[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



অন্ধকারের গল্প : বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর সঙ্গে যা করলো লম্পট শিক্ষক


প্রকাশিত: November 11, 2015 , 10:27 am | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি,রাইম, স্টোরি এন্ড জোকস


তানজিলা হোসেন : নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে এখন আমি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছি। অামার লেখার হাত তেমন একটা ভালো না। তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আমি শেয়ার করছি। হয়তো এঘটনা শোনার পর কেউ কেউ অনিবার্য বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

সময়টা তখন ২০১২ সাল। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি সবেমাত্র। বিভাগের অন্য পাঁচটা মেয়ের চেয়ে আমি একটু আলাদা ছিলাম। মানে একটু নিশ্চুপ টাইপের। তথাকথিত স্মার্টনেস আমার মাঝে ছিল না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি ক্যাম্পাসে আমার চোখে চোখ পড়লে অন্তত দ্বিতীয়বার কেউ তাকায়নি এমন ঘটনা কম হয়েছে।

যাই হোক সেদিকে যাচ্ছি না। মূল ঘটনায় আসি। আমাদের বিভাগে বেশ কয়েকজন ইয়াং লেকচারার ছিলেন। এদের মধ্যে একজন শিক্ষক প্রথম ক্লাস থেকেই কেন জানি আমাকে অন্য চোখে দেখা শুরু করেন। অন্যদের চেয়ে অামাকে এক্সট্রা কেয়ার করতে লাগলেন।

ভালো ফলাফল করার ইচ্ছা আমার ছিল। তাই স্যারের এক্সট্রা কেয়ারটা নিলাম। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে আমার ভালো সখ্য গড়ে উঠলো। কেন জানি তার প্রতি দুর্বলতা অনুভব করতে লাগলাম। রাত ১০টার পর আমি মোবাইলে কথা বলি না। কিন্তু ধীরে ধীরে কেন জানি সেই নিয়ম রক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। মানে মাঝে মাঝেই ওই স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলতে রাত ১টা বেজে যেত।

এরই মাঝে আমার জন্মদিন চলে এলো। ওই রাতের কথা আজও মনে পড়ে। কথা বলতে বলতে কখন যে রাত পার হয়ে গেল টেরও পেলাম না। আপনাদের নিশ্চই বুঝতে বাকি নেই আমাদের সম্পর্কটা কোন দিকে গড়িয়েছে।

এভাবেই চলতে লাগলো। ৬ মাস পর আমাদের সম্পর্কটা যখন আরো গভীর হলো বয়সের দোষে মারাত্মক ভুল করে বসলাম। অামার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে বসেছি তার কাছে। ক্লাস পার্টি ছিল। ওই রাতে তিনি আমাকে বাসায় পৌঁছিয়ে দেয়ার কথা বলে আমার সর্বনাশ করে দিয়েছেন।

বাসায় ফিরে অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করেছি। কিন্তু যা হয়ে গেছে তা তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মনে হলো এবার তার প্রতি আমার অধিকার আরো বেড়ে গেল। যেকোন মূল্যে তাকে আমার পেতেই হবে। আমার তো আর অন্য কাউকে দেয়ার কিছু নেই। সবকিছু তো তাকেই সপে দিয়েছি।

গত এক সপ্তাহ ধরে আমি ইউনিভার্সিটিতে যাই না। ওর মোবাইল নম্বরটাও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে জানতে পারলাম জরুরি কাজে সে দেশের বাইরে গেছে। এখবরটা একবারও জানানোর প্রয়োজন মনে করলো না সে। মনকে সায় দিলাম। হয়তো ব্যস্ত ছিল, তাই…

দীর্ঘ ১৭ দিন পর ক্যাম্পাসে তার সঙ্গে দেখা। এর মাঝে আর তার সঙ্গে কোন কথা হয়নি। আমাকে দেখে কেন জানি অন্যমনস্ক হয়ে গেল সে। আরেকটা কথা বলে রাখি। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে একথা কেউ জানুক তা সে চাইতো না। তাই বিষয়টি একপ্রকার গোপনই ছিল। কিন্তু আমার কাছের কয়েকজন ফ্রেন্ড বিষয়টা জানতো।

যেটা বলছিলাম, আমাকে দেখে অন্যমনস্ক হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না। সেদিন কোনো কথা হলো না। তার ফোনটি এখনও বন্ধ রয়েছে। নতুন কোনো নম্বর নিয়েছে কিনা তাও জিজ্ঞাসা করতে পারছি না।

এভাবে কেটে গেল আরো একটি সপ্তাহ। এর মাঝে তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। আস্তে আস্তে সম্পর্কটা কেন জানি অন্যদিকে মোড় নিতে থাকলো। কাউকে কিছু বলতে পারছি না। স্যারের সঙ্গে কথাও বলতে পারছি না।

হঠাৎ একদিন তার ফোনটি খোলা পেলাম। অন্তত ৭বার ফোন দেয়ার পর ওপাশ থেকে সে বললো এতো রাতে ফোন কেন? আর কখনো আমাকে ফোন করবে না। তোমার উদ্দেশ্য কী…? খুবই আশ্চর্য হলাম। ১১টা কোনো রাত হলো! কত রাত কাটিয়ে দিয়েছি কথা বলতে বলতে…

সারারাত আমার ঘুম হলো না। আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী তা বোধগম্য হতে যাচ্ছে। তার মানে আমি ভুল মানুষকে সব কিছু সপে দিয়েছি। নাহ! হয়তো সে ব্যস্ত অথবা কোনো সমস্যা হয়েছে। ও এমন নয়। আমার প্রতি যথেষ্ট কেয়ারিং ছিল। খেয়েছি কিনা, পড়াশোনা হচ্ছে কিনা, সব খেয়াল রাখতো টাইম টু টাইম। আর এখন…

অামার এমন ভালোবাসার বিষয়টি কারো সঙ্গে শেয়ারও করতে পারছি না। কী হবে আমার ভেবে পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে মনে হয় এ জীবন আর রাখবো না। মা-বাবা ছোট ভাইটির কথা চিন্তা করে তাও করতে পারছি না। পড়াশোনা করতে পারছি না।

সে যাই হোক সেমিস্টারটা যাতে ড্রপ না হয়ে যায় সেজন্য নিজেকে মোটিভেশন করতে লাগলাম। আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। জীবনটা ছোট নয়। এখনো অনেক সময় পড়ে আছে। এভাবে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুললাম। আর আল্লার কাছে বিচার চাইলাম, ওই লম্পটের।

আবারো শুরু হলো নিয়মিত ভার্সিটিতে যাওয়া। তবে এবার নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলার চেষ্টা করলাম। দুঃখ ভুলে থাকতে ক্যাম্পাসে আড্ডা বাড়িয়ে দিলাম। মাঝে মাঝে আমার আচরণে বন্ধুরাও অবাক হয়ে যায়। এতো চেঞ্জ হয়েছে আমার। অনেকটাই ডেম কেয়ার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম।

কেটে গেল আরো একটি সেমিস্টার। নতুন সেমস্টারে নতুনভাবে শুরু করলাম। চলতে চলতে হঠাৎ আমার কানে এমন একটি কথা ভেসে আসলো যা শোনার পর আমি আবার সেই আগের মতই হয়ে গেলাম। ক্যাম্পাসে আড্ডা, হৈ-চৈ কোনো কিছুই আর এখন আমার ভালো লাগে না।

শিক্ষক নামের ওই লম্পটটা নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে সে। মনে মনে স্থির করলাম প্রতিশোধ নেয়ার সময় হয়েছে আমার। সুযোগ খুঁজতে লাগলাম। ওই ছাত্রীটিকে খুঁজে বের করতে ১ মাস সময় লেগে গেল। তার কাছে যখন আমি আমার ঘটনা খুলে বললাম, তখন আমাকে ভিলেনের চরিত্রে স্থান করে দেয়া হলো। মানে সে আমার কথা বিশ্বাস করেনি।

এঘটনার ১৫ দিন পর তার বিয়ে হয়ে গেল। আমি বিয়ে ঠেকাতে পারলাম না। শুনেছি ওই মেয়ের বাবা অনেক টাকা-পয়সার মালিক। এক বাপের এক মেয়ে। তাই লম্পটটা হয়তো লোভ সামলাতে পারেনি। আমার গল্পটা আমি আর বাড়াতে চাই না।

শুধু এটুকু বলতে চাই, আমার মতো এমন ভুল যেন কোনো ছাত্রী আর না করেন। প্রেম করার আগে বুঝেশোনে করা উচিৎ। আর বিয়ের আগে সবকিছু সপে না দিয়ে ভালোবাসার পবিত্র সম্পর্কটাকে বজায় রাখুন। আর শিক্ষকদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখুন। পুরুষ লোককে বিশ্বাস করুন, অনেক যাচাই বাচাই করে। তার পরেও (?) এ চহ্নটা মনে রাখবেন।

কথাগুলো শেয়ার করতে পেরে নিজেকে খুব হালকা লাগছে। আশা করছি তোমরা আমার মত ভুল করবে না।

 

লেখক : তানজিলা হোসেন
সাবেক শিক্ষার্থী, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি

বি : দ্র : সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখাটি ছাত্রীর ছদ্দনামে প্রকাশ করা হয়েছে।  

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন