[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



গুণগত মানে ছাড়িয়ে যাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় : ড. ফিরোজ


প্রকাশিত: August 19, 2015 , 2:53 pm | বিভাগ: ইন্টারভিউ


প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আহমেদ। দেশ-বিদেশে স্বীকৃত খ্যাতনামা একজন শিক্ষাবিদ। বিজ্ঞানমনস্ক, গবেষক এবং  পেশাদার একজন প্রকৌশলী। তার লেখা ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ১৮টি। যার ২৫টি সংস্করণ পৃথিবীর ১৪৫টি লাইব্রেরিতে নিবন্ধিত।  তার রচিত গ্রন্থ পাঠ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ- এর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। নিয়েছেন নানা পরিকল্পনা। বাস্তবায়ন করছেন উন্নয়নের নানা নীতিমালা।

ড. ফিরোজ আহমেদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের স্ট্রাথক্লাইড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুদীর্ঘকাল অধ্যাপনাসহ অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন প্রকল্প ও সেন্টারের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের বিল্ডিং সার্ভিসেস সেকশনের কনভেইনার এবং বিএটিসিআইয়ের পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালিন করেন।

এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের স্ট্রাথক্লাইড ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানসাময়িকীতে তার তিনটি প্রবন্ধসহ প্রকাশনার সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। সাম্প্রতিক বিশ্বে প্রকাশিত স্কলারলি প্রবন্ধে এইসব প্রকাশনার উদ্ধৃতির (সাইটেশান) সংখ্যা ৪ সহস্রাধিক।

পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের ওপর তার লেখা বইটি বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য। তিনি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রকল্পে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী হিসাবে কাজ করে দেশের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন। দেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে পৃথিবীর নামকরা প্রকৌশলীদের নিয়ে গঠিত ‘আর্ন্তজাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল’ এর একজন সদস্য ছিলেন। বর্তমানে পদ্মা বহুমুখী সেতু ডিজাইন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দেশবরেণ্য এই প্রকৌশলীর অবদান অনস্বীকার্য।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পাশাপাশি গবেষণার কাজ চালিয়ে গেছেন নিরলসভাবে। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার হাত থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
11271976_10206685141946641_1443858890_n
প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আহমেদের শিক্ষা ও গবেষণায় সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুয়েট প্রদত্ত ‘ড. এমএ রশিদ মেমোরিয়াল স্বর্ণপদক’  এবং প্রকৌশল বিদ্যায় জাতীয় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারস পদক’ প্রদান করেন।

বিজ্ঞান গবেষণার উন্নতির জন্য ১৯৮৮ সালে তিনি বাংলাদেশ সাইন্স অ্যাকাডেমি কর্তৃক ড. এম ও গণি মেমোরিয়াল স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ভূর্গভস্থ পানিতে আর্সেনিক সমস্যা নিয়ে তাঁর গবেষণায় অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য  ২০০৫ সালে বুয়েট এমআইটি রিসার্চ গ্রুপে ‘প্রিন্স সুলতান আবদুল আজিজ প্রইজ ফর ওয়াটার’ প্রদান করা হয় তাঁকে।

আমেরিকান ক্যামিকেল সোসাইটি কর্তৃক সাম্প্রতিক প্রকাশিত আর্সেনিক মৌলের উপর তাঁর আবিষ্কার ‘পেরিওডিক টেবিল’ বিজ্ঞান জগতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বিজ্ঞান গবেষণায় অসামান্য (ওয়েবমেট্রিক্স র‌্যাংকিংয়ে ) অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ জন গুগল স্কলারের মধ্যে তিনি ২য় স্থানে রয়েছেন।

প্রকৌশলী গবেষক এবং প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ বর্তমানে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশ এর একজন ফেলো।

ক্যাম্পাসলাইভের পাঠকদের জন্য স্বনামধন্য কীর্তিমান এই শিক্ষাবিদের জীবন ও কর্ম নিয়ে একান্ত সাক্ষাতকার ক্যাম্পাসলাইভের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আমাদের প্রতিবেদক আরিফ চৌধুরী শুভ

ক্যাম্পাসলাইভ: স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সামগ্রিক অগ্রগতি ও পরিবেশ উন্নয়নে আপনি কী কী কাজ করেছেন?

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণায় অনিহা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। তবুও দিনদিনই আপডেট হচ্ছে  ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ও পড়াশুনার মান। আমি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিয হিসেবে যোগদানের পর শিক্ষা ও গবেষণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের চাকরিতে কোনো সমস্য যেন না হয় সেই জন্য পেশাজীবী ইনইস্টিটিউটশনের এক্রিয়েডেশান এনেছি সিভিল এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে। স্থাপত্য বা আর্কিটেকচার এবং কম্পিউটার সাইন্স ডিপার্টমেন্ট ও এক্রিয়েডেশানের জন্য ইতোমধ্যে মূল্যায়ন করা শেষ। আশা করি কিছু দিনের মধ্যে এই ডিপার্টমেন্টগুলোও স্ব স্ব বিভাগের এক্রিয়েডেশান পেয়ে যাবে।

তাছাড়া বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়াশুনার মান ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিতে একটি ‘ ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এসুরেন্স সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই প্রকল্পের অধিনে যে ৩টি ইউনিভার্সিটি এই পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে তার মধ্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি একটি।
11272305_10206685138306550_416607948_n
তবে প্রকল্পটির অধিনে প্রত্যেকটি বিভাগকে আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চ শিক্ষায় গবেষণায় এবং ভালো জার্নালের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পুরস্কারের ঘোষণা আমিই প্রথম চালু করেছি। বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে ১০টি বিভাগ থেকে নিয়মিত জার্নাল বের হচ্ছে এবং এগুলোকে আন্তজার্তিকভাবে ইনডেক্সিংয়ের জন্য কাজ করা হচ্ছে।

তবে আমার উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিজস্ব কোয়ালিটি ও এক্সিলেন্সের জন্য ইলসিভার পাবলিশিংয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে ৪ নম্বর অবস্থানে স্থান করে নিয়েছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে আপনি কী কী পদক্ষে নিয়েছেন?

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে দরকার গবেষণা ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিক নির্দেশনা। আমাদের প্রতিটি বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া ফ্যাকাল্টি ও ল্যাব আমরা নিশ্চিত করেছি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানোর পরিরকল্পনা আছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় কোর্সের বাইরে আইইবি ও বিভিন্ন সেমিনার এমনকি দেশের বাহিরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে।

ব্যক্তিগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে তাদের জন্য এই সুযোগ অব্যাহত রয়েছে। অবশ্যই শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পঞ্চম। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এখানে নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি ১৫ হাজার শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে দেশ-বিদেশে সাফল্যের সাথে কাজ করছে।

উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দেশের বাইরে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করছে। বিদেশে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে তারাও প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, উচ্চশিক্ষার পরিবেশ অনেকটা মানসম্পন্ন করতে পারার কারণে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহীদের একটা অংশ এখন দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন।

এতে মেধা পাচার রোধের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করার সুযোগ পাচ্ছে। আবার অনেকে নিজেদের দক্ষতার কারণে নিজস্ব ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকতার সুযোগ পাচ্ছেন। যেসব বিভাগে মাস্টাস কোর্স এখনো চালু হয়নি তা চালু করার জন্য সেই সব বিভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।

ক্যাম্পাসলাইভ: উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আপনি কীভাবে দেখেন?

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানে একটা পার্থক্য সব সময় আমরা লক্ষ্য করি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুলনামূলক মেধাবিদের সংখ্যা বেশি এবং শিক্ষার্থীরা অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বেশি পায়। সেজন্য পাবলিকের গ্র্যাজুয়েটদের মান তুলনামূলক ভালো হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চলে সরকারের অনুদানে। তাদের গবেষণা শিক্ষকদের বেতন এবং যাবতীয় খরচ সরকারই যোগান দেন।

1548025_10153654256040627_1836999072_o

এদিক থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে। তবে কিছু সচ্ছল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের কোয়ালিটি বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট আর্থিক সঙ্গতি রাখে। খুব দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থীদের চাহিদার যোগান দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ পদ্ধতির কারণে সরকারি বিশ্বদ্যিালয় চাইলেও শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারে না।

আমি মনে করি আগামী ১০ বছরের মধ্যে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাড়িয়ে যাবে। এসত্য এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। বাইরের দেশের বেশির ভাগ নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্যাম্পাসলাইভ: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ভূমিকা কেমন হওয়া দরকার বলে মনে করেন?

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব মূলত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তবে এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনেক কিছু করার আছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর সেটি পূর্ণরূপে গড়ে উঠছে কিনা এবং মানসম্পন্ন ডিগ্রি প্রদান করে কিনা তা ইউজিসি তদারকি করার ক্ষমতা রাখে।

বর্তমানে ‘উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্পটি’ ইউজিসি তদারকি করছে। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি করে শিক্ষা ও গবেষণায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। তবে ইউজিসি চাইলে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বৈষম্য দূর করতে পারে।

তাছাড়া ইউজিসি সঠিকভাবে কাজ মনিটরিং করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন অনুসরণ করছে। সে গতিতে তারা এগোচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অবদান ইতিবাচক। তাছাড়া সময়ের সাথে শিক্ষার হার ক্রমবর্ধমান। তাই যদি কোনো নতুন নিয়ম বা পদক্ষেপের দরকার হয়  দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাঁরা সেটি নেবেন বলে আশা করি।

প্রশ্ন: ক্যাম্পাসলাইভ: উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকে দেশের বাইরে গিয়ে ফিরতে চান না। মেধা পাচার রোধে সরকারের আন্তরিকতা যথেষ্ট বলে মনে করেন কী?

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: দেখুন, দেশে শিক্ষিতের সংখ্যা দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে আবার দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। এটি দেশের জন্য সুখবর নয়। মেধাপাচারের প্রধান কারণ হলো- দেশে মেধাবিদের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারা। তাই উন্নত জীবযাপনের সুযোগ বিদেশে বেশি থাকায় মেধাবিদের একটা অংশ  বিদেশে চলে যাচ্ছে।

তবে প্রত্যেকের কর্মসংস্থান দেশে করতে পারলে এই সংখ্যাটা কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। কিন্তু অভিজ্ঞতা বা উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পরে কেউ যদি স্বেচ্ছায় দেশে না আসে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের মেধাবিরা যখন বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তখন সেই দেশই বেশি লাভবান হয়।

তাই মেধাবিদের ধরে রাখতে হলে তাদের কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিদেশের সমধারার কর্মক্ষেত্র দেশে সৃষ্টি করতে হবে। সরকারের কর্মসংস্থানে তাকিয়ে না থেকে অনেকে সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন এবং হচ্ছেনও। এই ধারা অব্যাহত থাকলে মেধাপাচার রোধে ইতিবাচক সফলতা আসবে।

ক্যাম্পাসলাইভ: উচ্চশিক্ষার দ্বিতীয় ক্ষেত্র বেসরকারি ইউনিভার্সিটির জন্য সরকারের কাছে আপনার বিশেষ কোনো সুপারিশ আছে?

11313113_10206685208308300_6511739540649402655_o

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করছে। এই পক্রিয়া বলবৎ ও জোরদার করা যুক্তিসঙ্গত। সরকার শুধু মনিটরিং কিংবা নজরদারি ছাড়াও মানসম্পন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোর অধিকত উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন।

বর্তমানে সরকার পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন দিক থেকে একই দৃষ্টিতে দেখছে। এটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ নিয়মকানুনও বেসরকারিতে চার্চা করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: ক্যাম্পাসলাইভ: উপাচার্য হিসাবে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ঘিরে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা কী?

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: যেকোনো প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে গড়ে উঠতে একটু সময় লাগে। ভিসি হিসাবে যোগদান করার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় অনেকটা গতিশীলতা এসেছে। আমি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে এই অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।

এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ১০ বছরের একটি কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।

প্রশ্ন: ক্যাম্পাসলাইভ: আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ড. এম ফিরোজ আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ ক্যাম্পাসলাইভের পাঠকদেরও।

(ঢাকা, ১৯ আগস্ট//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে