[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সংসারযুদ্ধ সামলে বিসিএস ক্যাডার হয়ে ওঠার অনুকরণীয় গল্প


প্রকাশিত: September 10, 2015 , 4:17 am | বিভাগ: আপডেট,ফিচার


university-girls

ইসমত আরা : প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আমার দুর্বল লেখনির জন্য। আমি কোন লেখিকা নই তাই গুছিয়ে লিখতে পারি না। তবে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া আড়ালের একটি গল্প সঙ্গে শেয়ার করতে চাই।

বহু স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। হল লাইফ, ক্যাম্পাস লাইফ, আড্ডা, পড়াশোনা, কালচারাল প্রোগ্রাম নিয়ে ভালোই কাটছিল দিনগুলো। হঠাৎ জীবন অন্যদিকে মোড় নিল।

অনার্স পাশ করতেই আমাকে বিয়ে দেয়া হলো। রেজাল্ট ভালো ছিল তবুও আর দশটা নারীর ক্ষেত্রে যা ঘটে, আমার ক্ষেত্রেও তার বিপরীত ঘটলো না। অর্থাৎ আমার চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছা, অনিচ্ছার কোন গুরুত্বই দেয়া হলো না। ছেলে ভালো তাই বিয়ে দেয়া হলো। তবে মনে মনে এইটুকু শান্তনা ছিল, বিয়ের পরেও আমাকে পড়াশোনার সুযোগ দেয়া হবে এমন আশ্বাসে।

বিয়ে হয়ে গেলো। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে আসা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে পড়াশোনায়। আবার শুরু হলো নতুন করে পথচলা। হল লাইফের ইতি ঘটলো। এভাবেই চলছিল ৬ মাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে আসতাম। যানজট, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বিদ্যা অর্জনের লড়াই চলতে থাকলো।

ছয় মাস যেতে না যেতেই শুরু হলো নতুন বায়না। নতুন অতিথির জন্য শুরু হলো পীড়াপীড়ি। অবশেষে মন রক্ষার্থে সেটাও বাস্তবায়ন করতে হলো। প্রথম সন্তানের জননী হলাম আমি। এবার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। এরজন্য বিসর্জন দিতে হলো ৬ মাস।

আবারো ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে ছুটোছুটির পালা শুরু হলো। তবে এবারের গল্পটা বড়ই সংগ্রামের। সংসার, একমাত্র ছেলেকে গোসল-খাওয়ানো, এরই মাঝে ক্লাস-পরীক্ষা।

অতিকষ্টে এগিয়ে চলছি বিদ্যা অর্জনের লড়াইয়ে। অাস্তে আস্তে আমার প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হলো শ্বশুরবাড়িতে। পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়ার জন্য পরোক্ষভাবে চাপ দেয়া হলো। সকালে উঠে নাস্তার টেবিলে, ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে, বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পর, রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে নানা কথা শোনানো হতো।

এভাবেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মাস্টার্স শেষ করলাম। আমার খুব ইচ্ছা ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার।

কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছিল। সাহস করে বলেই ফেললাম বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমার একটি স্বপ্ন আছে। আমার শাশুড়ী কড়াভাবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। আমার স্বামীও নাখোশ ছিলেন।

এতো বিরোধীতার মাঝেও শুরু হলো নতুন যুদ্ধ। কোন কোচিং করা হয়নি। বাসায় সংসার সামলানোর পাশাপাশি চলতে লাগলো প্রস্তুতি। এর মাঝে একাধিক ভ্রু-কুচকানো চোখ। চুন থেকে পান খসলেই দোষ। রান্না করতাম আর বিড়বিড় করতাম। শাড়ীর ভাজে সবসময় একটা ডিকশনারী থাকতো। সংসারের বাইরে যে সময়টুকো আমি পেতাম সবটুকো কাজে লাগানোর চেষ্টা করতাম। এর মাঝে আমার দুই বান্ধবীর অবদান আমি কখনও ভুলতে পারবো না। তাদের জন্যই আজ আমার এই অবস্থান। তাদের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হতো। এরজন্যও কম কথা শুনতে হয়নি। এমনকি আমার নামে কুৎসাও রটানো হয়েছে। আমি নাকি প্রেম করছি, এই সেই….

এভাবেই চলছিল। প্রিলিতে চান্স পাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলো। এরপর যখন ৩৪তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হলাম পাল্টে গেল সম্পূর্ণ দৃশ্যপট। এখন আমি আমার সংসারে সোনায় সোহাগা। বেড়ে গেছে কদর। সত্যিই আমি আজি লাকি।

তবে কারো প্রতি আমার কোন রাগ, ক্ষোভ কিংবা দুঃখ নেই। অজানা কিছু বিষয় শেয়ার করে হালকা হলাম এই আরকি। আরেকটি বিষয়। আমার এই লেখার পেছনে একটা বড় উদ্দেশ্যে রয়েছে। যারা পড়াশোনার মাঝখানে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তাদের জন্য বলছি। হাল ছেড়ে দিও না। কষ্ট করে হলেও এগিয়ে যাও সামনের দিকে। বিজয় হবেই…
ভালো থাকবেন সবাই।

 
লেখক
ইসমত আরা
৩৪তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত

 

[বি:দ্র: লেখকের অনুরোধে লেখাটি ছদ্দনামে প্রকাশ করা হয়েছে]

 
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন