনে পরীক্ষা। নতুন ক্লাসে উঠার টেনশন। কবে পানি কমবে তাও বলা যাচ্ছে না। ক্লাস বন্ধ থাকলে সেলেবাস শেষ হবে না।

এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা সড়কের উপর খোলা আকাশের নিচে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষার্থীরাও নিরূপায় হয়ে রাস্তায় বসেই ক্লাস করছে। এ চিত্র সাতক্ষীরার তালা উপজেলার।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার কোন পরিবশ নেই। তাই ইটের রাস্তার উপর চটের বস্তা বা চাটাই বিছিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া কার্যক্রম।

অনেক কষ্ট শিকার করে শিক্ষকরা রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে কোমলমতি শিশুদের ক্লাস নিচ্ছেন।

তালা উপজেলার প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ৪৫টি স্কুলের পাঠদান বিকল্পভাবে অব্যাহত রাখা হয়েছে।

কপোতাক্ষ নদের উপচেপড়া পানিতে তলিয়ে থাকায়  ১০টি স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম বদ্ধ রাখা হয়েছে।

তালা উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, তালা উপজেলায় ২০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০টি মাদ্রাসা ও এনজিও পরিচালিত প্রাইমারি স্কুল আছে।

জানা গেছে, ৫৫টি প্রাইমারি স্কুল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩০টি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। উপজেলার প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। স্কুলে পানি উঠায় স্কুলগুলোতে বিকল্প পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার জন্য স্কুলের পাশে বিভিন্ন রাস্তার উপর বস্তা বা চাটাই বিছিয়ে সেখানে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তালা উপজেলার রাড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ওই স্কুল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে রাস্তার উপর পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা।

স্কুলের ৮জন শিক্ষক ও ৩৭৮জন শিক্ষার্থী রয়েছে।  প্রতিদিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ও চাটাইতে বসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে বসার জন্য বস্তা নিয়ে হাজির হন। স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন (৯), তাজমিরা খাতুন (৮) ও সোনিয়া (৯) ক্যাম্পাসলাইভকে জানায়, আমাদের স্কুল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্কুলের স্যারেরা আমাদের এখানে ক্লাস নিচ্ছেন। প্রতিদিন ৪-৫টি
করে ক্লাস হয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শিখা রানী চৌধুরী জানান, প্রতিবছর বন্যায় আমাদের স্কুল পানিতে তলিয়ে যায়। স্কুলটি কপোতাক্ষ নদের পাড়ে হওয়ায় প্রতিবছরই এ সমস্যা হচ্ছে। বিধায় স্কুলটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে সেখানে স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মান করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

তালা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণব কুমার মল্লিক জানান, তালার ৪৫টি স্কুলে এভাবে পাঠদান অব্যাহত আছে।

এদিকে বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বিভিন্ন প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শন করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এভাবে পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরা// এআর, ০৬ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস