[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



জাবিতে জিনসেং উৎপাদন!


প্রকাশিত: September 3, 2015 , 4:42 pm | বিভাগ: আপডেট,ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রিসার্চ


Ginseng Root in Flaskসানাউল্লাহ মাহী, জাবি থেকে: জিনসেং একটি ওষধি উদ্ভিদ। যার গুরুত্ব ও চাহিদা বর্তমান সময় ব্যাপক। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি মহামূল্যবান বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

উদ্ভিদ গবেষকরা বলছেন, এটি যেমন রোগ প্রতিরোধে খুব উপকারী। অন্যদিকে শরীরে তারুণ্যের শক্তি উৎপাদনসহ নানা কারণে ব্যাপক পরিচিত। জিনসেংয়ের জন্মভূমি কোরিয়া। তবে এটি জাপান. চীন, আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাষ হচ্ছে।

দেশের চাহিদা বিবেচনা করে এই প্রথমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে জিনসেং এর উৎপাদন শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার চুংবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনসেং উৎপাদনকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়েলগ্রিন ইনকরপোরেশনের সহযোগিতায় বিভাগটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েল এটি উৎপাদন করছেন। এক্ষেত্রে তিনি সেল জেনেটিক্স, প্লান্ট বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরিতে জীবপ্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জিনসেং মূলের উৎপাদন শুরু করেছেন।
Dr Abdullah Sohawal 01
ড. সোহায়েল ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, জিনসেং একটি বহুল ব্যবহৃত ওষধি, গুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ। যার মূলে রয়েছে বিশেষ রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা। হাজার বছর ধরে চীন, জাপান এবং কোরিয়াতে জিনসেং মূল রোগের প্রতিষেধক, শক্তি উৎপাদনকারী, পথ্য ও টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ড. সোহায়েল বলেন, জিনসেং বর্তমানে সারাবিশ্বে একটি আলোচিত ওষধি উপাদান। আমেরিকা এবং ইউরোপে ফাংশনাল ফুড হিসেবে এটি বহুল প্রচলিত।

তিনি জানান, এর বহুমুখী উপকারিতা ও ওষধিগুণের কথা বিবেচনা করে বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উৎপাদন পদ্ধতির উদ্ভাবন চলছে। যাতে করে এই মহামূল্যবান ওষধটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পৃথিবীর যে কোনো স্থানে উৎপাদন করা যায়।

তিনি আরো বলেন, জিনসেং শব্দটা উচ্চারণের সাথে যে দেশটির নাম উচ্চারিত হয় সেটি হলো কোরিয়া।

জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে জিনসেং মূলের উৎপাদন  প্রসঙ্গে ড. সোহায়েল আরো জানান, জিনসেং কোরিয়াতে এবং বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হলেও এর চাষাবাদ বেশ কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। মাঠ পর্যায়ে মাটিতে চাষাবাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন এছাড়াও এর বৃদ্ধি খুব ধীর। চাষাবাদ পরিশ্রম সাধ্য ও ব্যয়বহুল।

এভাবে চাষ করলে চারা থেকে বাজারজাত যোগ্য অবস্থায় পৌছাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ বছর লেগে যায়। এটি দূষণ, সংক্রমণ ও কীট-পতঙ্গের আক্রমণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকিতে থাকে। তাই বিভিন্ন দেশে জিনসেং-এর চাহিদা মেটানোর জন্য বিকল্প পদ্ধতিতে জিনসেং মূলের টিস্যু থেকে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জিনসেং মূল উৎপাদন করা হয়।

বাংলাদেশে এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওষধ কোম্পানীগুলো বিদেশ থেকে এই মহামূল্যবান জিনসেং মূল আমদানী করছে। এই গবেষণা প্রয়াসটি সফল হলে বাংলাদেশেই কোরিয়া এবং চীনের মতো জিনসেং মূল এর বিপুল উৎপাদন করা সম্ভব।

বর্তমানে ওষধের পাশাপাশি প্রসাধন এবং খাদ্য শিল্পে জিনসেং বহুল ব্যবহৃত। যার মধ্যে ত্বক ফর্সাকারী সাবান, ফর্সাকারী ক্রিম , সানস্ক্রিন , টুথপেস্ট , হেয়ারটনিক, শ্যাম্পু, এনার্জি ড্রিংক, ক্যান্ডি, বিভিন্ন বেভারেজ উল্লেখযোগ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার চুংবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. পেক কি ইউপ পরীক্ষাগারে জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে জিনসেং উৎপাদনের বিস্তার এবং বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ড. সোহায়েল চুংবুক বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. পেক কি ইউপের অধিনে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। ড. পেক কি ইউপের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশে এই প্রথম বারের মতো জিনসেং মূলের উৎপাদন শুরু করেছেন ড. সোহায়েল।

প্রসঙ্গত, এর আগে ড. সোহায়েল জীবপ্রযুক্তিরস মাধ্যমে প্যাশান ফল এবং হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে লেটুসের চাষ  উদ্ভাবন করেছিলেন।

জাবি// এসএম, ০৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস