[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সুস্থ পরিবেশ মৌলিক অধিকার করার দাবি


প্রকাশিত: November 4, 2015 , 8:31 pm | বিভাগ: আপডেট,ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট,ন্যাশনাল


লাইভ প্রতিবেদক: সুস্থ পরিবেশের অধিবার সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩০টায় পবা কার্যালয়ে “বাংলাদেশের সংবিধান ও পরিবেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

 

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব ও বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণীর সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৮ক অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। অবশ্যই, এটি একটি অভিনন্দনযোগ্য অগ্রগতি।
এতে আরো বলা হয়েছে, এই বিধানে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব – বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রের উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ১৮ক)। সুতরাং এটা নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে না। বরং এটা রাষ্ট্রনীতির একটি মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের একটি গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় কাজের ভিত্তি গঠনে প্রয়োগ করা হবে (অনুচ্ছেদ ৮(২))।
পরিবেশ রক্ষার জন্য এই সাংবিধানিক দায়িত্ব রাষ্ট্র, তার সংস্থা, ব্যক্তি এবং আইনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা সম্পন্ন করা যেতে পারে। সুস্থ পরিবেশের অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে সন্নিবেশিত হলে নাগরিকদের পরিবেশ সংক্রান্ত অধিকার নিশ্চিত হতো, যা ইতিমধ্যে বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং সুস্থ পরিবেশের অধিকার সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

 

পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এম শাহ আলম, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, আইনের পাঠশালার সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত দাস খোকন, পবার সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, আবুল হাসনাত ।
এছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণদেশ। দারিদ্র এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আমরা আমাদের স্বল্প পরিমাণ ভূমি এবং আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে অতিব্যবহার করছি। এভাবে অতিব্যবহৃত হতে হতে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ তার হারানো গুণাবলী পুণরুদ্ধারের ক্ষমতা অনেকাংশেই হারিয়ে ফেলেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান যখন রচিত হয় পরিবেশগত সমস্যাগুলো তখনো এতটা প্রকট হয়ে উঠেনি এবং বিশ্বজুড়ে এ সংক্রান্ত সচেতনতাও ছিল তখন অতি সামান্য।

 

সভাপতির বক্তব্যে মো: আবদুস সোবহান বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে পরিবেশ বিষয়টি অতিগুরুত্বের সাথে অন্তর্ভূক্তির পরও বাংলাদেশের পরিবেশ প্রতিনিয়ত বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। খাল-বিল, নদী-নালা, জলাশয়ও নিম্নাঞ্চল দখল, ভরাট ও দূষণ, পানি প্রবাহে অপরিশোধিত শিল্প বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ফেলা, বন নিধন, অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন, মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে জনজীবন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন।
তিনি বলেন, যে কোন বিষয়ের সুনির্দিষ্ট আইন যেমন থাকতে হবে তেমনি এর যথাযথ প্রয়োগও থাকতে হবে। তা না হলে আমরা কাঙ্খিত ফলাফল পাবো না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারী সংস্থা, বিচারক ও আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে তাদেরকে আরো বেশি দায়িত্বশীল ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হতে হবে। তা হলেই আমরা পরিবেশ সংরক্ষণসহ রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সকল ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবো।

প্রফেসর ড. এম শাহ আলম বলেন, সংবিধান দিবস ঘোষণা করা হলে জনগণ সংবিধান সম্পর্কে জানতে পারবে। জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত হবে এবং রাষ্ট্রের ও নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে সবাই জানতে পারবে।
ড. শাহদীন মালিক তার বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ সংবিধানের মূলনীতিতে এসেছে এটা অভিনন্দনযোগ্য। তবে অধিকার অংশে আসলে ভাল হতো। পরিবেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সংবিধানের অধিকার অংশে আসা প্রয়োজন। পরিবেশ আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে খাদ্য। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিষমুক্ত ও নিরাপদ এবং পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্রকে আমরা এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেখছি না। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত কৃষি জমি কমছে । দিন দিন বাড়ছে জনসংখ্যা। কৃষি জমি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে।

 

ড. শাহদীন মালিক আরো বলেন, কৃষি প্রধান বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুর বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসছে। ফলে অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সেচের পানির অপর্যাপ্ততা, মরুকরণ, খরা, শীত, ভ’গর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, সুপেয় পানির অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ভ’মিধস, উপক’লীয় অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বন্যা ও লবণাক্ত পানিতে জমি ডুবে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় বাংলাদেশের কৃষি চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

আলোচনা সভা থেকে নিম্নাক্ত সুপারিশ করা হয়
১. সুস্থ পরিবেশের অধিকার সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা।
২. গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার তারিখ ৪ নভেম্বর-সংবিধান দিবস ঘোষণা করা।
৩.নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।
৪. প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও প্রাণ সম্পদকে গণসম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা।
৫. প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও প্রাণ সম্পদের সকল ব্যবহারে (বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা) পরিবেশের সুরক্ষা ও উন্নয়নকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে গণ্য করা।
৬. সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনকে সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা।
৭. দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিষমুক্ত ও নিরাপদ এবং পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করা।
৮. রাষ্ট্র কর্তৃক সম্পাদিত সকল চূক্তি, যাতে কোন না কোন ভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা , প্রাণ সম্পদ বা অন্য কোন প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার জড়িত, চূড়ান্ত করার আগে জনসমক্ষে প্রকাশ ও সংসদের অনুমোদন গ্রহণ করা।
৯. কোন রকম রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই পরিবেশ সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ প্রয়োগে সরকারের কার্যকর সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১০. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা জোরদার এবং দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১১.খাল-বিল, নদী-নালা, জলাশয়ও নিম্নাঞ্চল দখল, ভরাট ও দূষণরোধে কোন রকম কালক্ষেপণ না কওে এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১২.সারা দেশের জন্য ভ’মি ব্যবহার নীতিমালা প্রণয়ন করা।
ঢাকা// ০৪ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস