[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘‌ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিকে প্রথম সারিতে নিতে চাই’


প্রকাশিত: October 3, 2015 , 8:43 pm | বিভাগ: ইন্টারভিউ


ড. প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার। গৌরবময় তার শিক্ষাজীবন। রয়েছে দেশে-বিদেশে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের বিস্তর অভিজ্ঞতা। বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রো-ভিসি হিসেবে কর্মরত। এই শিক্ষাবিদ ১৯৪৭ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ এবং ১৯৭৩ সালে এমএ পাশ করেন।

পরবতীর্তে ১৯৭৭ সালে সোসিও এনথোলজিতে এমফিল শেষে ভারতের রাচি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। ছোটবেলা থেকে প্রবল মেধার অধিকারী এই শিক্ষাবিদ পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকেই বেছে নেন।

ড. প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৮ সালে রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে এবং ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে একই বিভাগে কাজ করেন।

১৯৯৩ সালে একই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সোশ্যাল ওয়ার্কের উপর ফর্মার প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন তিনি। তবে ২০০৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হংকংয়ে বেইজিং নরমাল ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ কো-আর্ডিনেটর কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি অ্যাক্টিং ডিন হিসেবে একই ইউনিভার্সিটিতে কাজ করেন এক বছর।

1 (7)

এছাড়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এডজয়েন্ট প্রফেসর ছিলেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে ১৫ এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসির দায়িত্ব পালন করেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল আর পড়তে ভালোবাসেন অবসরে। গবেষণায় তার অগ্রহ ছাত্রজীবন থেকেই। প্রায় ২০টির বেশি প্রজেক্টে তিনি রিসার্চ করেছেন বিভিন্ন বিষয়ের উপরে।

অত্যন্ত সফলতার সাথে দুটি আর্ন্তজাতিক জার্নাল প্রকাশ করেন ড. প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার। তাঁর ব্যক্তিগত পাবলিকেশন সংখ্যা ৯টি। এছাড়াও অসংখ্য পাবলিকেশন্সে তার বিভিন্ন উদ্ধৃতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার বর্তমান কর্মভাবনা, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-কে। বলেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি নিয়ে তার স্বপ্নের কথা। এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিয়েছেন বিশেষ পরামর্শ।

ক্যাম্পাসলাইভের পাঠকদের জন্য ড. প্রফুল্ল চন্দ্র সরকারের সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন নিয়েছেন আরিফ চৌধুরী শুভ।
ক্যাম্পাসলাইভ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কতজন?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স মাত্র তিন বছর তিন মাস। দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। একটি মহাখালী ও অন্যটি শ্যামলীতে। দুই ক্যাম্পাসে ৮ টিডিপার্টমেন্টে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৭০ জন।

ক্যাম্পাসলাইভ: বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ টিউশন ফির কারণে গরিব মেধাবিরা পড়ার সুযোগ পায় না। তাদের পড়ালেখার জন্য কী কী সুযোগ-সুবিধা ইউওরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি দিয়ে থাকে?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চার স্থান। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে গরিব মেধাবীদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে গরিব মেধাবীদের বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি ৪০% ওয়েবার দেয়া হয়। যেটা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যায়ে দেওয়া হয় বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া মধ্যবিত্তরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত কম টিউশন ফিতে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি মুক্ত হলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন রাজনীতির সাথে শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে। আপনাদের এখানে কি রাজনীতি উন্মুক্ত?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: দেখুন প্রত্যেকেরই একটি স্বাধীন চেতনা আছে। রাজনীতির বাইরে কোনো কিছু নেই। তবুও কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করার নাই। তবে ক্যাম্পাসে রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ক্যাম্পাসলাইভ: একটি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস অন্যতম প্রধান শর্ত। আপনাদের কি সেটি আছে?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: এটি সত্যি কথা। কিন্তু ঢাকার মত ব্যয়বহুল জায়গায় একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস কয়টা ইউনিভার্সিটির আছে? তবেআমাদের দুটি ক্যাম্পাসের মধ্যে মহাখালীর ক্যাম্পাসটি নিজস্ব। আমাদের হাতে ইউজিসির দেওয়া সময় ২০১৯ সাল পর্যন্ত। আশাকরি এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে পারবো।

1 (11)

ক্যাম্পাসলাইভ: অনেকের মুখে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়- শিক্ষার সংকোচন নীতি।আপনি শিক্ষার সংকোচন নীতিকে কিভাবে দেখবেন?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: শিক্ষা মানুষের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। তবে মৌলিক অধিকারের উপর যখন হস্তক্ষেপ করা হয় তখন পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষার ক্ষেত্রে সংকোচন নীতি হলো শিক্ষার্থীদের প্রর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব। যেটা তাদের প্রাপ্য, সেটা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে না পাওয়ার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে তারা ছিটকে পড়েন। সেটা পাবিারিক বা রাষ্ট্রীয় দুইভাবেই হতে পারে।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত নীতিই হলো শিক্ষার সংকোচন নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষায় অযৌক্তিক ভ্যাট বা টিউশন ফি বাড়ানোটাও এই নীতির মধ্যে পড়ে।

ক্যাম্পাসলাইভ: ভালো মানের শিক্ষার্থী হয়ে উঠতে ভালো শিক্ষকের প্রয়োজন। আপনাদের শিক্ষার্থীরা কি সেটি পাচ্ছেন?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: ভালো শিক্ষকের সংস্পর্শে ভালো শিক্ষার্থী যেমন তৈরি হয়, তেমন ভালো শিক্ষকও একদিনে হয়ে ওঠে না। ভালো মানের শিক্ষক তৈরি করে নিতে হয়। তবে আমরা শিক্ষক বাছাইয়ে যথেষ্ট সর্তকতা অবলম্বন করি। শিক্ষক যাচাইয়ের পরে ক্লাস নেওয়ার জন্য তাদের বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত করে তোলা হয়। এখানকার বেশির ভাগ শিক্ষকই অভিজ্ঞ এবং অত্যন্ত ভালো মানের।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনি আগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। এখন প্রাইভেটে। দুইটা ভিন্ন পরিবেশে কোন পার্থক্যগুলো আপনার চোখে পড়েছে?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: পার্থক্য তো অনেক জায়গায় আছে। পরিবেশগত পার্থক্যটা প্রথম। তবে মূল কথা হলো একজন শিক্ষক যেকোনো জায়গায় যাক না কেন তার কাজ একটাই-শিক্ষাদান করা। এখানে কোনো পার্থক্য নেই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা-ল্যাব সুবিধা, শিক্ষকদের গবেষণার ব্যায়ভার কিংবা আবাসন সুবিধা-সবই সরকার বহন করে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সেটি সম্ভব নয়।

DSC_3456

তাই সব কিছুতেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আপাতত এই সব পার্থক্যক তেমন কিছু মনে হচ্ছে না। জীবনে যেই অভিজ্ঞতা আছে সেগুলোকে ঠিক মত কাজে লাগানোর মাধ্যমে সব পার্থক্য দূর হয়ে যাবে।

ক্যাম্পাসলাইভ: বর্তমানে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার কী উপদেশ।

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: আমাদের সময় আমরা যে কাজটা করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতাম এখনকার তরুণরা সেটি খুব সহজেই ইন্টারনেট কিংবা আশপাশের বন্ধু-বান্ধবের সহায়তা নিয়ে করতে পারে।

এটা তাদের জন্য একটা পজিটিভ দিক। কিন্তু একদিনে যেমনি সফল হওয়া যায় না, তেমনি সফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি লেগে থাকতে হয়। তাদের মধ্যে দ্রুত সফল হওয়ার এই প্রবণতা তা পরিহার করতে হবে। কারণ সব কিছুর জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। দ্রুত সফল না হলে তারা বেশির ভাগই হতাশ হয়ে পড়েন। হতাশ হলে চলবে না। গবেষণায় নিজেদের বেশি জড়িত করতে হবে।

ক্যাম্পাসলাইভ: এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবারের মত। আমার পরিবারকে ঘিরে যেমন স্বপ্ন থাকে, তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আমার স্বপ্ন অবশ্যই আছে। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি মাত্র ২ মাস হয়েছে। সব কিছু বুঝে ওঠার জন্যওতো একটু সময় লাগবে। তবে স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য পরিবারের সবার সাথে যেমন আলোচনা করা হয় তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা কর্তাব্যক্তি তাদের সাথে আলোচনা করেই বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

আপাতত প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনার জীবনের বেশির ভাগ সময় আপনি শিক্ষা আর গবেষণার কাজে ব্যয় করেছেন। ব্যতিক্রম কিছু পেয়েছেন?

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: প্রতি মুহূর্তে মানুষ শিখছে। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম। তবে গবেষণায় নতুন অনেক কিছু পেয়েছি। আমার অনেকগুলো পাবলিকেশন্স আছে। সেখানে আমি ব্যতিক্রমকে প্রাধান্য দিয়েছি। এই যে আপনি এক রকম আর আমি আরেক রকম। আমি যে আপনার মত না, এটাও তো ব্যতিক্রম তাই না? ব্যতিক্রম ছাড়া জীবন হয় না। আমার জীবনটাই ব্যতিক্রম। হা…হা…হাহা (হাসি)।

ক্যাম্পাসলাইভ: আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার: ক্যাম্পসলাইভ পরিবারকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা, ০৩ অক্টোবর//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে