[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যবিপ্রবিতে সংঘর্ষের নেপথ্যে


প্রকাশিত: December 11, 2015 , 7:15 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,খুলনার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


যবিপ্রবি লাইভ: তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বদিউজ্জামান বাদল ও ছাত্রদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের জের ধরে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাস।

গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এলাকাবাসী ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে অনন্তপক্ষে ২০ জনের মতো আহত হন।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বদিউজ্জামান বাদলের ছোট ভাই শরীফ ক্যাম্পাসে এসে এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করে। পরে সেই ছাত্রী বিষয়টি বন্ধু মহলে জানালে তার এক বন্ধু শরীফের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে।

কিন্তু শরীফ নিজের ভুল স্বীকার না করে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ওই ছাত্রের গায়ে হাত তোলে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। তবে সেই ঘটনার পরে ক্যাম্পাসে বাদলের ভাই শরীফের কোন হদীস না পাওয়ায় ছাত্ররা এক পর্যায়ে শান্ত হয়।

পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে কিছু শিক্ষার্থী শরীফের বড় ভাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বাদলকে বিষয়টি অবহিত করে। সেসময় বাদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

এ সময় বাদলের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছাত্ররা রাগান্বিত হয়ে বাদল ও তার সহপাঠী সাহেব আলীকে মারধর শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর আশরাফুজ্জামান জাহিদ ও কয়েকজন শিক্ষক এসে তাদের উদ্ধার করেন।

এসময় নিরস্ত্র ছাত্ররা হলের দিকে ফেরত আসতে শুরু করে। তবে বাদল তার আত্বীয়স্বজন ও গ্রামবাসীকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করে।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিয়োজিত গার্ড সদস্যরা গেইট খুলে দিতে রাজি না হলে তাদের উদ্দেশ্যে ইটের টুকরা নিক্ষেপ করে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেমপ্লেটসহ গার্ড রুমের জানালার কাঁচ ভাংচুর করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

এ সময় এক গার্ড সদস্য গুরুত্বর আহত হন। তবে উত্তেজিত ছাত্রদের তোপের মুখে না টিকতে পেরে বহিরাগতরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে বাহিরে থেকে ইটের টুকরা নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় প্রধান ফটকের সামনের এক দোকানদার ছাত্রদের লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে।

যার ফলে উত্তেজিত ছাত্ররা ওই দোকানে ভাঙচুর চালায় ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে ছাত্ররা আরও রাগান্বিত হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সন্নিকটে রাখা বাদলের মোটরসাইকেল ভাংচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এর মধ্যেই শিক্ষকদের সহয়তায় বাদলকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় ।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতাধিক পুলিশ ও র্যাাব সদস্যরাকে নিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণের জন্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় । পরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা তাদের দখলে নিয়ে গ্রামবাসীকে তাড়িয়ে দেয়।

গ্রামবাসীর সাথে টানা তিন ঘণ্টার সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জুরুরী ভিক্তিতে ক্যাম্পাসে এসে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা প্রদান করে।

রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষে হলে ফিরে আসে। তবে আশেপাশের এলাকায় যেসব শিক্ষার্থী মেসে থাকে তাদের যেন কোনরকম ক্ষতি হয় সেজন্যে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের হলে আনা হয়। পুরো থমথমে হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ ।

আজ শুক্রবার সকালে প্রায় দেড় হাজারের মতো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে লাঠিসেটা নিয়ে বাদলের বহিষ্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে শো-ডাউন দিয়েছে। পরে প্রশাসনিক ভবনে তারা মিলিত হন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, যতদিন কর্মচারী বাদলকে ভিসি বহিষ্কার করবে না, ততদিন আমাদের এ আন্দোলন চলবে। ক্যাম্পাসে কোন ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না । ক্যাম্পাসে সবাই তাদের ন্যায্য সম্মান পাই কিন্তু শুধুমাত্র আমরা ছাত্ররা সব সময় নির্যাতিত হয়ে আসছি। এভাবে আর চলতে দেয়া যাবে না।

আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করে হলে ফিরব। এসময় শিক্ষার্থীরা জোর কন্ঠে বলতে থাকেন, কর্মচারী বাদলের চামড়া  তুলে নেব আমরা ,এক দফা এক দাবি ক্যাম্পাস ছেড়ে বাদল তুই কবে যাবি। পাশাপাশি আজ বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে তারা আবার শো-ডাউন দেবে ও শনিবার ভিসির কাছে তাদের এ দাবি উপস্থাপন করবে বলেও জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা ।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে রয়েছে। লোকজনের উপস্থিতি নেই , ছাত্ররা ভয়ে বাহিরে বের হতে পারছে না।

কিছু কিছু শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতেও লক্ষ্য করা গেছে । ইতিমধ্যে  পিছিয়ে গেছে অনেক বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা । সামনে ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এভাবে আন্দোলন চললে আদৌও কি ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সর্বোপরি বলতে গেলে ক্যাম্পাসে এক ঘোলাটে পরিবেশ বিরাজ করছে ।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আন্দোলনরত ও আহত শিক্ষার্থী  রাশিদুজ্জামান রাজন বলেন, ‘বাদল নামের এই কীটের কারনে ২০১৩ সালে একটি মারামারি সংঘটিত হয়ে ক্যাম্পাস এক মাসেরও অধিক সময় বন্ধ ছিল । এই বদমায়েশ বাদল আমার অনেক শিক্ষকের গলা কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ,সম্প্রতি কিছুদিন আগে ক্যাফেটেরিয়াতে ছাত্রদের মারধর করেছে , ছাত্রদের গলা কেটে নেওয়ার মতো হুমকি দিয়েছে , সে একাধিক মামলার আসামী ও অনেক অপরাধের সঙ্গে জড়িত । ছাত্ররা তার নাম শুনলে ঘৃণা প্রকাশ করে ও নামের বিকৃতি করে “গু-বাদল নামে ডেকে থাকে’।

এদিকে কর্মচারী বাদল এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলেও একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে ।

যশোর কোতয়ালী থানার ওসি শিকদার আককাছ আলী জানান, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কিছু লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।’

 যবিপ্রবি// এসকে, ১১ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর