[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর


প্রকাশিত: November 17, 2015 , 6:57 pm | বিভাগ: আপডেট,ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট,বরিশালের ক্যাম্পাস


ইমাদুল হক প্রিন্স : ক্যাম্পাসে একঘেয়েমি জীবন। এ থেকে একটু রিলাক্স প্রয়োজন। জীবনের গতিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে কোথাও ঘুরে আসতে সবাই উদগ্রীব। তাইতো পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ঐতিহ্যবাহি ধানসিঁড়ি ছাত্র কল্যাণ সমিতি আয়োজন করে এক বন্ধুত্বপূর্ণ হাঁসি, গান আর আনন্দের শিক্ষা সফর।
শিক্ষা সফরের গন্তব্যের তালিকায় ছিল কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ী, লালন শাহের মাজার ছেউড়িয়া, ভেড়ামারার লালন শাহ সেতু, ঐতিহাসিক মুজিব নগরসহ
মাদারিপুর, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া,পাবনা, চুয়াডাঙ্গা এবং মেহেরপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান।
ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের সামনে বকুলতলা থেকে ভোর ৪টায় শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আনন্দ ভ্রমণ। শিক্ষা সফরের আনন্দে এদিন অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী বন্ধুদের কারোই চোখে ঘুম ছিল না। তবে ক্যাম্পাস থেকে রাত ৩টায় গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও সবাই রেডি হয়ে বাসের কাছে আসতেই ভোড় ৪টা বেজে যায়।

ক্যাম্পাস থেকে গাড়ি বরিশালের পথে। সকালের স্নিগ্ধতায় কোলাহল মুক্ত ভোরে গাড়িতে চলে শিক্ষার্থীদের আড্ডাবাজি, গল্প, গান আর কাওয়ালি। এতেই কাকডাকা ভোরে সড়কের নিরবতা ভাঙে। বরিশাল সাগরদি থেকে আমাদের সাথে সফরে অংশগ্রহণ করেন সমিতির উপদেষ্টা কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মো. ইমাদুল হক প্রিন্স ও সফরের ক্ষুদে সদস্য শিব্বির।

অবশ্য ক্যাম্পাস থেকে আগেই সফরে যুক্ত হয়েছেন সংগঠনের উপদেষ্টা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সুজন কান্তি মালি ও লেকচারার পারমিতা মজুমদার স্বর্ণা ছিল।

বরিশাল থেকে গাড়ি কুষ্টিয়ার পথে। সকাল সাড়ে ৭টা। ফরিদপুরের ভাঙায় পৌঁছেছে আমাদের গাড়ি। সেখানে সকালের নাস্তা সেরে নেয়ার পালা। সেই সাথে গ্রুপ ছবি তোলার পর্ব।

নাস্তা সেড়ে পুরো ৪ঘন্টা বাসে। হৈ-হুলোর শেষে বেলা সাড়ে ১২টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাস থামে।
আবারো চিরাচরিত আওয়াজ দিয়েই সবাই নেমে যায়। সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। সমিতির উপদেষ্টাদের এ বক্তব্য শুনে যে যার মতো করে একেবারে এই দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের এক ঘেয়েমি জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্ত হতে সবাই বুক ভরে নিঃশ্বাস নেন।

আমাদের অতিথি নাছরিন সুলতানা পাপড়ি ও উপদেষ্টা পারমিতা মজুমদার স্বর্ণা বললেন ওফ! কোথা থেকে কোথায় এলাম, খুব ভালোই লাগছে। নিজেদের ক্লান্তি  দূর করার আগে সমিতির সদস্যরা সবাই সমস্বরে একইভাবে উক্তি। সবার অনুভূতি শুনে মনে হয়, যেন দীর্ঘদিন খাঁচায় বন্ধি বিষন্ন পাখিরা আজ মুক্তি পেয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক হলের সামনের দিঘির সিড়িতে দাঁড়িয়ে পানি ছিটিয়ে দুষ্টমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে যায় ছোট বেলার হারিয়ে যাওয়ার সেই স্মৃতিতে। এতে বাদ যায়নি সমিতির উপদেষ্টারাও।
এই মুহুর্তে আবার অনেককে দেখা যায় ক্যামেরা ম্যানের ভূমিকায়। তবে অন্যের ছবি তোলার জন্য নয়। ভাগাভাগি করে সেলফি তোলা। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবনের ছবি ফ্রেম বন্ধি করেন যে যার মতো।

শেষে ইবির স্বনামধন্য শিক্ষক প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মো. আমজাদ, মো. তানভিরের আমন্ত্রণে মীর মোশাররফ হোসেন অ্যাকাডেমিক ভবনে দুপুরের লাঞ্চ সেরে নেয়া হয়।

পরে ইবির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর খালিদ মাহমুদ জুয়েল আমাদের সাথে সফরে যোগ দেন। এবার যাত্রা শুরু হয় কুষ্টিয়া শহরে নিশি যাপনের জন্য আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখা আমাদের নির্ধারিত হোটেলে।

DSC05118

হোটেলে ক্ষাণিকটা বিশ্রাম নিয়ে পরন্ত বিকেলে সবাই  রওয়ানা হলাম বাউল সাধক লালন শাহের ঐতিহাসিক মাজারে। সেখানে স্মৃতি জাদুঘর ও মাজারের বিভিন্ন দৃশ্য দেখতে না দেখতেই নেমে আসে রাত। মাজারের সব ঘুরে সেলফি তুলে যে যার মতো করে একতারা, দোতরাসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনা কাটাও করেন। যেন সবাই লালন সঙ্গীতের শিল্পি বনে গেছেন।

তবে আর থাকা নয়। রওয়ানা হলাম লালন শাহ সেতু ও ভেড়ামারা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র দেখার জন্য এখানে সেতুর ওপারে ঈশ্বরদি পাবনার একাংশ দেখে রাত ১০টায় ফিরে এলাম কুষ্টিয়ার মজমপুরে আমাদের নির্ধারিত আবাসিক হোটেলে। রাতের খাবার হোটেলে ওঠার আগে খেয়ে নেই।
হোটেলে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডাবাজি, গল্প আর গান।

পরদিন সকাল ৯টায় নাস্তা শেষে আমরা রওয়ানা হলাম বিষাদ সিন্ধু খ্যাত কবি মীর মশারফ হোসেনের বাড়ি ও গড়াই নদী হয়ে শিলাইদহে রবি ঠাকুরের বাড়ি।

এখানে পৌঁছলে এবারে যেন আগের চেয়ে আরো বেশি আনন্দে সবাই আত্মহারা। বাউলদের গান শুনে সবাই মুগ্ধ। আর রবি ঠাকুরের বিভিন্ন ব্যবহার সামগ্রীর ছবি একজনের আগে অন্যজন তুলতে ব্যস্ত হয়ে যান।

DSC05387

রওয়ানা হলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। সেখানে আমরা দুপুর ১টায় পৌঁছে পবিপ্রবির সাবেক রেজিস্ট্রার মো. নওয়াব আলী খান এবং ইবির ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার, প্রো-ভিসি
প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে সাক্ষাত করে ও ছবি তুলে রওয়ানা হলাম মেহেরেপুরের মুজিব নগরের উদ্দেশ্যে।

ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা হয়ে আমরা সন্ধ্যায় মুজিবনগরে পৌঁছাই। সেখানে দুই দলে বিভক্ত হয়ে আম বাগান,
মানচিত্র ও সৌধ দেখে বরিশালের দিকে যাত্রা।
ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার সময় সমিতির উপদেষ্টামণ্ডলি ও শিক্ষার্থীদেরকে যেমনটা দেখাচ্ছিল তার উল্টোটা ঘটে ঠিক ফিরে আসার সময়। সবার চোখে-মুখে কেমন যেন একরাশ বিরক্তি/বিষন্নতা ও মনমরা ভাব! চলে আসতে চাইলেও কি মন এই মজার মজার জায়গা থেকে ফিরে আসতে চায়? মোটেই না। তাইতো সবার মন খারাপ করার কারণ।
লেকচারার পারমিতা মজুমদার স্বর্ণা ও আমন্ত্রিত অতিথি নাছরিন সুলতানা পাপড়ি বললেন, ভ্রমণের এই কয়েক ঘণ্টায় আমাদের কাছে মনে হয়েছিল জীবনের সর্বোত্তম সুখ যেন এখানেই নিহিত ছিল।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের এতটা বছরে যতটা আনন্দ করেছি, তার থেকেও বেশি আনন্দ করেছি এই কয়েক ঘণ্টায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জীবন মানেই অন্যরকম এক জীবন। ক্যাম্পাসের একেকটি শিক্ষা সফর যেন একেকটি আনন্দময় ইতিহাস। যার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্বটা সাময়িকের জন্য কমে আসে। যা সত্যি আনন্দদায়ক।

লেখক: জনসংযোগ কর্মকর্তা, পবিপ্রবি।

 

পবিপ্রবি// ১৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এইচএস