[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ঝর্ণার সমাহার খৈয়াছড়া


প্রকাশিত: August 17, 2015 , 11:12 pm | বিভাগ: আপডেট,ফিচার


nstuএম এন করিম, নোবিপ্রবি: বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এক লীলাভূমি। পাহাড়, নদী, সাগর ও বনের  অতি সুন্দর মিলন। আমাদের দেশে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত, সেন্ট মার্টিন,মাধবকুণ্ড ঝর্ণা ইত্যাদি। যা দেখে মনে হয়, কোন এক কারিগর অতি নিপুণভাবে সাজিয়েছেন।

এই কারণে প্রকৃতিপ্রেমি ও ভ্রমনপ্রেমিরা পথের ব্যবধান ভুলে এসে ভীড় জমায় এসব স্থানে, দেশ হতে দেশান্তরে।

অনেকদিন শুনে আসছি খৈয়াছড়া ঝর্ণার কথা কিন্তু সময় হচ্ছিল না যাওয়ার। অবশেষে গত মাসে সিদ্ধান্ত নিলাম এবার বর্ষায় যাবো খৈয়াছড়ায়। কারণ বর্ষায় থাকে ঝর্ণাগুলোর যৌবনকাল।

যাব এনএসটিইউ টুরিজম সোসাইটির পক্ষ থেকে। তৈরী করা হল টিসার্ট। সবাই টি-সার্ট পেয়ে যেনো ট্যুরের নেশায় মত্ত হয়ে গেলাম। এদিকে সবার ল্যাব পরীক্ষার কারণে সময় যেন ধরা দিচ্ছিল না।

সর্বশেষ, ১৪ আগস্ট সিদ্ধান্ত হল আমাদের ট্যুর হবে ১৬ আগস্ট। ১৪ আগস্ট উপকমিটি করে দেয়া হল, খাদ্য বিভাগ দেখবে শাহাদাত, জাকারিয়া, আজাদ; পরিবহন বিভাগ দেখবে আমান, আব্দুল করিম; চিকিৎসা বিভাগ দেখবে শাকিল ও রাজু;  সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় ও পরিচালনায় থাকবে সাদেক, হাফিজ, এম এন করিম।

১৬ তারিখের আগের  দিনগুলি যেন যাচ্ছিল না। সবার অপেক্ষা এক জায়গায়  কখন আসবে ১৬ আগস্ট।

১৬ আগস্ট ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে দেখি বাইরে বৃষ্টি। কলিজা যেন চ্যাত করে উঠল। ট্যুর করতে পারবো কিনা। কিন্তু শুরু করলাম সবাই সবাইকে ফোন দেয়া।

আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সবাই ভোর ৬ টায় হাজির নোয়াখালীর সোনাপুর রেল স্টেশনে। ৬টায় ট্রেন ভ্রমনের মাধ্যেমে শুরু হল আমাদের ১২জন যুবকের দু:সাহসিক যাত্রা।

nstu1চৌমুহনী এসে নেমে, আবার পড়লাম বৃষ্টির কবলে। অনেকে মনে ভাবছিল আসলে যেতে পারব কি না। কিন্তু তারপরও কিছু বলছিল না কারো মন ভাঙ্গার ভয়ে।

উঠলাম একটি চট্টগ্রামগামী বাসে। বাস নামিয়ে দিল মিরসসরাইয়ের পর বড় তাকিয়ায়। সকালের নাস্তা না করায় সবার পেটের ছোট ছোট প্রানি গুলো যেন বিক্ষোভ মিছিল করছিল।

তাই সবাই নাস্তা করে নিলাম। এর পরই খেলাম আরেক ধাক্কা। ঐদিকেও চলছে  সিএনজি ধর্মঘট। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হল হেটে হলেও যাব।

কিন্তু কিছু দুর যাওয়ার পর পেলাম একটা মালগাড়ি। সবাই উঠে রওনা হলাম গন্তব্যের দিকে। নেমেদিল রেল লাইনের কাছে।

nstu3এলাকার লোকদের জিজ্ঞেস করে শুরু করলাম হাঁটার প্রতিযোগিতা। আগে থেকে জেনেছিলাম অনেক হাঁটতে হবে তাই, ৮ লিটার পানি নিলাম খাওয়ার জন্য।

অনেকের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না হাঁটার কষ্টে। প্রায় ১ ঘন্টা হাঁটার পর পৌঁছলাম কাংখিত ও লালিত স্থানে।

সেখানে গিয়ে দেখি সবার চেহারা পরিবর্তন। কারোমুখে নেই কোন ক্লান্তির ছাপ। অনেকে ব্যস্ত হয়ে গেল ফটোসেশনের। আবার অনেকে নিজের শরীরকে ভাসিয়ে দিচ্ছিল ঝর্ণার পানিতে। আবার অনেকে আবেগে পানও করছিল।

বিভিন্ন পর্যটনে রয়েছে বিভিন্ন কৃত্তিমতার হাত। আর এই খৈয়াছড়া ঝর্ণায় তারই অভাব। এই অভাবই তার এক অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য। এখানে শোভা বর্ধনেনেই কোন মানুষের হাত, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক।

২০১০ সালে গিয়েছিলাম বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঝর্ণা মাধবকুণ্ড। সেখানে উঠেছিলাম ঝর্নার উৎস দেখতে অতি কষ্ট করে।   সেখানে দেখেছিলাম পাকৃতিক পানির সাথে কৃত্তিম পানি দিয়ে বাড়ানো হচ্ছিল পানির প্রবাহ।

কিন্তু এখানেই নেই এমন কোন কৃত্তিমতার স্পর্শ। দুজন বন্ধুকে দেখছিনা, জিজ্ঞেস করলাম তারা কোথায়। একজন বললো উপরে ঝর্ণা  দেখতে গিয়েছে।

জানলাম ঝর্ণা এখানেই শুরু। আরো ররেছে। উঠতে হবে পাহাড় বেয়ে। কিভাবে সম্ভব এমন ছিল অনেকের প্রশ্ন। আবার গুঁটিগুঁটি বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড় ছিল অনেক পিচ্ছিল।

কিন্তু দু:সাহসীদের থামায় কে। শুরু করলাম ৫জন মিলে পাহাড় বেয়ে উঠার দু: সাহসী অভিযানে। অর্ধেক যাওয়ার পর দেখলাম তিনজন বিদায় নিয়েছে ভয়ে। তখনই মনে হয়েছিল এদেরকে নিয়ে কাজী নজরুলের” যৌবনের গান “পাঠচক্র করা দরকার।

কিন্তু, আমাদের চলছিল যাত্রা উর্ধব মুখে আবিষ্কারের নেশায়। ১ম ধাপে গিয়ে পেলাম দুজন ১২ বছরের nstu4স্থানীয় শিশু  ও আমাদের বয়সের ২ জন সহ মোট ৭ জন হলাম। মনে মনে বললাম, এবার কে ঠেকায়।
শিশুগুলোর আচরণে মনে হয়েছিল অনেক আগের পরিচিত।

শিশুরা আমাদেরকে বার বার সতর্ক করছিল এবং পথদেখিয়ে দিচ্ছিল কিভাবে যেতে হবে। কারণ প্রায় জায়গা ছিল পিচ্ছিল। একবার পা ফসকে গেলে নিশ্চিত যেতে হবে কাফনে বা কফিনে অথবা  শ্মশানে।

পর্যায়ক্রমে ৮ টি ধাপ অতিক্রম করলাম। তবে ইন্টারনেটে সার্চদিয়েও পাইনি মোট উচ্চতা কত। মনে হয়েছিল  বাংলাদেশের এভারেস্ট জয় করেছি।

কিন্তু সবার একটা দু:খছিল বৃষ্টির কারণে কেউ পারেনি এই জয়কে ফ্রেমে বন্ধি করতে। তারপর সবার চোখমুখে হাসি ছিল ৯ টি ঝর্ণা দেখা হল।এ ছিল এক ঝর্ণার নিরব সমাবেশ।

কিন্তু কেউ না দেখলে কল্পনাও করতে পারবেনা এমন ভাবে সৃষ্টিকর্তা কিভাবে এই ৯   টি ঝর্না  পরতে পরতে সাজিয়েছে।

nstu2তখনই নিজের অজান্তে মুখদিয়েবের হয়ে আসে
” ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা,
ওসে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সেদেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি।”

শিক্ষার্থীবৃন্দ,
ফলিত গণিত বিভাগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)

নোবিপ্রবি// ১৭ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর