[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বশেমুরবিপ্রবিতে ‘চিন্তার মুক্তি ঘোচাবে আঁধার’


প্রকাশিত: August 21, 2015 , 2:54 pm | বিভাগ: ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,ফিচার


তন্ময় বিশ্বাস, বশেমুরবিপ্রবি: ‘চিন্তার মুক্তি ঘোচাবে আঁধার’- এই স্লোগান ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অনুরণন অধ্যয়ন কেন্দ্র।

কেন্দ্রটি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে দিন দিন স্বাধীন চিন্তা, নান্দনিক জীবনবোধ ও বুদ্ধি চর্চার পথ সংকুচিত করছে, সেখানে এ অধ্যয়ন কেন্দ্রটি বহুমাত্রিক জ্ঞান (Interdisciplinary knowledge) অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফলসহ আলোকিত মানুষ তৈরির জন্য নিরলস কাজ করছে।

অনুরণন মানুষের ভেতরে বিরাজিত প্রশ্নকে উস্কে দিয়ে প্রবলভাবে জানার প্রতি কৌতূহলী করে তুলতে সক্ষম।

বর্তমান বিশ্বে মানবিকতা প্রতিনিয়ত মুখ থুবড়ে পড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্রমবিকাশমান অমানবিকতার চর্চা যে সনদ অর্জনকারী ‘শিক্ষিত’ গোষ্ঠীর হাতেই হচ্ছে, তার অঢেল উদাহরণ বিদ্যমান।

সমাজের এরকম সঙ্কটে অনুরণন প্রকৃত জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমে মানবীয় মানুষ তৈরিতে নিরন্তর অবদান রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

শুরুর দিকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক কাজী মসিউর রহমান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বহুমাত্রিক জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরতেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং আশেপাশে মননশীলতা চর্চার জন্যে ভালো মানের বই পাওয়া যেত না।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে একটি বইয়ের সংগ্রহশালা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার  প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়।

প্রথমদিকে অর্থের যোগান না থাকায় তিনিই ব্যক্তিগত সংগ্রহের প্রায় অর্ধশত বই দিয়ে কেন্দ্রটি শুরু করেন। বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া আসতে থাকে, যুক্ত হয় কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরাও।

এরই মধ্যে এ উদ্যোগে আন্তরিক সাড়া দেন তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ড. মো. হানিফ সিদ্দিকী, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার নাথ, ইংরেজি বিভাগের সুকান্ত বিশ্বাস, হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেকে ।

অনুরণন অধ্যয়ন কেন্দ্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বই সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সদস্যদের তা পড়তে দেয়া হয়। এ কেন্দ্রে  বইয়ের সংখ্যা বর্তমানে আড়াইশত ছাড়িয়ে গেছে।

সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান রোমান বলেন, কার্যক্রম শুরুর প্রায় এক মাসের মধ্যে সদস্যদের চাঁদায় দুই হাজার টাকার পুরনো বই কেনা হয়।

এরপর ২০১৫ সালে একুশের বইমেলা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে এবং সদস্যদের কাছ থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে প্রায় ২২ হাজার টাকার বই কেনা হয়।

২০১৪ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করা অধ্যয়ন কেন্দ্রটি প্রথমে ইংরেজি বিভাগ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে থাকলেও পরে এর জনপ্রিয়তা সব বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়তে থাকে সদস্য।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগে এ কেন্দ্রটির সদস্য রয়েছে। পঞ্চাশ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা অনুরণন অধ্যয়ন কেন্দ্রের বর্তমান সদস্য সংখ্যা দুইশতাধিক। সার্বিক প্রসারের জন্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমান রোমান, মাইনুল হোসাইন সাগর, হারিছুল ইসলাম হালিম এবং আব্দুল জব্বার খান।

বিকল্প এই পাঠ কেন্দ্রের কথা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সক্রিয় পাঠক উজ্জ্বল পোদ্দার এবং শশী প্রসাদ শীল অভিন্ন উপলব্ধি থেকে বলেন-‘বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পাঠাগারে প্রধানত একাডেমিক বই পাওয়া যায়। কিন্তু অনুরণন মননশীলতা ও চিন্তা চর্চার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিভিন্ন বিষয়ের বাছাই করা বেশ কিছু বইয়ের মাধ্যমে রুচিশীল পাঠকের চাহিদা অনেকাংশে মেটাতে পারছে।’

এ কথা বলা প্রয়োজন, ক্রমাগত পাঠকের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনুরণন’র প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে প্রাধ্যক্ষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সম্প্রতি আরও একটি মননশীল পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অনুরনন’র প্রভাব নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, অনুরণন-এর আদলে এলাকার তরুণদের নিয়ে আমি চট্টগ্রামের সন্দীপে একটি পাঠাগার স্থাপন করেছি। সেখানেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে পাঠকের সংখ্যা। আমার বিশ্বাস, নিরন্তর উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশে আরো যোগ্য-আলোকিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য নিঃসন্দেহে এরকম পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

অনুরণন অধ্যয়ন কেন্দ্রের সদস্য হওয়ার জন্য ১১০ টাকা ফি দিতে হয়। মূলত সদস্যদের অর্থায়নে পরিচালিত এই কেন্দ্রের বইসমূহ বিকল্প কোনো স্থান না পাওয়ায় বর্তমানে ইংরেজি বিভাগের অফিস রুমে রাখা আছে। সপ্তাহে দুদিন শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বই সংগ্রহ ও ফেরত দিতে পারেন ।

উল্লেখ্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এদেশের অগুনতি নিরন্ন মানুষ থেকে শুরু করে আপামর জনসাধারণের করের টাকায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায় । সেই শিক্ষার্থী যেন আগামী দিনের দায়িত্বশীল নাগরিক হতে পারে। যেন বহুমাত্রিক জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে নিজের চেতনায় একটি বিশ্ববিক্ষা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারে সে লক্ষ্যে অনুরণন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুরণন বিশ্বাস করে, একটি মানব শিশুকে প্রগাঢ় অনুশীলন ও নান্দনিকতায় বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে, সে আসলেই মানুষ। কেন্দ্রটি ভবিষ্যৎে আরও বিকশিত হবে এই প্রত্যাশা সবার।

বশেমুরবিপ্রবি, ২১ আগস্ট//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে