[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ছোট্ট রিমের জন্য আবিশ্বের ভালোবাসা


প্রকাশিত: August 29, 2015 , 8:03 pm | বিভাগ: ইন্টারন্যাশনাল,ফিচার


ইন্টারন্যাশনাল লাইভ: ওর ছোট্ট মুখখানিতে দারিদ্র্যের স্পষ্ট ছাপ। কিন্তু চোখে রাজ্যের হাসি। মা নেই। বাবাই ওর সবকিছু। আর এখনতো সারা দুনিয়ার মমতা ওই ছোট্ট রিমের জন্য। সবাই ওর দুঃখের সাথী।

বাবার ডান কাঁধে ঘুমন্ত ফুটফুটে মেয়েটি। ডান হাত দিয়ে জড়িয়ে কোনো মতে সেই মেয়েকে সামলাচ্ছেন। সেই হাতেই আবার ঝোলানো রয়েছে কালো প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ।

বাঁ হাতে ধরা এক গোছা ডট-পেন। চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। ডট পেনগুলোই যেন তাঁর শেষ সম্বল। বৈরুতের এই পেন বিক্রেতার ছবিটি নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে দিয়েছিলেন নরওয়ের মানবাধিকারকর্মী গিসুর সিমোনারসন। লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার শরণার্থীদের নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো।

কিন্তু গিসুরের পোস্ট করা ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। শেয়ার আর লাইক হুহু করে বাড়তে থাকে। এর মধ্যে অনেকেই এই ব্যক্তিটিকে সাহায্যও করতে চান। এ বার ঝামেলায় পড়লেন গিসুর। কে এই বিক্রেতা, আর কেই বা ছবিটি তুলেছেন সেই সম্পর্কে কিছুই জানতেন না গিসুর।

শেষে সোশ্যাল মিডিয়ারই শরণাপন্ন হলেন তিনি। এগিয়ে এলেন গিসুরের পরিচিত মানবাধিকার কর্মী ও বন্ধুরা। তার সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন অসংখ্য মানুষ। শুরু হল ‌‌’বাই পেন’ অভিযান।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দু’দিন পরে সোশ্যাল মিডিয়াতেই খোঁজ মিললো। মানবাধিকার কর্মী ক্যারল মালৌফ খোঁজ পেলেন পেন বিক্রেতার। ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে গিসুর জানালেন ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল।

যুদ্ধ শুরু হলে সিরিয়ার ইয়ারমুকের এই বাসিন্দা লেবাননে পালিয়ে আসেন। স্ত্রী নেই, দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো মতে টেনেটুনে সংসার চলে তাঁর। কোলের ওই মেয়েটি রিম। দেখার কেউ নেই, তাই রিমকে কোলে করেই পেন বেচতে বেরিয়েছিলেন আবদুল। সিরিয়ায় চকোলেটের কারখানায় কাজ করতেন। এখন পেন বিক্রই সম্বল।

তাঁকে নিয়ে যে এত বড় কাণ্ড হয়ে গেছে তা শুনে তো হতবাক আবদুল। তবে হাসিখুশি ছটফটে রিম কিন্তু ক্যারলের কাছে ছুটে গিয়ে সেলফি তোলার বায়না করেছে। সেই দাবি মেটাতে নারাজ হননি ক্যারল।

অতঃপর গিসুর ঠিক করলেন আবদুলকে কিছু সাহায্য করতে হবে। তাই ‘বাই পেন’  অভিযানে আবদুলের জন্য অর্থ সাহায্য চাইলেন গিসুর। লক্ষ্য ছিল পাঁচ হাজার ডলার তোলার। দাবি জানানোর তিন ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষ্যপূরণ।
rim-2
২৪ ঘণ্টার পরে সেই তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ৮০ হাজার ডলার। সারা বিশ্ব থেকে সাহায্য এসেছে। তহবিলের অঙ্ক শুনে কেঁদে ফেলেছেন আবদুল। এ বার দুই সন্তানকে অন্তত স্কুলে পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁর মতোই সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদেরও সাহায্য করতে চান আবদুল। সঙ্গে আশা যুদ্ধ থামলে এক দিন দেশে ফিরতে পারবেন তিনি।

ঢাকা, ২৯ আগস্ট//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে