[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর খোলা চিঠি


প্রকাশিত: December 5, 2015 , 9:50 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন


ফি বছর ডিসেম্বর মাস আসে আর যায়। স্বাধীনতার পর এভাবে ৪৪টা ডিসেম্বর বিদায় নিল। এভাবে এক ডিসেম্বরে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন আমার স্বামী লক্ষ্মীপুরের ১৮ নং কুশাখালী ইউনিয়নের ফরাশগঞ্জ গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

কিন্তু বেঁচে থাকতে শুনে যেতে পারেননি তিনি একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। গেজেটে নাম না থাকার কারণে তার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মার্যাদা ছাড়াই মাটি দেয়া হয় তাকে। অথচ বর্তমান সরকারই মুক্তিযোদ্ধাদের সবোর্চ্চ সম্মান ও অধিকার দিয়েছে।

IMG_20141007_140513

মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মার্যাদায় মাটি দেয়ার নিয়ম থাকলেও শেষ অধিকারটুকু থেকেও আমার স্বামী বঞ্চিত হয়েছেন, শুধু একটা স্বীকৃতি না থাকার কারণে।

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাদানে বর্তমান সরকারের অবদান কম নয়। অথচ ৪৫তম ডিসেম্বর সামনে আসলেও আমার স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধার গেজেট তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি।

তালিকায় গেজেটভুক্ত করার জন্য প্রায় বছর তিনেক আগে আমি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন (জিডি নং ২০০৬৫) করি। মাননীয় মন্ত্রী আবেদনটি দেখে গেজেটভুক্ত করার জন্য নিজ হস্তে লিখিত দিলেও এখন পর্যন্ত গেজেটভুক্ত না করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

৭১ এ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার পাশাপাশি যে লোকটি আহত সহযোদ্ধাদের নিঃস্বার্থভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন তিনিই পেলেন না মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। তার মৃত্যুর পর বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলে তাকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রচারিত হলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাকে স্বীকৃতি বা তার পরিবারকে কোনো সহায়তা দেয়নি সরকার বা কোনো সংস্থা।

সাত সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করলেও আমার সন্তানরা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত হয়েছে। তাদের বাবার স্বীকৃতি না থাকার কারণে তারা বঞ্চিত হচ্ছে অনেক সুযোগ সুবিধা আর প্রাপ্য অধিকার থেকে। সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছি বলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিত্য হুমকি দিচ্ছে উচ্ছেদ করার জন্য। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের জটিলতা দেখিয়ে বহুদিন ধরে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে হাইকোট।

আমার মানবেতর জীবনযাপন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে একজন প্রকৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার স্বামীর নাম গেজেটভুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ফাতেমা বেগম
১৮ নং কুশাখালী, ফরাশগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর।

ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে