[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যেভাবে চীনে স্কলারশিপ পেলেন পবিপ্রবির প্রতিম


প্রকাশিত: August 12, 2015 , 1:05 pm | বিভাগ: এচিভমেন্ট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,বরিশালের ক্যাম্পাস,স্কলারশিপ


মুস্তাফিজুর রহমান পাপ্পু, পবিপ্রবি থেকে : ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আমরা সবাই এই প্রবাদ বাক্যের সাথে পরিচিত। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সারাজীবনের লালিত স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, বড় অফিসার হবে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন কঠিন সাধনা, নিরলস পরিশ্রম মেধা।

এইগুলোর সমন্বয় হলে মানুষের সফলতা যে আসবেই সেটা প্রমাণ করে দিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ছাত্র প্রতিম চাকমা। সম্প্রতি চীনে এমবিবিএস কোর্সে পড়াশোনার ফুল সরকারি স্কলারশিপ পেয়েছেন প্রতিম। তিনি শেনদং ইউনিভার্সিটিতে এক বছর এবং লিয়াওনিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে ৫ বছর পড়াশোনা করবেন মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে।

ছোটবেলা থেকেই মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা ছিল ছেলেটির। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সাফল্যের সাথে পেরিয়ে দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ঝাপিয়ে পড়েন ভর্তি যুদ্ধে। কিন্তু অপর্যাপ্ত সুযোগ থাকায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ব্যর্থ হন।

ভর্তি হয়েছিলেন পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিগ্রিতে (ডিভিএম)। হতে চেয়েছিলেন এমবিবিএস ডিগ্রি পাশ করা একজন চিকিৎসক; কিন্তু ভাগ্যের লিখনে হলেন ভেটেরিনারি চিকিৎসক।

এ বিষয়ে প্রতিম বলেন, পবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি সায়েন্স পেয়ে এমবিবিএস পড়ার আক্ষেপ কিছুটা দূর হয়েছিল; কিন্তু আমি চেষ্টা চালিয়ে যাই। যেহেতু দেশের মধ্যে আর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নাই, তাই ভাবলাম দেশের বাইরে পড়লে ক্যামন হয়।

মনের মধ্যে সুপ্ত ভাবনাকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখি। আমার এক আত্মীয় চীনে পড়াশোনা করে, তার কাছে থেকেই জানতে পারি চীনা সরকার প্রতিবছর স্কলারশিপ দেয়। ব্যস তারপর চেষ্টা করতে থাকি।

বৃত্তি সম্পর্কে প্রতিম আরো বলেন, চায়না সরকার প্রতি বছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট, পিএইচডি, পোস্ট ডক্টরেট প্রোগ্রামের আওতায় স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশস্থ চাইনিজ দূতাবাসের কালচারাল শাখা এই দায়িত্ব পালন করে। বৃত্তিগুলো চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল (CSC) এর অধীনে দেত্তয়া হয়।

আমার টোটাল কোর্স(এমবিবিএস)ছয় বছরের মধ্যে শেনদং ইউনিভার্সিটিতে এক বছর এবং লিয়াওনিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে পাঁচ বছর পড়াশোনা করতে হবে। আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে সাধারণত চাইনিজ মিডিয়ামে স্কলারশিপ দেওয়া হয়।

যদিও সাথে ইংলিশ কোর্সও অনেক থাকে। তাছাড়া ইংলিশ মিডিয়ামে এমবিবিএসে পড়াশোনা করলেও চাইনিজ শেখাটাও বাধ্যতামূলক। তবে মাস্টার্স এবং পিএইচডিতে ইংলিশ এবং চাইনিজ উভয় মিডিয়ামে স্কলারশিপ দেয়া হয়। এটা নির্ভর করে ইউনিভার্সিটির উপর।

প্রতিম জানান, এই বছরের জন্যে ৪৩টি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ৬৫ জনকে নির্বাচন করা হয়। আবেদন করতে হয় বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। প্রতি বছরের শুরুতে জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

অনলাইনে ফরম পূরণ করে যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রনালয়ে জমা দিতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসেবে অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটের নোটারি কপির পাশাপাশি স্টাডি প্ল্যান অথবা রিসার্চ প্রপোজাল জমা দিতে হয়।
Protim-2
মাস্টার্স এবং পিএইচডিতে আবেদনের জন্যে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর কিংবা প্রফেসরের রিকম্যান্ডেশন লাগে। মন্ত্রণালয় থেকে কাগজপত্র বাংলাদেশস্হ চাইনিজ দূতাবাসে প্রেরণ করা হয়। তারপর পরীক্ষার জন্যে ডাকা হয়। পরীক্ষা নির্বাচন পদ্ধতি CSC এর উপর নির্ভর করে।

পরীক্ষা লিখিতও হতে পারে আবার শুধু ইন্টার্ভিউও হতে পারে। অথবা উভয়টা হতে পারে। তারপর চীনের এডুকেশন মিনিস্ট্রি সুপারিশ করে। সিলেকশনের পর সিলেকটেড ক্যান্ডিডেটদের কাগজপত্র ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়।

ইউনিভার্সিটি যদি আবেদনপত্র গ্রহণ করে তাহলে ইমেইলে যোগাযোগ করে। সাধারণত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ফাইনাল রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়।

দেশের ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিগ্রির পড়াশোনা তার এই স্কলারশিপ প্রাপ্তিতে সহায়ক ছিল বলে জানান প্রতিম। ৩ বছর পরে হলেও বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হওয়ার একধাপ এগিয়ে যেতে পেরে খুবই আনন্দিত তিনি।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের শেষে দেশ ছাড়বেন তিনি। পরের মাস থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিম।

উল্লেখ্য প্রতিম চাকমা বর্তমানে পবিপ্রবির এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রিতে ৪র্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

পবিপ্রবি, ১২ আগস্ট//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে