[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বর্ষার রিমঝিম সুরের তালে উচ্ছল তারুণ্য


প্রকাশিত: August 8, 2015 , 9:39 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,ফিচার,সিলেটের ক্যাম্পাস


Sustএনামুল হাসান নোমান, শাবি: বর্ষা মানেই সৌন্দর্য, বর্ষা মানেই আনন্দ। বর্ষা মানেই রিমঝিম সুরের তালে উচ্ছল তারুণ্য। এই বর্ষাই আমাদের বাঙালিয়ানায় এনে দেয় পূর্ণতা। গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন ফেটে চৌচির হয় এ দেশের মাঠঘাট, তখন খানিকটা হলেও এর আচঁড় পড়ে আমাদের মনে। আর তাইতো বর্ষা এলেই আমরা মুখিয়ে থাকি বৃষ্টিবিলাসের জন্য।

বাংলাদেশের যে কয়টি স্থানে এই ঝুম বর্ষাকে প্রাণখুলে উপভোগ করা যায়, তার মধ্যে অন্যতম দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রূপ-লাবণ্য যেন ছিটকে পড়ে প্রতিটি বৃষ্টিকণার সাথে।
কোন এক বর্ষণমুখর লগণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে আপনি যখন ৩২০ একরের ক্যাম্পাসটিতে ঢুকতে যাবেন, তখনি আপনাকে পথ দেখাতে শুরু করবে সবুজ পত্র-পল্লবে ঢাকা এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা।

শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ‍‍‘এক কিলো’ নামে পরিচিত। প্রথম দেখাতেই মনে হবে, প্রকৃতি তার সমস্ত সবুজ যেন এখানে ঢেলে রেখেছে।
sust 2
দুই পাশে কত রকমের গাছ। কড়ই, মেহগণি, জারুলসহ আরও কত কী! গাছ ভিন্ন হলেও বরষার জলে স্নান করে তারা যেন আজ একই রূপে একই ঢঙে দাঁড়িয়ে আছে।

বৃষ্টির স্পর্শে গাছের পাতাগুলো যখন ছন্দময় নৃত্য করতে থাকবে, আপনার মনে হবে এর চেয়ে সুন্দর অভ্যর্থনা আর হয় না।

ঘাড় ফিরিয়ে রাস্তার পাশে তাকালেই চোখে পড়বে পানিতে টইটম্বুর ছোট ছোট খাল। এই খালগুলো না থাকলে যেন এক কিলোর লাবণ্যের পূর্ণতা পেত না।

কিছুদূর এগুতেই দেখা মিলবে শিক্ষকদের ডরমিটারি, বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, গেস্ট হাউজ, আর অনিন্দ্য সুন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদের। আরও সামনে পড়বে সিলেটের স্থাপত্য জগতে সাড়া ফেলে দেয়া আইসিটি ভবন। বর্ষার দিনে এসব অসাধারণ স্থাপনাগুলো যে কতটা ঐশ্বর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে তা বলাই বাহুল্য।

এক কিলো পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশস্ত গোল-চত্ত্বর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার আর মুক্তমঞ্চের সামনে যেতেই দেখতে পাওয়া যাবে শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসবমুখর চিত্র। আর সেটা যদি হয় বর্ষাকাল, তবে তো কথাই নেই।

বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলে আর কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে কেউ করে শৈশবে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা। কেউ যাচ্ছে হলে, আর কেউ কেউ বৃষ্টিকে আরও প্রাণ খুলে উপভোগ করতে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ছুটছেন দেশের অন্যতম সুন্দর শহীদ মিনারে।

ইউনিভার্সিটি সেন্টার, মেডিকেল সেন্টার আর একাডেমিক ভবনগুলো পার হয়ে আপনিও যদি একবার তাদের সাথে মিশে গিয়ে লাল সিড়ির ধাপগুলো মারিয়ে উঠে যেতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের মূল বেদীতে, তবে আর নেমে আসতে চাইবেন না এটা নিশ্চিত।

মনে হবে প্রকৃতি যেন আপনাকে কোলে করে নিয়ে বসেছে। প্রকৃতির এমন মমতামাখা স্নিগ্ধ রূপ উপভোগ করতে করতে আপনার দৃষ্টি হয়তো চলে যাবে ক্যাম্পাসের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা উঁচু উঁচু টিলার দিকে। যেখানে হয়তো আপনার মতোই কিছু প্রকৃতিপ্রেমি বসে বসে বর্ষার আকাশের উদারতা আর ঘনত্ব উপভোগ করছেন।

বর্ষার শাবিপ্রবির রূপ হয়তো লেখনিতে পুরোটা তুলে আনা সম্ভব নয়। তবে প্রকৃতি আর প্রযুক্তির মিলনস্থল এই ক্যাম্পাসে কোন বৃষ্টিমুখর দিন যদি কাটানো যায় তবে সারাজীবনের জন্য এর রূপ হয়তো লেখা হয়ে থাকবে যে কারো মানসপটে।

লেখক: এনামুল হাসান নোমান, শাবি শিক্ষার্থী।

ঢাকা// ০৮ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস