[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া হোক!


প্রকাশিত: September 5, 2015 , 8:45 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


মারুফ জামান: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভূগোল, পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনা (জিইইউপি) বিভাগের শিক্ষার্থীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একটি বিভাগ ভেঙে দুটি বিভাগ করায় দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে ৪টি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, ভূগোল, পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনা (জিইইউপি) ভেঙে ভূগোল ও পরিবেশ (জিই) নামে একটি এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) নামে অপর পৃথক একটি বিভাগ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন দুটি বিভাগের যেকোনটিতে পছন্দানুযায়ী স্থানান্তরের সুযোগ দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।

তারা জানান, জিইইউপি বিভাগ ২০১১-১২ সেশন থেকে কার্যক্রম চালু করে। বর্তমানে এই বিভাগের অধীনে ৪টি ব্যাচের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

শিক্ষার্থীদের দাবি, জিইইউপি বিভাগ পাবিপ্রবিতে চালু হওয়ার পর থেকেই এই বিভাগ নিয়ে একটা ধোয়াশা ছিল।
তবে বেশিরভাগই একে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিভাগের মতো বিভাগ বলেই জানতেন। কারণ
এডমিশন টেস্টে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত অথবা জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে এই বিভাগে ভর্তি হওয়া যেত।

এছাড়া ক্লাসরুমে বিভাগের শিক্ষকরা বিভাগের  নামকরণের কারণ হিসেবে বলতেন, এই বিভাগ মূলত নগর পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দিয়েই গঠিত।

তবে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে পড়তে গেলে ভূগোল ও পরিবেশের কিছু বিষয় পড়তে হয়। এজন্য ড. নজরুল ইসলাম (তৎকালীন UGC প্রধান) এই বিভাগের এরূপ নামকরণ করেছিলেন। যাতে করে শিক্ষার্থীদের
চাকরির ক্ষেত্র বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগিরা বলেন, শুরু থেকে বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখাতেন। তাই পরিকল্পনাবিদ হওয়ার ইচ্ছায় অনেক শিক্ষার্থী দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ পেলেও তারা পাবিপ্রবির জিইইউপিতেই থেকে যান। এমনকী অনেকে ইঞ্জিয়ারিং বিষয়ে সুযোগ পাবার পরেও পরিকল্পনাবিদ হবার প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকায় এই বিভাগেই পড়াশুনা করছেন।

তারা জানান, সমস্যাটা শুরু হয় যখন শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানারস (বিআইপি)-এর সদস্যপদের জন্য আবেদন করলে বিআইপি তাদেরকে সদস্যপদ দিতে অস্বীকৃতি জানায় তখন। জিইইউপি
বিভাগের সিলেবাসের বেশিরভাগ কোর্সের সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইউআরপি’ বিভাগের এবং অর্ধেকের বেশি কোর্সের সাথে ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ‘ইউআরপি’ বিভাগের কোর্সের হুবহু মিল থাকা সত্ত্বেও এবং মোট ১৬৪ ক্রেডিটের কোর্স থাকার পরও বিভাগের উদ্ভূত নামকরণের জন্য পরিকল্পনাবিদ হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন। তারা বিভাগের চেয়ারম্যানের
মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নিকট আবেদনপত্র পাঠান। যাতে তাদের ন্যায্য অধিকারটুকু পান।

ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগে মাত্র একজন আরবান প্ল্যানারকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যার বিপরিতে ৫জন ভূগোলবিদকে এবং ১ জন পরিবেশবিদকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যা শিক্ষার্থীদের মনের সন্দেহকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভুক্তভোগিরা বলছেন, বিভাগের সিলেবাসে সবচেয়ে কম কোর্স আছে যা ভূগোল সম্পর্কিত। দেখা যায়, একজন
পরিকল্পনাবিদ ৪ ব্যাচের সকল কোর্সের ক্লাস নিতে পারতেন না। তাই নগর পরিকল্পনার কোর্স হওয়া সত্ত্বেও সেই কোর্সের শিক্ষক থাকতেন কোন না কোন ভূগোলবিদ।

এতে করে শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে পারতেন না ।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ভিসির কাছে আবেদন দিয়ে  বিভাগের নাম পরিবর্তন করে হলেও তাদের  পরিকল্পনাবিদ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার দাবি জানান।

কারণ চাকরির বাজারে অনুরূপ সমস্যা দেখা দেয়ায় পাবিপ্রবিতেই ‘এপ্লাইড ফিজিক্স, ইলেকট্রোনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে ‘ইলেকট্রোনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।

তাদের সেই অধিকার পূরণ না করে ২০১৪-১৫ সেশন থেকে জিইইউপি নামের বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
বিলুপ্ত করা হয়। এর পরিবর্তে জিই (ভূগোল ও পরিবেশ) এবং ইউআরপি (নগর ও অঞ্চলিক পরিকল্পনা) নামে দুটি আলাদা বিভাগ চালু করা হয়েছে।

এতে জিইইউপি বিভাগের শিক্ষার্থীরা চরম অস্তিত্ব সঙ্কটে এবং ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। এমনিতেই জিইইউপি নামের বিভাগ দেশের এবং বিশ্বের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকায় এবং পরিকল্পনাবিদ হিসেবে
স্বীকৃতি না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। এরসাথে বর্তমানে তাদের বিভাগকেই
বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বিভাগকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানালেও তাদের মুক্তভাবে ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ এবং ‘নগর ও অঞ্চলিক পরিকল্পনা’ বিভাগে স্থানান্তর করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

বরং তাদের পূর্বের জিইইউপি বিভাগের (যার আসলে বাস্তবিক অস্তিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই) অধীনেই রাখার
প্রতিবাদ স্বরূপ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, বিভাগে অবস্থান, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ৪টি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের তাদের পছন্দানুযায়ী ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ এবং ‘নগর ও অঞ্চলিক পরিকল্পনা’ বিভাগের যেকোনটিতে স্থানান্তরের সুযোগ দিতে হবে। একইসাথে তাদের দাবি, ওই বিভাগের অধীনেই তাদের স্নাতক (সম্মান) শেষে সনদ প্রদান করতে হবে।

তাদের এ দাবিকে সমর্থন করেছেন পাবিপ্রবির অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবি পূরণ করবে সে অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা।

লেখক: শিক্ষার্থী, পাবিপ্রবি।

পাবিপ্রবি// ০৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস