[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সে অন্য কারো


প্রকাশিত: October 2, 2015 , 10:14 pm | বিভাগ: আর্টস এন্ড লিটারেচার


মেহরাব করিম সুপ্ত: ভোরের আলো তখনও ফুটেনি। পূবের আকাশে সুর্যের আগমন না ঘটলেও আবছা আলো আঁধারের খেলা ঠিকই চলছিল। সে খেলা দেখার ফুসরতই বা রইল কোথায়! রক্তিম সূর্যের লাল আভা জানালা দিয়ে ঠিকরে প্রবেশে করার আগেই সূর্যের আলোকেই হার মানানো এক মোহবিষ্ট আলোর আগমন।

গুটিগুটি পায়ে জানালা নয় বরং দরজা দিয়েই তার প্রবেশ। ঘুম জড়ানো চোখে নিজের আসনখানি খুজে নেয়ার ব্যাকুলতা।

বরাবরের মতই রঙ চেনার বিভ্রান্ত মোর চক্ষু যোগল, মেজেন্ডা গোলাপি নাকি লাল যাই হোক ছোট ছোট সাদা সফেদ ফোটার আধিক্য যেন ঠিকরে পড়া আলোর ঝলকানিকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরো কয়েকগুন।

বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ব্যাকুলতা ঘ্রাস করেনি। কাছের কিংবা দূরের স্বলিঙ্গের আপন কেউ আসনখানি সাজিয়ে বসে রয়েছে ক্ষানিক আগে থেকেই। লাস্যময়ী মৃদু হেসে ঘাড় হেলিয়ে শুয়ার আসনে বসা।

তারপর…..

ঘুম ঝরানো কণ্ঠে আর হাই তোলার ঢেউয়ে কত না আলাপন। ঠিকরে পড়া আলোর মাঝেই সুবিনস্ত কেশের বাঁকানো আনাগোনা বাতাসের তালে তালে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে নয়তো  ওখানে।

হাসির কলরব আর সুবিন্যস্ত চুলের এ কারুকাজ ভাবিয়ে তুলছিল চিন্তার রাজ্যকে, মনে করিয়ে দিচ্ছিল জীবনানন্দ দাশের কবিতার সেই লাইনগুলো

“চুল তার কবে কার অন্ধকার বিদিশার নিশা……

“এতদিন কোথায় ছিলেন ?

” পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন ।

দখিনা সমীরনভরে কাচের জানালায় কাচা রোদের আগমন কারো দীপ্তিময় মুখচ্ছবি যেন সোনার মোড়কে বাঁধা।  সৃষ্টির অপার মহিমায় সৃষ্টি সুখের উল্লাসে চারদিক ছিল কল কাকলিময়।

লজ্জার মাখা আড় চোখে কারো বদনখানির মাঝে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল এখানটায় মনে হয় সৌন্দর্যের পারদখানির একটু বেশিই আনাগোনা। জানালার পর্দা খানি সে উল্লাসে একাত্মতা ঘোষনা করে কারো কথাই যেন মানছিল না। সুর্যের আলো কাচা রঙ ছেড়ে তখন যৌবনদীপ্ত রুপে আবির্ভূত।

সুর্যের এমন বাড়াবাড়ির দহনে কারো নাভিশ্বাস। বার বার মনে হচ্ছিল ঝেচে গিয়ে নিজ হাতেই পর্দাখানি ঠিক করে দিয়ে আসি, লজ্জা আর চরম ব্যক্তিত্ববোধের কারণে সে ইচ্ছে সফল যদিও গুড়েবালি। ক্ষনিক বাদে বাদে ইচ্ছে হচ্ছিল জানালার অবাধ্য ঐ বাজে পর্দাটাকে দু এক ঘা লাগিয়ে দিই।

অবশেষে কারো মৃদু বুদ্ধিদীপ্ত স্পর্শে জানালার কাপড়খানি কথা মানল। সুর্যের জ্বলন্ত অঙ্গার থেকে কারো দীপ্তিমাখা বদনখানিকে সযতনে ছায়া দিচ্ছিল। মনের গভীর কুঞ্জবনে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল ইশ হতাম যদি কাচের অপারের সেই পর্দার ছোট্ট কাপড়খানি। পেতাম না হয় কারুকাজ মাখা কারো আঙ্গুলির মৃদু স্পর্শ, নিজ পিঠ পুড়িয়ে না হয় বাঁচাতাম সেটে দাঁড়াতাম শীতল ছায়া হয়ে ।

খানিক বাদেই জগতের ঘুম এসে কারো আসল রূপের মহিমাকে প্রস্ফুটিত করল। নিস্পাপ পুত পবিত্র পরিচিত ছোট্ট কোন শিশুর ঘুম। মানুষ ঘুমালে নাকি তার মাঝে পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্যতা এসে ভিড় জমায়। কিন্তু তাই বলে এতোটা। ভাষাহীন বর্ণনাতীত এক সৌন্দর্যের অপার সুপ্ত বাড়াবাড়ি।

এত্ত অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা পৌঁছে গেলাম কখন বুঝেই উঠতে পারিনি, স্বপ্ন বানাতে বানাতে সময়টুকু কখন যে চলে গেল । কিন্তু স্বপ্নেতো আবহমান কাল ধরেই স্বপ্নই। বাস্তবে আসলেই তার বিপত্তি…

যাই হোক, পরম আশ্রয়ে সজ্জিত দু আঁখির সাথে চোখাচোখি হয়নি, কিংবা হয়ে উঠুক ভয়েটা চাইওনি। আর চাইলেই বা কি !!!

স্বপ্নিল উড়ন্ত ভেলাটার ছন্দপতন হল…

ভাবলেশহীন ভংগিমায় ভাবছিলাম স্বপ্ন বুঝি এমনই বালির বাধ।স্বপ্ন গড়িতে কিছু সময় নিলেও ক্ষনিক বাদেই ভাংগার গান…!!!

মধ্যম আঙ্গুলের মাঝে দৃশ্যমান সোনালি আংটির বন্ধন, যে আবদ্ধ বুঝিয়ে দিচ্ছে সে বাগদত্তা সে অন্য কারো…।

শত সহস্র প্রনাম হে জীবনানন্দ দা তোমায় আমার মনের কথা আজ থেকে শতাব্দী পুর্বে বুঝিবার তরে…

“সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মত সন্ধ্যা আসে ,

ডানার রুদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল ;

পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন তখন গল্পে তার জোনাকি রঙ্গে ঝিলমিল ,

সব পাখি ঘরে আসে। সব নদী- ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন, থাকে শুধু অন্ধকার…….।”

mkarimdu@yahoo.com

ঢাকা// ০২ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস