[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



কারিগরি শিক্ষা বেকারত্ব কমাচ্ছে : ড. মুস্তাফিজ


প্রকাশিত: August 25, 2015 , 8:23 pm | বিভাগ: ইন্টারভিউ


কারিগরি শিক্ষা নিলে, বিশ্বজুড়ে কর্ম মেলে…। এ স্লোগান উপলব্ধি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। কারণ চাকরির বাজারে এখন বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এই শিক্ষা কার্যক্রম। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রয়েছে এই শিক্ষার কদর।

প্রতিবছর শত শত শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও চাকরি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। ফলে রেমিটেন্সও বাড়ছে।এই কারিগরি শিক্ষাকে হাতের নাগালে নিয়ে যেতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এর কার্যক্রমের নানান দিক নিয়ে সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে চলেছেন বোর্ডের কাণ্ডারি ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান।

তার জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগাচ্ছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েই তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগর তৈরিতে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠ দানেরও ইচ্ছা নিয়ে সামনে যেতে চান।

ড. মুসাফিজুর রহমান বর্তমান নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামে প্রাইমারি ও মৈনম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্রিক পাশ করেন। ছোটবেলায় তিনি স্বপ্ন দেখতেন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে বুয়েট থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি করেন। তিনি সফলতার সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি নেন।

DSC_0220

এক ছেলে ও কন্যা সন্তানের জনক তিনি। দেশের এই ব্যতিক্রম বোর্ড আধুনিকতার সাজে সাজিয়ে মানুষ গড়ার কারখানা বানাতে চান। কারিগরি বোর্ডের নানান পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসলাইভের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। ইন্টারভিউ নিয়েছেন ক্যাম্পাসলাইভের বিশেষ প্রতিনিধি শান্তনা চৌধুরী।

ক্যাম্পাসলাইভ: কী কী সম্ভাবনা দেখছেন এ শিক্ষা ঘিরে?

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির অপার সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। তথ্যপ্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি বোর্ডের সিলেবাস ও কারিকুলাম। বিশ্বায়নের এ যুগে আমরা আজ পরিণত হয়েছি মধ্যম আয়ের দেশে। অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধির সাথে সাথে দেশে ঘটে চলেছে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ শিক্ষার কার্যক্রমকে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এতসব সাফল্যের মধ্যেও চাঁদের কলঙ্কের মত দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব যেন সে সাফল্যকে অনেকটাই গ্রাস করতে চলেছে।

ড. মুস্তাফিজ বলেন, যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। দেশে বর্তমানে শিক্ষিতের হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। আর বেকারের বর্তমান হার প্রায় ৪৭ শতাংশ। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত জনগোষ্ঠী থাকার পরও দেশ উন্নত হওয়ার বদলে তারাই যেন অভিশাপ। কিন্তু কারিগরি শিক্ষায় যারা শিক্ষিত তারা এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে।

বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিখেছে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ। আর বর্হিবিশ্বেও এ শিক্ষায় শিক্ষিতদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। আর তাই দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পর ইউরোপ ও আমেরিকার শ্রমবাজার দখল করা দরকার। বিশ্বের ১৫৭টি দেশে জনশক্তি রপ্তানি করলেও স্থায়ী বৈদেশিক শ্রমবাজার মাত্র ১৪টি দেশে সীমাবদ্ধ। এই দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনাই, মরিশাস ও ইরাক।

ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সে কারণে সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট জোর দিচ্ছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, জাপান, ব্রাজিল, ইতালি, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা বেকার সমস্যা সমাধানে কতটুকু ভূমিকা রাখছে ?

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের পার্ট বাই পার্ট বিভাগ রয়েছে। যা বেকার সমস্যা দূর করতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। আমাদের প্রোগ্রামগুলো সাধারণত ৬ মাস থেকে ৪ বছর ব্যাপী। শিক্ষার্থীকেই বেছে নিতে হবে কোনটা তার জন্য জরুরি। কোন প্রোগ্রাম বা কোর্স করলে সে ভালো করবে। ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে।

বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলছে ৪৯টি পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট। বেসরকারিভাবে চলছে প্রায় ৪শ প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ৬৪টি জেলায় রয়েছে একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (টিএসসি)। মাত্র ১০ টাকা করে বেতন ভাতায় আমারা প্রশিক্ষত জনশক্তি তৈরি করছি। তারা দেশ-বিদেশে চাকরি করছে। বেকার নেই বললেই চলে।

ক্যাম্পাসলাইভ: শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কী?

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: প্রতিটি ক্ষেত্রেই কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। উন্নত বিশ্বে কারিগরি শিক্ষার হার ৬০ শতাংশ। সেখানে আমাদের রয়েছে ৮ শতাংশের মত। বর্তমান সরকার আগামি ২০২০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটা আমাদের জন্য গ্রেট চ্যালেঞ্জ। সময়োপযোগী চিন্তা। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। হয়তো একটু সময় লাগবে। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যেখানে ভারত সরকার আমাদের সহায়তা করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আরো এক লাখ কারিগরি গ্র্যাজুয়েট বাড়াতে পারবো। তবে কারও একার পক্ষে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এটা সমষ্টিগত কাজ। কারিগরি শিক্ষা সর্বত্র চালু হলে বেকারত্বের আশঙ্কা একেবারেই কম।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়মের ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হিসেবে আমরা আসলে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বডি না। আমরা শুধু অনুমোদন দিতে পারি। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বডি আবার দুই ধরনের। সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য গভর্নিং বডি রয়েছে। এ বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ভালো বলতে পারবে।

DSCN0870

 

ক্যাম্পাসলাইভ: কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের চাকরিতে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এ সম্পর্কে কিছু বলবেন?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: আসলে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের চাকরির সুযোগ রয়েছে দু’ধরনের। একটি হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর। অন্যটি সার্ভিস সেক্টর। এগুলো বেশির ভাগই ঢাকা এবং চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। স্বভাবতই এসব এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ বেশি। তবে জানামতে এখন আর এধরনের কোনো বৈষম্য নেই। তাছাড়া প্রতিযোগিতা তো থাকবেই। এসব মাড়িয়েই চাকরি নিতে হবে।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কী?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: অবশ্যই আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সমগ্র বিশ্বেই রয়েছে। তবে আমার মনে হয় চাকরিতে নিয়োগ এবং স্থায়ীকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদী বিষয়। এ বিষয়টি যারা অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে রয়েছেন তাদের দেখা উচিত। এছাড়াও আমাদের একটি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার মাধ্যমে পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। এটি ধীর প্রক্রিয়াতে হলেও আমরা সাপোর্ট পাচ্ছি।

 

এ বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বোর্ড ভালো বলতে পারবে। যেখানে সমস্যা হয় আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করে থাকি। মনিটরিং চলে বছরজুড়ে। এছাড়া শিক্ষক ছাড়া ডাবল শিফট চালুর অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে আসলে প্রথম শিফটে যে শিক্ষকরা থাকেন তারাই দ্বিতীয় শিফটের ক্লাসগুলো পরিচালনা করেন। আমাদের প্রথম শিফট সকাল ৮ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত চলে। এরপর দ্বিতীয় শিফট চালু হয় দেড়টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। একটু সমস্যা হলেও প্রথম শিফটের শিক্ষকরাই এই ক্লাসগুলো নেন। তবে অবশ্যই দ্বিতীয় শিফটের জন্য শিক্ষক থাকলে ভালো হত। তবে যারা দ্বিতীয় শিফটে ক্লাস নিচ্ছেন তারা তাদের বেসিকের ৫০% টাকা পাচ্ছেন সেকেন্ড শিফটের ক্লাস নেয়ার জন্য।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: উন্নত বিশ্বে কারিগরি শিক্ষার হার ৫০-৬০ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৮-১০ শতাংশ। এর কারণ কী?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর আমাদের একটি গাইডেড পলিসির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কারিগরি শিক্ষা নিলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এটাও নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার এই নিয়ে নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

 

উন্নত বিশ্বে যেমন লন্ডনে যখন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে যায় তখন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাকে পরখ করে দেখেন। সে কোন বিষয়ে ভালো করবে বা কোন বিষয়ে তার ক্যারিয়ার গড়ে উঠবে। তারা প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রোফাইল মেইনটেইন করে মনিটরিং করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা সেভাবেই গাইডেড হয়। যদি তাদের যোগ্যতা কম থাকে তবে তারা পরামর্শ দেন অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য। আমাদের দেশে সে সুযোগটি কম এবং শিক্ষকদেরকে আরও সময় দিতে হবে। তবে আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবো।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে সে বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এতে কোনো ছাড় নেই। যদি কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয় তবে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপ্যাল বা ভাইস-প্রিন্সিপাল নেই। এরপরও অনুমোদন মেলে কিভাবে ?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: আসলে অনুমোদনের ক্ষেত্রে আমরা কিছু বিষয় বিবেচনা করি। যেমন, স্থাপনের অনুমতি এবং অবকাঠামো, বইপত্র ও যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। এছাড়াও সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন এবং বিদ্যুত রয়েছে কিনা ইত্যাদি। তাদের সময়সীমা দেয়া হয় যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের কিছু বিষয়গুলো অর্জন করতে হবে। আমাদের শুধু শহরমুখী হলে হবে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে কিছু বিষয় ছাড় দিতে হবে। আর শিক্ষক নিয়োগের পর যে অনুমোদন হয় তা কিন্তু নয়। অনুমোদনটি আগেই দেয়া হয়। তবে তাদের বলা হয় নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংখ্যা পূর্ণ করতে হবে। এক্ষেত্রে অনেক সময় তারা শিক্ষকদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। তবে মনিটরিং চলে সারা বছর।

DSCN0984

 

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনি দায়িত্ব গ্রহণের পর উল্লেখযোগ্য কিছু কর্মকান্ড সম্পর্কে বলুন?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: আসলে কোনো কাজেই একক চেষ্টায় সফল হওয়া যায় না। বোর্ডের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাকে সহযোগিতা করছেন। চলতি বছরের ১০ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর চেষ্টা করেছি শিক্ষা বোর্ডের যথাযথ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। পূর্বে এ ভবনটি এবং আশপাশের প্রাঙ্গণ ছিল অস্বাস্থ্যকর। ছিল ময়লা-আবর্জনাযুক্ত। অল্প বৃষ্টিতেই ভবন চত্বর হয়ে পড়তো জলাবদ্ধ। আমি সবাইকে সাথে নিয়ে এ সমস্যা দূর করেছি।

 

এছাড়াও এখানে আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। পাঠদানের ক্ষেত্রে আগে আমাদের যে ত্রৈমাসিক বৈঠক হতো তা এখন সপ্তাহে নিয়ে আসা হয়েছে। যার প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে শিক্ষা কার্যক্রমে।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনার বোর্ডের ফলাফল কেমন। আপনি কি ফলাফলে সন্তুষ্ট?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: কারিগরি শিক্ষাবোর্ড হতে ২০১৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়, (ব্যাবসায় ব্যাবস্থাপনা) শিক্ষাক্রমে ১ হাজার ৫৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে মোট ৮৯ হজার ৩৮৪ জন, ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ৬৪টি প্রতিষ্ঠান হতে ৮ হাজার ৫৯৮জন, এছাড়া ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স শিক্ষাক্রমে ৭ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে মোট ৩১৪ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯৮ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

এর মধ্যে ব্যাবসায় ব্যাবস্থাপনা হতে ৭৮ হাজার ২০১ জন (৮৭.৪৯%) , ভোকেশনাল হতে ৫হাজার ৬৪৩ জন (৬৫.৬৩%), এছাড়া ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স হতে ২৮১ জন (৮৯.৪৯%) পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন।

IMG_20150802_120712

 

ক্যাম্পাসলাইভ: বোর্ডের কার্যক্রমকে ডিজিটাল করার ব্যাপারে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমকে মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ও ডিজিটিলাইড করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। কাজের সুবিধার্থে অন্যান্য বোর্ডের মত অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছি। বিভিন্ন পরীক্ষায় কোডিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এবারই প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁস এড়াতে ২ সেট প্রশ্ন ছাপা হচ্ছে। এখন থেকে ভর্তির যাবতীয় কাজ চলবে অনলাইনে। তিনি বলেন পেমেন্ট নেয়ার কাজটিও চলছে অনলাইনে। এসব কারণে দুর্নীতি ও অনিয়ম আর হবে না।

 

একই সঙ্গে সকল যোগাযোগ হবে ই-মেইলে। এতে সময় ও খরচ কমবে। কাজ হবে দ্রুত গতিতে। আমরা বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করছি। এমনি আসলে মাত্র তিন মাস সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: কারিগরি শিক্ষা বোর্ড নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন।

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: আমরা পুরোপুরি অটোমেশনে যেতে চাই। আমাদের শিক্ষার্থীদের ফি আদায়, শিক্ষকদের পেমেন্টসহ সকল কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে ওয়েবসাইট নির্ভর করতে চাই। এক্ষেত্রে বোর্ড তাদের সহায়তা করবে। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ ডাটাবেস নির্ভর এবং অনলাইন ভিত্তিক বোর্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল দেশ গঠনে আমরাও অংশ নিতে চাই।

 

ক্যাম্পাসলাইভ: স্যার, আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

 

ড. মুস্তাফিজুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।