[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ইবিতে কমিটি নিয়ে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব চরমে


প্রকাশিত: August 24, 2015 , 7:24 pm | বিভাগ: ইলেকশন,খুলনার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সংগঠন শাপলা ফোরামের কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামী পন্থি শিক্ষকদের দুগ্রুপের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এক পক্ষের বিরুদ্ধে অপর পক্ষ জালিয়াতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও আদালত অবমাননাসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন। অপর পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে যেসব কথা বলছেন তার কোনো ভিত্তি নেই।

এদিকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষক সমিতির কনফারেন্স রুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে আদালত অবমাননাসহ নানা অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের একাংশ।

জানা যায়, গত ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরামের কার্য নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ এনে ওই দিনই বিবৃতি দেন নির্বাচন পরিদর্শক ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি রুহুল আমিন।

এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্নিচনের ভোট পু:নগণনার দাবি জানিয়ে কয়েক দফায় নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত আবেদন করেন বলে জানা গেছে।

কিন্তু এই আবেদন নির্বাচন কমিশন আমলে না নিলে তারা আদালতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত নির্বাচনের ভোট পুন:গণনা ও নতুন কমিটির দায়িত্ব গঠনের ওপর একটি রুল জারি করেন।

এ বিষয়ে আদালতে গত ১৯ আগস্ট একটি শুনানি হয় এবং আগামী ৩০ আগস্ট শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে বিচারাধীন অবস্থায় সোমবার অভিযোগকারী শিক্ষকদের পক্ষকে বাদ দিয়ে ১৫সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেছে অন্য পক্ষের শিক্ষকবৃন্দ।

কমিটিতে নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত (৯৩) শিক্ষক প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীকে কোনো সম্পাদকীয় পদ না দিয়ে কার্যকরী সদস্য করা হয়েছে।

অপরদিকে ৭৮ভোট পেয়ে ১৫ জন নির্বাচিত সদস্যের মধ্যে ১১তম স্থান পাওয়া প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিনকে সভাপতি ও আইন বিভাগের প্রফেসর ড. সেলিম তোহাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এরই প্রতিবাদ ও কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনের পদ বঞ্চিতরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী, শাপলা ফোরামের সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন, সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান এবং বর্তমান প্রক্টর প্রফেসর ড. টি এম লোকমান হাকিম।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ, বঙ্গবন্ধু হলের প্রোভস্ট প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক স্বপন, সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মেহের আলী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন,‘আমরা পদের জন্য নয়, আমরা নির্বাচনের সচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য ভোট পুন:গণনার দাবি জানিয়েছি। আমাদের মধ্য থেকেই তো নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ড. আসকারী। ভোট পুন:গণনায় যদি তিনি হেরেও যান আমরা সেটাও মেনে নিতে পারবো।

তারা বলেন, আদালত বলেছে ভোট পুন:গণনা করতে। তাহলে তারা কেন ভয় পাচ্ছে? এখানেই তো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে।’

তারা বলেন, ‘আমরা আদালতকে শ্রদ্ধাকরি। আদালত যে রায় দিবে আমরা তাই মেনে নেবো। কিন্তু একটা বিচারাধীন বিষয়ে তারা কীভাবে কমিটি করে নিশ্পত্তি করতে চাইছেন তা আমরা বুঝি না। আমরা এই কমিটি মানি না। আমরা চাই, যারা প্রগতিশীলতার কথা বলে প্রগতিশীল শিক্ষকদের মধ্যে ভাঙ্গনের সৃষ্টি করছেন, তাদের মুখোস উন্মোচন করে দিতে।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘শাপলা ফোরামের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সভাপতি কোনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। বর্তমানে যাকে সভাপতি করা হয়েছে, তিনি ভোটে ১১তম হয়েছেন। এর আগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির পদ থেকে দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কার করা হয়।’

এ বিষয়ে কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আদালত অবমাননা করিনি। আর যদি করেও থাকি তাহলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন, তাতে ওনাদের এতো মাথাব্যথা কেনো?’

ইবি// এমজে, ২৪ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস