[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যেভাবে বেড়ে ওঠেন ম্যান্ডেলা


প্রকাশিত: December 6, 2013 , 8:24 pm | বিভাগ: ইন্টারন্যাশনাল


নাজমুস সাকিব: তাক লাগানো বর্নবাদ বিরোধী নেতা সদ্য প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলা। পুরো নাম নেলসন রলিহ লাহলা ম্যান্ডেলা। তার জীবন নিয়ে সারা দুনিয়ায় বিষ্ময়ের শেষ নেই। নেলসেন ম্যান্ডেলা কিভাবে বেড়ে উঠেছেন, কি বা ছিল তার শিক্ষা যা এই মানুষটিকে এত বেশী ওপরে তুলে এনেছে?
 
আফ্রিকার ছোট একটি গ্রাম। নাম এমভেযো। এই গ্রামের প্রধান গাদলা হেনরী এমফাকান ইসওয়ার এর স্ত্রীর কোল জুড়ে  ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই পৃথিবীতে এসেছিলেন শিশু রলিহ লাহলা। তখনকার সাম্রাজ্যবাদী শাষকরা শিশুটির বাবাকে গ্রাম প্রধানের পদ থেকে অপসারন করেন। এর ফলে তার বাবা পরিবার নিয়ে চলে যান কুনুতে। সেসময় এমফাকান ইসওয়ারের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কারনে থেম্বুর শাষনক্ষমতায় আসেন ডালিন্দ এবু।

রলিহ লাহলা জন্মের সময় থেকেই পরিবারের গর্বের বিষয় হয়ে ওঠেন। শিশুটি তার পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে একাডেমীক পড়াশুনা শুরু করে, আর সেই থেকেই বালক রলিহ লাহলার নাম দেয়া হয় নেলসন।
বালক নেলসন ৯ বছর বয়সেই যক্ষারোগ আক্রান্ত বাবাকে হারান । বাবা মারা যাবার পর বালকটির অভিভাবকত্বের দায়িত্ব কাঁধে নেন তৎকালিন শাষক জনগিন তাবা। থেম্বুর আভিজাত্যের ধারাবাহিকতায় বালক নেলসন ওয়েসলিয়ান স্কুলে পড়াশুনা শুরু করেন । মেধাবী কিশোর নেলসন মাত্র দুই বছরেই জুনিয়র সার্টিফিকেট নিয়ে ফোর্ট বিউফোর্ট কলেজে চলে যান। কিশোর নেলসন কলেজ জীবনে এথলেটিক ও বক্সিং খেলায় প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেন।

তরুন ম্যান্ডেলা ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা শুরু করেন। এসময় ট্রান্সেকেই রাজ্যের শাষক কায়সার কে ডি মাতানজিমা এবং ওলিভার টাম্বুর মত ব্যক্তিরা তার বন্ধু হয়ে ওঠেন। তাদের ব্যক্তিত্বে তরুন নেলসন অনেক বেশী প্রভাবিত হন।

ম্যান্ডেলা প্রথম রাজনীতির সাথে যুক্ত হন তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। সেসময় তিনি `স্টুডেন্ট রিপ্রেজেন্টিভ কাউন্সিল` এর মুখপাত্র হিসেবে কাজ শুরু করেন। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখানের ঘোষণা দেয়। এর ফলে ম্যান্ডেলার পক্ষে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেয়া আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারনে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।  

ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মাত্র পরিবার থেকে ঠিক করা পাত্রিকে বিয়ে করার ভয়ে ম্যান্ডেলা পালিয়ে চলে আসেন জোহানেসবার্গে। এসেই তিনি নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার আভিজাত্যের পরিচিতি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায় কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর থেকে নিজের পরিচয় গোপন করে তিনি কেরানীর চাকরী শুরু করেন।
 
কাজের পাশাপাশি ম্যান্ডেলা দক্ষিন আফ্রিকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।এরপর তিনি আইন বিষয়ে পড়াশুনার জন্য উইট ওয়াটার স্রান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এসময় আরো এমন তিন ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয় যাদের মাধ্যমে জীবন ও রাজনীতি নিয়ে  অনেক বেশী অনুপ্রাণিত হন তিনি। সে থেকে আরো অনেক বেশী বর্ণবাদ বিরোধী হয়ে ওঠেন।
 
উল্লেখ্য, আভিজাত্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা তরুন নেলসন ম্যান্ডেলা বিচক্ষন একজন মানুষ ছিলেন। উচ্চ শিক্ষিত হবার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য সমানাধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তিনি তার জ্ঞান, দক্ষতা ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে যেমনি করে দক্ষিন আফ্রিকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, ঠিক তেমনি করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেলসন ম্যান্ডেলা একজন শান্তির দূত হিসেবে বিশ্বের বুকে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।    

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর(ক্যাম্পাস লাইভ)//এনএস