[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



এ কেমন আকাঙ্ক্ষা!


প্রকাশিত: August 15, 2015 , 6:25 pm | বিভাগ: ফিচার


গুজরাট লাইভ:  ১৪ সন্তানের পরও সন্তান নিতে চান রামসিন। কারণ তার আরেকটি পুত্রসন্তান চাই-ই চাই।

দ্বিতীয় পুত্রের আশায় ১৪ কন্যা সন্তানের জনক-জননী হয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন ভারতের গুজরাটের আদিবাসী দম্পতি রামসিন সংগোদ ও তাঁর স্ত্রী কানু৷ কিন্তু তাঁদের ১৫তম সন্তানটিও একটি কন্যাসন্তান৷ রামসিংয়ের আশা পুত্রের জন্য শেষবার চেষ্টা করে দেখবেন তিনি৷

পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা যে কোন পর্যায়ে যেতে পারে, তা এই দম্পতিকে না দেখলে ভাবা যায় না৷ গুজরাটের ঝারিভুজি গ্রামে দরিদ্র কৃষক রামসিং চেয়েছিলেন পুত্র সন্তানের জনক হতে৷ কিন্তু তাঁদের পরপর সবগুলো সন্তানই হয় কন্যাসন্তান৷ রা

মসিংয়ের স্ত্রী কানু জানান, সেইসময় রামসিং তাঁকে ভয় দেখাতে থাকেন, পুত্রসন্তান না হলে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করবেন৷ অনাথ কানু স্বামীর ঘরছাড়া হওয়ার ভয়ে আবার সন্তানধারণে রাজি হয়ে যান৷ সেবার তাঁদের পুত্রসন্তানই হয়৷ আনন্দে ছেলের নাম রেখেছিলেন বিজয়৷ কিন্তু এবার রামসিনের নতুন আবদার শুরু হয় দ্বিতীয় পু্ত্রসন্তানের জন্য৷ কিন্তু তাঁদের ১৫তম সন্তানটিও কন্যাসন্তানই৷

তবু হতাশ নন রামসিং৷ তিনি এখনও শেষ চেষ্টা করে দেখতে চান৷ ২ অগস্ট ১৪ তম কন্যার জন্মের পরই পরের পরিকল্পনা করে ফেলেছেন তিনি৷

স্বামীর দাবিতে প্রায় প্রতিবছর সন্তানধারণের যন্ত্রণা নিতে নিতে ক্লান্ত রামসিংয়ে স্ত্রী কানু৷ গত ১৫ বছর ধরে প্রায় প্রতি বছর ধরেই তিনি গর্ভযন্ত্রণা পেয়ে চলেছেন৷ বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে৷ তাদের বয়সও মোটে ১৭ ও ১৫৷ শেষ সন্তানটির বয়স এখনও ২ বছর হয়নি৷ এর মধ্যেই আরও এক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷ এরই মধ্যে আবার সন্তানধারণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতও নন তিনি৷ স্বামীকে তিনি জানিয়েছেন, এই ধকল তিনি আর নিতে পারবেন না৷

৩৩ বছরের কানু জানিয়েছেন, তাঁর শরীরও অশক্ত৷ কিন্তু কানুর সে কথায় কান দিতে চান না রামসিন৷ তিনি চাইছেন শেষবারের মতো চেষ্টা করে দেখা যেতেই পারে৷

কেন এইভাবে হন্যে হয়ে পুত্রসন্তান চাইছেন তাঁরা? তাঁদের সম্প্রদায়ের রেওয়াজ যে, বোনের বিয়েতে দাদা বা ভাইকে পাত্রপক্ষের সমস্ত দাবিদাওয়া মেটাতে হয়৷  বর্তমানে ১৮ মাস বয়সী বিজয় যে তা করে উঠতে পারবে না তা জানেন রামসিং৷ আর তাই দ্বিতীয় পুত্রসন্তানের জন্য জিদ তাঁর৷ কিন্তু কিছুদিন আগেও স্বামীর মতে সহমত থাকলেও, এখন অশক্ত শরীর নিয়ে আর রাজি হতে চাইছেন না কানু৷

তাঁর বক্তব্য, এবার অন্তত মেনে নেওয়া উচিত যে, ভগবান তাঁদের একটি পুত্রসন্তানই দিতে চেয়েছেন৷

রামসিনের গ্রামে প্রায় সবারই আটটি কিংবা নটি করে সন্তান৷ কিন্তু পুত্রসন্তানের মোহে এই আদিবাসী দম্পতি যেন সব সীমা অতিক্রম করে গেলেন৷

ঢাকা, ১৫ আগস্ট //(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে