[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ইউএপিতে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক


প্রকাশিত: October 30, 2015 , 4:07 pm | বিভাগ: আপডেট,ঢাকার ক্যাম্পাস,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি,রিসার্চ


ইউএপি লাইভ: ইউনির্ভাসিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) অনুষ্ঠিত হয়েছে “বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা: প্রসপেক্টস এবং চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। ইউএপির আইন ও মানবাধিকার বিভাগ, আমেরিকান এলামনাই এসোসিয়েশন এবং ডেইলি স্টারের যৌথ উদ্যোগে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার এক প্রেসবার্তায় এ তথ্য জানায় ইউএপি জনসংযোগ বিভাগ।

 

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, ইউনির্ভাসিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ভিসি প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী,  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শফি সামি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ তামিম, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বুয়েট, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স’র প্রতিনিধিরা।

 

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা আমাদের সমস্যাগুলো জানি কিন্তু সে সব সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে আমাদের ঐক্যমত প্রয়োজন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জ্বালানির মূল বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক সদ ইচ্ছা
এবং সরকারের সঠিক নীতির অভাব। তিনি আরও বলেন, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনে বিশেষজ্ঞদের নীতিবাচক অভিমত থাকা সত্তেও সরকার তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বুয়েটের প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম বলেন, ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১১বার কয়লা নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো টিরই কার্যকারিতা নেই। তিনি বলেন, কয়লা উত্তোলনের জন্য কয়লা নীতির আর প্রয়োজন নেই। দেশের বিদ্যমান জ্বালানি আইনের মাধমেই কয়লা উত্তোলন করা যাবে। দেশের আবিস্কৃত কয়লা খনি থেকে কয়লা তুলতে হলে আইন করতে হবে। যেখান থেকে কয়লা উত্তোলন করতে হবে, ওই জায়গা ভরাট করে দিতে হবে, কয়লা উত্তোলন শেষে জমির মালিককে বিনা মূল্যে জমি ফেরত দিতে হবে।

তিনি বলেন, আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগের কোনো প্রয়োজন নেই। জিডিপিতে অবদান রাখে এমন খাত যেমন, শিল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। জ্বালানি সেক্টরে সুশাসন নিশ্চিত করতে এ মন্ত্রণালয়ের একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী দেয়ার পরামর্শ দেন। একই সাথে বাপেক্সসহ দেশীয় অন্যান্য গ্যাস উৎপাদানকারী কোম্পানির গ্যাস উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বেশি দরে গ্যাসের মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে জ্বালানি মূল্য বাজার দরে নির্ধারণ করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।

পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭২ সালের পর থেকে আমাদের মূল বা প্রধান জ্বালানি ছিল তেল। বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রচেষ্টা ছিল জ্বালানি তেলভিত্তিক। শিল্প-কারখানা, বিদ্যুত উত্পাদন সবই নির্ভর করতো জ্বালানি তেলের ওপর। ১৯৭৩ সালে আরব দেশগুলো জ্বালানি তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আড়াই মার্কিন ডলার বেড়ে ১২-১৪ ডলারে উন্নীত হয়, যাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট অ্যারাব অয়েল এমবার্গো শক’। আরব দেশগুলোর জ্বালানি তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বিশ্বব্যাপী এর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ সময় উন্নত দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি অনুসন্ধান শুরু করে।
তিনি বলেন, ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে বাংলাদেশের মোট আমদানি ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে ছিল খাদ্যপণ্য, এক-তৃতীয়াংশ ছিল জ্বালানি তেল এবং অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ অন্যান্য পণ্য। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মোট আমদানি বাজেটের অধিকাংশই চলে যাচ্ছিল এটি আমদানিতে। এর আগ পর্যন্ত দেশে স্থানীয়ভাবে গ্যাসের কদর ছিল না। কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্যাস সম্পদ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করেনি।
জ্বালানী বিশেষজ্ঞ বলেন, সত্তরের দশকের শেষ দিক থেকে আশির দশক পর্যন্ত ব্যাপক হারে গ্যাস ব্যবহার বাড়ে। ১৯৮৫ সালের পর আমাদের অর্থনীতি মোটামুটি গ্যাসনির্ভর হয়ে ওঠে, বিশেষ করে গত ১০ বছরে দেশে গ্যাস ব্যবহার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বেড়েছে। গ্যাসের এই ব্যাপক ব্যবহারের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে ক্যাপটিভ ভিত্তিক দ্রুত শিল্পায়ন, আবাসন শিল্পের বিকাশ ও সিএনজি।
১৯৭৫ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সময়ে যখন ‘জ্বালানি পরিবর্তন’ করা হয়, তখন থেকে একটি বড় ভুল করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ড. মোহাম্মদ তামিম।

 

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে এক ধরনের ভুল চিন্তাভাবনা কাজ করেছে— দেশের সম্পদ বিনামূল্যে বিতরণ করতে হবে। একটি সম্পদের যে অর্থনৈতিক মূল্য আছে এবং তা বিনামূল্যে বিতরণ করলে দ্রুততর সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং অপচয় হয়, সেটা অনুধাবন করা হয়নি। অর্থাৎ যে জ্বালানি তেলকে গ্যাস দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হলো, সেই গ্যাসের দাম জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ তো রাখা হলোই না। বরং সে সময় জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ দামে গ্যাস দেয়া শুরু করা হয়। সেই ধারা এখনো চলছে। এ প্রবণতা থেকে এখনো বের হওয়া যায়নি। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বিচার করা হয়, তাহলে ৯০ ডলারের সমপরিমাণ গ্যাসের দাম হওয়া উচিত ১৬ মার্কিন ডলার। অথচ বাংলাদেশে মাত্র ১ দশমিক ৭০ সেন্টে সেই গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এটিই গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ। কম দামের কারণে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে এবং অপব্যবহারও হয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করনে ইউএপির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী।
ইউএপি// ৩০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস