[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ঘুরে আসুন অন্ধ্রের ‘নৈস্বর্গ’


প্রকাশিত: October 12, 2015 , 10:09 pm | বিভাগ: আপডেট,ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট,ফিচার


bishakhanottama-1লাইভ প্রতিবেদক: ভ্রমণ। কে না পছন্দ করে। ভ্রমনের মাধ্যমে যেমন পাওয়া যায় মানসিক প্রশান্তি। সেইসাথে জ্ঞানের পরিধিও বিস্তৃত হয়। নিত্য নতুন জায়গা সম্পর্কে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। সবারই ভালো লাগার বিষয়।

এমন অনেকে আছেন কর্মজীবনে একটু ছুটি বা বিশ্রাম পেলেই ছুটে যান প্রকৃতির কাছে। খুঁজেন মানসিক প্রশান্তি। তাদেরকে প্রকৃতি ও আধুনিকতায় পরিপূর্ণ নতুন এক পর্যটন কেন্দ্রের পরিচয় করিয়ে দেয়া যাক। হয়তো অনেকে ইতোমধ্যে সেখান থেকে ঘুরেও এসেছেন। কিন্তু প্রকৃতি এমন যে, বার বার তার কাছে ডাকে মানুষকে। তাইতো প্রকৃতি প্রেমিরা ভ্রমনেই আনন্দ, সুখ ও শান্তি খুঁজেন।

বিশাখাপত্তনম: যার ডাক নাম ভাইজ্যাগ। সেখানে দু’ধরনের সমুদ্রের সঙ্গে পরিচয় ঘটবে। একটা লাগাম ছাড়া, দুরন্ত। অন্যটা স্নিগ্ধ, শান্ত। শুধু তাই নয়। আরও একটা কারণ ভাইজ্যাগকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে৷

পাহাড় ও সমুদ্রের মেলবন্ধনে তৈরি অন্ধ্রপ্রদেশের এই সাজানো শহরকে অন্ধ্রের ‘নৈস্বর্গ’ বললে ভুল হবে না। না গেলে হয়তো জানতেই পারবেন না। কেন একে ‘সিটি অফ ডেসটিনি’ও বলা হয়।

ভাইজ্যাগেজর অন্যতম গন্তব্য ফিশিং হারবার। যেখান থেকে জাহাজে করে মাছ ও সি-ফুড বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বিশাখাপত্তনমের এই মৎস সংরক্ষণের বন্দরটি দেশের অন্যতম বড় রপ্তানি কেন্দ্র। হারবারের দিকে এগোলে দুপাশে চোখে পড়বে স্তুপাকারে মাছ শুকোনোর ছবি। পাবদা, পমফ্রেট সবরকমই রয়েছে। মাছুনিরা আবার সেগুলোকে হাত দিয়ে ভালোভাবে নাড়া-চাড়া করে দেওয়ায় গন্ধের তীব্রতাও বেড়ে যায়।

এখানেই মিলবে বোটে করে বঙ্গোপসাগরের বুকে পাড়ি দেয়ার টিকিট। মাথা ঢাকা ছোট লঞ্চে জনা তিরিশেক যাত্রীর বসার জায়গা। জানালা দিয়ে মাথা বের করে সাক্ষী হওয়া যায় অপরূপ প্রকৃতির৷ নীল আকাশের নীচে আর নীল জলের ওপর প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে চেটে পুটে উপভোগ করার এই সুযোগ ছাড়া যায় না৷ শান্ত, স্নিগ্ধ সমুদ্রের সে এক অনন্য রূপ৷ মিনিট কুড়ি যাওয়ার পর চালক চেঁচিয়ে জানান দেবেন, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছাকাছি এসে গেছে লঞ্চটি৷ তখন যেদিকেই চোখ পড়বে, শুধুই নীল৷ কে যেন চোখে স্বপ্নের রং লাগিয়ে দিয়ে গেছে৷

bisha4সমতল থেকে এবার উঁচুতে ওঠার পালা৷ গন্তব্য সিমলাচলম এলাকার সিমাচলম মন্দির৷ ভাইজ্যাগের অন্ততম দর্শনীয় স্থান এটি৷ বিরাটাকার এক বজরংবলির মূর্তি পেরিয়ে রাস্তা ঘুরে যায় ডানদিকে৷ এবড়ো খেবড়ো রাস্তার দু’পাশে বেশিরভাগই জঙ্গল৷ মাঝে-সাঝে দু’একটা ঘর বাড়ি নজরে পড়বে৷ বহু প্রাচীন। দক্ষিণ ভারতের এই মন্দিরটি জনপ্রিয় এর অসাধারণ কারুকার্যের জন্য৷ মন্দিরের ভিতর ছবি তোলা নিষেধ৷ মন্দিরের প্রধান দেবতা বিষ্ণু৷ বিগ্রহের সারা দেহ চন্দনের পুরু আবরণে ঢাকা৷ বছরে মাত্র একবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ১২ ঘণ্টার জন্য আসল বিষ্ণু মূর্তি দেখার সুযোগ পান দর্শনার্থীরা৷ সেদিন নতুন করে তাঁর দেহে চন্দনের প্রলেপ লাগানো হয়৷ মন্দিরের ভিতর এক প্রান্তে রয়েছে দেবতার বিরাট বড় সিংহাসন৷ সেই সিংহাসন অবশ্য খালি৷ দেওয়ালের গায়ে খোদাই করা নরসিংহের মূর্তি৷ পুরাণে বিষ্ণু কীভাবে নরসিংহের রূপ ধরে হিরণ্যকশিপুকে হত্যা করেছিলেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে দেওয়ালের কারুকার্যে৷

মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার ঠিক আগে দেবাদি-দেবের দর্শনও করেন ভক্তরা৷ এই সৌন্দর্যের রেশ কাটতে না কাটতেই চোখে পড়বে আরেকটি মধুর দৃশ্য৷ মন্দির থেকে বেরিয়ে খানিকটা পথ গেলে রাস্তার ধার থেকে নীচের দিকে ঝুঁকে দেখতে হবে৷ প্রায় ১০০ মিটার নীচে বাঁধানো এক ঝিলের ঠিক মধ্যিখানে পুস্করিণী স্নানাঘর৷ অতীতে রাজাদের সহধর্মীনিরা এই ঘাটেই স্নান করতে আসতেন৷ একটা বিশাল বড় কেকের মাঝে একটুকরো চেরির মতোই সুন্দর সেই দৃশ্য৷ এককথায় ‘পিকচার পারফেক্ট’৷

bisha 2কৈলাশগিরি৷ ভাইজ্যাগের আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র৷ সুন্দর সাজানো একটা পার্ক৷ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই পার্কের কেন্দ্রে বিশালায়তন শুভ্র শিব-পার্বতীর মূর্তি বিরাজমান৷ সত্যি কথা বলতে কী, টয় ট্রেন, রোপ-ওয়ে, বাচ্চাদের খেলার নানা উপকরণ দিয়ে সাজানো পার্ক কলকাতায় একাধিক রয়েছে৷ এতো নতুন কিছু নয়৷ কিন্তু গিরির চূড়ায় শিব-পার্বতীর অবস্থান এর শোভা কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলেছে৷

এখানেই শেষ নয়, পাহাড়ের দেহ কাটা-ছেঁড়া করে গড়ে ওঠা এই পার্কের রেলিং ধরে দাঁড়ালেই বোঝা যাবে, নাঃ, ঘরের থেকে অনেক দূরই এসে পৌঁছেছি৷ অশান্ত বঙ্গোপসাগরের ঢেউ আর গর্জন বারবার জানান দিয়ে চলেছে, সে পার্কের নীচেই রয়েছে৷ কৈশালগিরির রোপ-ওয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের কোলে নেমে আসে৷ পাহাড়ে ঝোপ জঙ্গল, নীচ দিয়ে চলে যাওয়া সরু রাস্তা, গাড়ি ঘোড়া অতিক্রম করে সমুদ্র সৈকতের ঠিক ওপরে ঝুলন্ত অবস্থায় খানিকক্ষণ চারপাশের শোভা দেখা৷ তারপর আবার ফেরা কৈলাশে৷ পার্কের পিছন দিকে অনেকে আবার খাওয়ার বেঁধে নিয়ে এসে জমিয়ে পিকনিকও করেন৷

bisha5কৈলাশগিরি থেকে সমুদ্রসৈকতের দূরত্ব খুব একটা বেশি না৷ সমুদ্রতটে পা রাখতেই বাঙালির মনে রোম্যান্টিকতার উদয় হয়৷ মজার বিষয় হল, এতক্ষণ যে কৈলাশগিরি থেকে সমুদ্রের গর্জন শুনছিলাম৷ এখন সেই পাহাড়টাই সটান দাঁড়িয়ে রয়েছে সমুদ্রের এক প্রান্তে৷ ক্রিকেটে একই দলে সচিন তেন্ডুলকর ও ব্রায়ান লারা এবং গ্লেন ম্যাকগ্রা ও মুথাইয়া মুরলীথরন খেললে যেমন বিশ্বমানের একটা কম্বিনেশন উপহার পাওয়া যাবে, প্রকৃতি তেমনই পাহাড়-সমুদ্র মিশিয়ে এক অবিশ্বাস্য মধুর কম্বিনেশন দিয়ে সাজিয়ে তুলেছে ভাইজ্যাগকে৷

bisha 3রামকৃষ্ণ সমুদ্র সৈকতের মূল আকর্ষণ আবার সাবমেরিন। সৈকতে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি প্রাচীন যুদ্ধ সাবমেরিন। যা আপাতত পরিণত হয়েছে মিউজিয়ামে। টিকিট কেটে সেখানে ঢুকে পড়তে পারলেই অনায়াসে জেনে নেওয়া যাবে যুদ্ধ সাবমেরিনের ভিতরটা ঠিক কীরকম হয়। কীভাবে সেনারা সেখানে জলের নীচে দিনের পর দিন কাটান। এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ সচরাচর মেলে না।

যাতায়াত-কলকাতা থেকে ফলকনামা বা করমণ্ডল এক্সপ্রেসে বিশাখাপত্তনম স্টেশন। সেখান থেকে অটোয় ২-৪ কিলোমিটারের মধ্যে হোটেল পাওয়া যাবে।

খরচ- ৬জনের দল গেলে খানিকটা কম খরচ হবে। মাথা পিছু ৭ হাজার টাকাতেই ঘোরা, খাওয়া-দাওয়া, থাকা সবই হয়ে যাবে। একা গেলে আনুমানিক ৯-১০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

সুযোগ থাকলে এখনই বেরিয়ে পড়ুন। অথবা প্লান করে ফেলতে পারেন ভাইজ্যাগ ভ্রমনের।

ঢাকা// ১২ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস