[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবির লাইব্রেরি চত্বর যেন ‘উন্মুক্ত পাঠশালা’


প্রকাশিত: August 23, 2015 , 5:22 pm | বিভাগ: পাবলিক ইউনিভার্সিটি,ফিচার,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্নর যেন এক উন্মুক্ত পাঠশালা। ইতিউতি জটলা বেঁধে চলছে পাঠচক্র। কেউ ব্যস্ত গ্রুপ স্টাডি নিয়ে, আবার কেউ এখানেই সেরে নিচ্ছে প্রাইভেট পড়াটুকু।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিদ্যাপীঠের লাইব্রেরি বারান্দায় গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে রোববার। শুধু রোববার কেন, যে কোনো দিনই সেখানে ভিড় জমিয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বই-খাতা হাতে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। অনাগত দিনের স্বপ্নপূরণে কঠোর অধ্যাবসায়ে ব্যস্ত সবাই।

তারপরও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন লাইব্রেরি কতৃপক্ষ।

লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই ও অধিকাংশ রুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তেমন বাড়ছে না।
DSC01787
জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সপ্তাহে সাত দিনই খোলা রাখা হয়। শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করে থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো বিভাগের শিক্ষার্থী বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে পারেন। শিক্ষার্থীরা এই গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে গিয়ে মন দিয়ে করতে পারেন স্টাডি। তবে লাইব্রেরির ভেতরে কেবলমাত্র নোট ও অ্যাসাইনমেন্ট করা ব্যতীত ‘গ্রুপ স্টাডিসহ’ অন্যকোন কাজ করা যায় না।

আর তাই লাইব্রেরির চত্বর এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভরা থাকছে শিক্ষার্থীদের দ্বারা। লাইব্রেরির ভেতর প্রবেশের সুযোগ না থাকলেও বাইরে দিব্যি চলছে গ্রুপ স্টাডি। চলছে সামনের দিনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রস্তুতি প্রতিযোগিতা।

তবে গ্রন্থাগার চত্বরের পড়াশুনার সাথে ভেতরের দৃশ্য একটু ভিন্ন। গ্রন্থাগারের ভেতরে সেল্ফ থেকে বই নিয়ে পড়তে হতো। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের কোনো উপকরণ ব্যবহার করতে পারতো না। কোনো প্রকার গ্রুপ স্টাডিও করা যেতো না সেখানে।

সেখানে বসার জন্য ছিল চেয়ার ও পড়ার জন্য ছিল টেবিল। কিন্তু বাইরে সেই ব্যবস্থা নেই। ফ্লোরে পত্রিকা বিছিয়ে তার উপর বসেই চলছে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা।

তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের প্রাইভেট পড়তেও দেখা যায়। এসব শিক্ষকের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

অন্যকোথাও তেমন ফাঁকা জায়গা না পাওয়ায় এখানেই এসে ভিড় জমায় সবাই।

লাইব্রেরি  চত্বরে দিনে অন্তত কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে গ্রুপ স্টাডি করতে দেখা যায়। এতে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিভাগ বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার পড়াশুনা। এখানে জায়গা পেতে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একটুখানি ফাঁকা স্থান পেলেই গোল হয়ে বসে চালিয়ে যান পড়াশুনা।

রোববারে লাইব্রেরি চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, চত্বরের একটি স্থানও ফাঁকা নেই-যেখানে গিয়ে একটু বসা যাবে। সবাই বই ও খাতা নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বিভাগের বড় ভাইয়ের কাছে কঠিন বিষয়গুলো সহজ করে নিচ্ছেন।

দেখা গেল-বিভাগের সেরা শিক্ষার্থীরাও বন্ধুদের পড়াশুনায় সাহায্য করছেন। অনেক শিক্ষার্থী আবার একে অন্যের জানা বিষয়গুলো শেয়ার করছেন বন্ধুদের মাঝে। জায়গা না পেয়ে অনেক দল আবার চলে যাচ্ছে বিশ্বিবিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে। কেউ যাচ্ছেন আমতলা ও লিচুতলায়।

গ্রুপ স্টাডি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ, মতিউর, আরিফ, ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, গ্রুপ স্টাডির ফলে অনেক কঠিন বিষয় সোজা হয়ে যায়।

যে বিষয়টি ক্লাসে আমরা বুঝতে পারি না সেটি আমরা এখানে এসে সমাধান করি। আর লাইব্রেরি অনেক বিস্তৃত জায়গা। বিভাগের কাছে হওয়ায় এখানেই সবাই বসে পড়ি। এছাড়া গ্রুপ স্টাডিতো আর লাইব্রেরির ভেতরে করা যায় না। তাই বারান্দায় বসে করতে হয়। এতে আমাদের দুর্বলতা অনেকটাই কেটে যাচ্ছে।

এদিকে প্রাইভেট পড়ানো এক শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে ক্যাম্পসলাইভকে তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার পাশাপাশি বিভাগের ছোট ভাই-বোনদের প্রাইভেট পড়াই। সপ্তাহে তিনদিন এই লাইব্রেরি চত্বরে আমাকে আসতেই হয়।
DSC01786
এ ছাড়াতো আর তেমন কোন জায়গাও নাই। কিংবা আমার তেমন অর্থও নাই যে আমি রুম ভাড়া করে প্রাইভেট চালাবো। তবে এখানে পড়াতে কোনো সমস্যা হয় না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালরের লাইব্রেরি প্রশাসক প্রফেসর ড. সফিকুন্নবী সামদি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করছেন অনেক ভালো। অযথা সময় নষ্ট না করে সময়কে কাজে লাগাচ্ছেন। এটা শিক্ষার্থীদেরই উপকারে আসবে।

তবে বারান্দায় বসে পড়াশুনা করা একটু খারাপ দেখায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কিছু বলেনি। ফলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অন্তত ২৫ থেকে ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর একসাথে পাঠ গ্রহণ করার সুবিধা রয়েছে। তিন তলার এই বিশালাকায় গ্রন্থাগারটিতে পুস্তক, দেশি-বিদেশি জার্নাল ও পুরনো পত্রপত্রিকাসহ (১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত) রয়েছে আরো অনেক মূল্যবান সব ডকুমেন্ট।

রাবি, ২৩ আগস্ট//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে